Bardhaman Food Raid: ২০ কেজি পচা পনির বাজেয়াপ্ত, সিল মিষ্টির কারখানা

পচা মাংসের পর এবার খাদ্য দপ্তরের অভিযানে উদ্ধার হল কালো হয়ে যাওয়া পচা পনির। শুধু পনিরই নয়, মিষ্টির দোকানে মিলেছে মেয়াদ উত্তীর্ণ খাবার ও আইসক্রিম। মিষ্টান্ন তৈরিতে ব্যবহৃত ঘিয়ের গুণগত মান নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। প্রয়োজনীয় অনুমতি না থাকায় একটি মিষ্টি তৈরির কারখানাও সিল করে দিয়েছে খাদ্য সুরক্ষা দপ্তর।
বুধবার বর্ধমান শহরের একাধিক নামী মিষ্টির দোকান, গোডাউন ও কারখানায় অভিযান চালিয়ে এমনই চাঞ্চল্যকর ছবি সামনে এসেছে। সব মিলিয়ে প্রায় ২০ কেজি পচা পনির বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি মেয়াদ উত্তীর্ণ আইসক্রিম নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে এবং ঘিয়ের নমুনা পরীক্ষার জন্য ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হচ্ছে।
বর্ধমানে নামী মিষ্টির দোকানে হানা
মঙ্গলবার থেকেই গোটা জেলাজুড়ে খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের অভিযান শুরু হয়েছে। প্রথম দিন শক্তিগড়ের ল্যাংচা হাব হিসেবে পরিচিত আমড়া এলাকায় ১৯ নম্বর জাতীয় সড়কের ধারে বিভিন্ন দোকান, ধাবা ও রেস্তরাঁয় অভিযান চালানো হয়।
সেখানে ম্যানুফ্যাকচারিং ডেট উল্লেখ না থাকা খাবার তৈরির উপকরণের বেশ কয়েকটি প্যাকেট উদ্ধার করে নষ্ট করে দেন আধিকারিকরা।
এর পর বুধবার সকাল থেকে বর্ধমান শহরের বিভিন্ন নামী মিষ্টান্ন প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালানো হয়। খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের আধিকারিকদের সঙ্গে ছিলেন পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মীরাও।
ফ্রিজে কালো পনির, জমেছিল ফাঙ্গাস
সীতাভোগ-মিহিদানার জন্য পরিচিত একটি মিষ্টির দোকানে অভিযান চালিয়ে চমকে ওঠেন খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের আধিকারিকরা। দোকানের ফ্রিজে রাখা পনির কালো হয়ে গিয়েছিল এবং তার উপর জমেছিল ফাঙ্গাস।
শুধু একটি দোকানেই নয়, আরও একটি নামী মিষ্টির দোকান থেকেও পচে যাওয়া পনির উদ্ধার হয়। সব মিলিয়ে প্রায় ২০ কেজি পনির বাজেয়াপ্ত করেন আধিকারিকরা।
মেয়াদ উত্তীর্ণ আইসক্রিমও উদ্ধার
অভিযানের সময় দোকানগুলিতে প্রচুর পরিমাণে মেয়াদ উত্তীর্ণ আইসক্রিমও পাওয়া যায়। সেগুলি নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের আধিকারিকরা দোকানগুলিতে মজুত থাকা অন্যান্য খাদ্যসামগ্রী ও উপকরণও খতিয়ে দেখেন। খাদ্য তৈরির ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি এবং উপকরণের গুণগত মান বজায় রাখা হচ্ছে কি না, সেদিকেও নজর দেওয়া হয়।
ঘিয়ের মান নিয়েও সন্দেহ
মিষ্টান্ন তৈরিতে ব্যবহৃত ঘিয়ের গুণগত মান নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেছে খাদ্য সুরক্ষা দপ্তর। সংশ্লিষ্ট ঘিয়ের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। পরীক্ষার জন্য সেগুলি ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হবে।
ল্যাবরেটরি পরীক্ষার রিপোর্ট হাতে আসার পর ঘিয়ের গুণমান নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
অনুমতি না থাকায় সিল কারখানা
শুধু দোকানেই অভিযান সীমাবদ্ধ রাখেননি আধিকারিকরা। বিভিন্ন মিষ্টির দোকানের পাশাপাশি গোডাউন ও মিষ্টান্ন তৈরির কারখানাতেও তল্লাশি চালানো হয়।
একটি মিষ্টান্ন তৈরির কারখানায় প্রয়োজনীয় অনুমতি না থাকায় সেটি সিল করে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
‘নজরদারির অভাবে পনির পড়ে ছিল’
অভিযানের পর নিজেদের গাফিলতির কথা স্বীকার করেছেন একটি দোকানের কর্ণধার দিলীপ ভগৎ। তাঁর কথায়, কালো হয়ে যাওয়া পনির নজরদারির অভাবে দোকানে থেকে গিয়েছিল।
তিনি জানান, অন্যান্য খাদ্য উপকরণে তেমন কোনও গাফিলতি আধিকারিকরা পাননি। ভবিষ্যতে আরও সতর্ক থাকার আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি।
পচা মাংসের পর এবার পচা পনির
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়া খাদ্য দপ্তরের এই অভিযানে রাজ্যের একাধিক রেস্তরাঁ থেকে পচা মাংস বাজেয়াপ্ত করার ঘটনা সামনে এসেছে। এবার বর্ধমানে পচা পনির উদ্ধারের ঘটনায় ফের প্রশ্ন উঠেছে খাদ্যসামগ্রীর গুণমান ও সংরক্ষণ ব্যবস্থা নিয়ে।
খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের এই অভিযান আগামী দিনেও চলবে কি না, তা নিয়ে নজর রয়েছে। তবে একের পর এক খাবারের মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় সাধারণ মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে।






