Siliguri Tower Rescue: ৩০০ ফুট টাওয়ারে যুবক, নামতে চাইলেন পোস্ত-কুমড়ো ও হেলিকপ্টারের শর্তে

৩ দিনের নয়, কয়েক ঘণ্টার টানটান উত্তেজনা! প্রায় ৩০০ ফুট উঁচু মোবাইল টাওয়ারের মাথায় উঠে পা দোলাতে দোলাতে শহর দেখছিলেন এক যুবক। প্রথমে স্থানীয়দের ধারণা হয়েছিল, হয়তো কোনও শ্রমিক কাজের জন্য টাওয়ারে উঠেছেন। কিন্তু দীর্ঘক্ষণ পরেও তাঁকে নীচে নামতে না দেখে সন্দেহ হয়। খবর দেওয়া হয় পুলিশকে।
এরপর শুরু হয় যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধার অভিযান। দমকল, বনদপ্তর ও বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছন। ওড়ানো হয় ড্রোন। কিন্তু এত কিছুর পরেও টাওয়ার থেকে নামতে রাজি ছিলেন না যুবক। শেষ পর্যন্ত তাঁর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নীচে নামার জন্য তিনি দুটি শর্ত দিয়েছেন—পোস্ত দিয়ে মিষ্টি কুমড়ো ভাজা খেতে হবে এবং হেলিকপ্টারে চড়তে হবে!
দুই শর্ত মেনে নেওয়ার পর কয়েক ঘণ্টার চেষ্টায় তাঁকে নিরাপদে টাওয়ার থেকে নামিয়ে আনা হয়। বুধবার এমনই অদ্ভুত ও চাঞ্চল্যকর ঘটনার সাক্ষী থাকল শিলিগুড়ির কাঞ্চনজঙ্ঘা স্টেডিয়াম চত্বর।
৩০০ ফুট উঁচু BSNL টাওয়ারে বাদশা
ওই যুবকের নাম বাদশা। বুধবার কমলা রঙের জামা পরে কাঞ্চনজঙ্ঘা স্টেডিয়াম চত্বরে থাকা একটি BSNL টাওয়ারে উঠে পড়েন তিনি।
দুপুর নাগাদ স্থানীয়রা প্রথম তাঁকে টাওয়ারের উপরে দেখতে পান। প্রথমে বিষয়টি নিয়ে বিশেষ সন্দেহ হয়নি। কিন্তু দীর্ঘ সময় কেটে গেলেও যুবক নীচে না নামায় স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন।
ঘটনাস্থলে দমকল, বনদপ্তর ও বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় পুলিশ। বাদশাকে নিরাপদে নীচে নামাতে শুরু হয় উদ্ধার অভিযান।
দমকল, বনদপ্তর এবং বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন। টাওয়ারের উপরে তাঁর অবস্থান এবং পরিস্থিতি বোঝার জন্য ওড়ানো হয় ড্রোন।
কিন্তু একাধিকবার বোঝানোর পরেও টাওয়ার থেকে নামতে রাজি হননি বাদশা।
শেষ পর্যন্ত উদ্ধার অভিযানে পর্বতারোহী দল
পরিস্থিতি জটিল হওয়ায় শেষ পর্যন্ত উদ্ধার অভিযানে নামানো হয় অভিজ্ঞ পর্বতারোহী নিহাল সরকার ও তাঁর দলকে।
নিহালের তৎপরতায় শেষ পর্যন্ত বাদশা কথা বলতে রাজি হন। তাঁর সঙ্গে কথাবার্তা বলার পর জানা যায়, যুবকটির মানসিক সমস্যা রয়েছে বলে উদ্ধারকারীদের ধারণা।
তখনই সামনে আসে তাঁর অদ্ভুত দুই শর্ত।
‘পোস্ত দিয়ে কুমড়ো ভাজা চাই, হেলিকপ্টারে চড়ব’
বাদশার দাবি ছিল, টাওয়ার থেকে নামতে হলে তাঁকে পোস্ত দিয়ে মিষ্টি কুমড়ো ভাজা খেতে দিতে হবে। শুধু খাবার নয়, তাঁর আরও একটি ইচ্ছা ছিল—হেলিকপ্টারে চড়া।
উদ্ধারকারীরা তাঁর দুই শর্তই ‘মেনে’ নেওয়ার আশ্বাস দেন। এরপর ধীরে ধীরে তাঁকে নীচে নামানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়।
নিরাপত্তার জন্য স্ট্রেচারে শক্ত করে বেঁধে তাঁকে টাওয়ার থেকে নামিয়ে আনা হয়।
৮-১০ ঘণ্টা টাওয়ারের উপরে!
উদ্ধারকারী দলের সদস্যদের মধ্যে নিহাল সরকার ছাড়াও ছিলেন কৃষ্ণ বর্মন, অমিত ঘোষ, সুজন সিংহ এবং অজয় বর্মন।
সূত্রের খবর, প্রায় ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা টাওয়ারের উপরে ছিলেন বাদশা। এতক্ষণ এত উচ্চতায় থাকার পর তাঁকে দ্রুত চিকিৎসার জন্য উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
শুরু হয়েছে মানসিক চিকিৎসাও
হাসপাতালে তাঁর শারীরিক অবস্থার উপর নজর রাখছেন চিকিৎসকরা। পাশাপাশি তাঁর মানসিক চিকিৎসাও শুরু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
তবে বাদশার দুই অদ্ভুত শর্তের মধ্যে প্রথমটি পূরণ করা হয়েছিল কি না, তা এখনও জানা যায়নি। অর্থাৎ উদ্ধার হওয়ার পর তাঁর পাতে সত্যিই পোস্ত দিয়ে কুমড়ো ভাজা পড়েছিল কি না, সেই রহস্য অবশ্য এখনও কাটেনি!






