Hanuman Ansh Box Office: ২ কোটি বাজেটের ছবির আয় ৪৬ কোটি, টক্সিককেও টেক্কা

বড় কোনও সেলেবমুখ নেই, প্রচারে নেই চোখধাঁধানো আয়োজন, বাজেটও মাত্র ২ কোটি টাকা। অথচ বক্স অফিসে এমন ঝড় তুলেছে আধ্যাত্মিক ছবি ‘হনুমান অংশ’, যে দৈনিক আয়ের নিরিখে পিছনে পড়ে গিয়েছে বড় বাজেটের সিনেমা ‘টক্সিক’ও!
২০২৬ সালে একের পর এক বিগ বাজেট সিনেমার ভিড়ে এমন সাফল্য কার্যত চমকে দিয়েছে সিনেদুনিয়াকে। মুক্তির কয়েক দিনের মধ্যেই ছবিটি আয় করেছে প্রায় ৪৬ কোটি টাকা বলে দাবি করা হচ্ছে। অর্থাৎ প্রাথমিক বাজেটের ২০ গুণেরও বেশি ব্যবসা। ভক্তদের একাংশের বিশ্বাস, এই সাফল্যের নেপথ্যে রয়েছে আধ্যাত্মিক গুরু নিম করোলি বাবার মাহাত্ম্য।
২ কোটি থেকে ৪৬ কোটি—বক্স অফিসে ‘হনুমান অংশ’-এর ম্যাজিক
বিগ বাজেট সিনেমাগুলির যেখানে বিনিয়োগের টাকা তুলতেই লড়াই করতে হচ্ছে, সেখানে মাত্র ২ কোটি টাকার ছবির এমন ব্যবসা স্বাভাবিকভাবেই নজর কেড়েছে।
‘ধুরন্ধর ২’ কিংবা ‘টক্সিক’-এর মতো বড় বাজেটের ছবির তুলনায় ‘হনুমান অংশ’-এর লগ্নি ছিল সামান্য। কিন্তু বিনিয়োগের তুলনায় আয়ের হিসাব করলে ছবিটি কার্যত নজির গড়েছে।
মঙ্গলবার মুক্তির ২৬তম দিনে দৈনিক আয়ের নিরিখে ‘হনুমান অংশ’ টপকে গিয়েছে বিগ বাজেট সিনেমা ‘টক্সিক’-কেও।
কঙ্গনা রানাউতের প্রশংসা
ছবিটির প্রশংসা করেছেন অভিনেত্রী তথা সাংসদ কঙ্গনা রানাউত। ভারতীয় দর্শকদের জন্য ‘হনুমান অংশ’-কে তিনি ‘মাস্ট ওয়াচ’ বলেও উল্লেখ করেছেন।
কঙ্গনার বক্তব্য অনুযায়ী, ছবিটি যেন এক ধরনের সৎসঙ্গ। নিম করোলি বাবার জীবন ও দর্শনকে কেন্দ্র করে তৈরি এই ছবিকে থেরাপির বিকল্প হিসেবে দেখার কথাও নিজের মন্তব্যে তুলে ধরেছেন তিনি।
নিম করোলি বাবার জীবনকাহিনি
‘হনুমান অংশ’ মূলত আধ্যাত্মিক গুরু নিম করোলি বাবার জীবনদর্শনকে কেন্দ্র করে তৈরি। ছবিতে উঠে এসেছে লক্ষ্মণ দাসের জীবনকাহিনি—কীভাবে তাঁর আধ্যাত্মিক যাত্রা ধীরে ধীরে তাঁকে নিম করোলি বাবা হিসেবে পরিচিত করে তোলে।
পরিচালক বিশাল চতুর্দশী সেই জীবন ও আধ্যাত্মিক সফরের কাহিনিই পর্দায় তুলে ধরেছেন।
ছবিতে নিম করোলি বাবার চরিত্রে অভিনয় করেছেন শোবিনও সত্য। এই চরিত্রই কার্যত তাঁকে রাতারাতি দর্শকের নজরে এনে দিয়েছে।
কীভাবে নিম করোলি বাবার চরিত্র পেলেন শোবিনও?
শোবিনওর ছবিতে অভিনয়ের গল্পটিও কম চমকপ্রদ নয়।
জানা গিয়েছে, নিম করোলি বাবার চরিত্রের জন্য প্রথমে অন্য এক অভিনেতাকে নির্বাচন করা হয়েছিল। কিন্তু শুটিং চলাকালীন আচমকাই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। ফলে পরিচালকের সামনে তৈরি হয় বড় সমস্যা।
এই পরিস্থিতিতে এমন একজন অভিনেতার প্রয়োজন ছিল, যিনি অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং চরিত্রটি বিশ্বাসযোগ্যভাবে ফুটিয়ে তুলতে পারবেন। তখন শোবিনওকে অডিশনের জন্য ডাকা হয়।
আর সেই অডিশনও ছিল দীর্ঘ। প্রায় ৫ ঘণ্টা ধরে অডিশন দেওয়ার পর শেষ পর্যন্ত এই গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রের জন্য নির্বাচিত হন তিনি।
তারপর থেকেই যেন বদলে যায় তাঁর ভাগ্যের চাকা।
সহকারী পরিচালক থেকে রাতারাতি পরিচিত মুখ
লখনউয়ের বাসিন্দা শোবিনও এর আগে সহকারী পরিচালক হিসেবেও কাজ করেছেন। তিনি একটি ফিল্ম ইনস্টিটিউটের প্রাক্তন ছাত্র বলেও জানা গিয়েছে।
তাঁর কাজের তালিকায় রয়েছে ‘সিআইডি’, ‘রাগিনি এমএমএস রিটার্নস’, ‘হ্যাপিলি এভার আফটার’ এবং ‘মহাপৌর’-এর মতো প্রজেক্ট।
তবে ‘হনুমান অংশ’-এ নিম করোলি বাবার চরিত্রে অভিনয়ই তাঁকে ব্যাপক পরিচিতি এনে দিয়েছে। বিশেষ করে ছবির অপ্রত্যাশিত বক্স অফিস সাফল্যের পর তাঁর নাম নিয়ে চর্চা আরও বেড়েছে।
‘ধুরন্ধর ২’-এর সঙ্গে তুলনায় কোথায় এগিয়ে ‘হনুমান অংশ’?
২০২৬ সালের অন্যতম আলোচিত বক্স অফিস সাফল্য ‘ধুরন্ধর ২’। ছবিটির বাজেট ছিল প্রায় ১২৫ কোটি টাকা। মোট ব্যবসার বিচারে বড় ছবি হলেও বিনিয়োগের তুলনায় লাভের হারে ‘হনুমান অংশ’-এর সঙ্গে তুলনা করলে ব্যবধান স্পষ্ট।
মাত্র ২ কোটি টাকার বাজেটে তৈরি ‘হনুমান অংশ’ যদি প্রায় ৪৬ কোটি টাকার ব্যবসা করে থাকে, তাহলে রিটার্ন অন ইনভেস্টমেন্টের নিরিখে ছবিটির সাফল্য নিঃসন্দেহে ব্যতিক্রমী।
ছবির এই সাফল্যে উচ্ছ্বসিত শোবিনও সত্য, চন্দন আনন্দ এবং পূর্ণিমা তিওয়ারি-সহ গোটা টিম।
‘বাবার মাহাত্ম্য’, বলছেন দর্শক
বক্স অফিসে ছবির এমন সাফল্যের পিছনে অনেক দর্শক ও ভক্তই নিম করোলি বাবার আশীর্বাদ ও মাহাত্ম্য দেখছেন।
তারকা-নির্ভরতা ছাড়াই মাত্র ২ কোটি টাকার বাজেটের একটি আধ্যাত্মিক ছবি যেভাবে কয়েক গুণ বেশি ব্যবসা করেছে, তা নিঃসন্দেহে ২০২৬ সালের বক্স অফিসের অন্যতম চর্চিত ঘটনা।
‘হনুমান অংশ’ তাই শুধু একটি সিনেমার সাফল্যের গল্প নয়, বরং কম বাজেট, আধ্যাত্মিক বিষয়বস্তু এবং দর্শকের আবেগ—এই তিনের অপ্রত্যাশিত সমীকরণেরও উদাহরণ হয়ে উঠেছে।






