নেপালে হড়পা বানে ৯ দিন চাপা থাকার পর জীবিত উদ্ধার ২ কর্মী

কথায় বলে, রাখে হরি মারে কে! সেই প্রবাদই যেন সত্যি হল নেপালের ত্রিশূলি হাইড্রোপাওয়ার প্রজেক্টের দুই কর্মীর জীবনে। ভয়াবহ হড়পা বানে নেপালের বিস্তীর্ণ এলাকা কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। তারই মধ্যে ৯ দিন কাদামাটি ও ধ্বংসাবশেষের নীচে চাপা পড়ে থাকার পরও আশ্চর্যজনকভাবে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার হলেন দুই কর্মী। শুক্রবার তাঁদের উদ্ধার করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে আশা ছেড়ে দেওয়া পরিবারগুলিতে ফিরে এসেছে স্বস্তি ও আনন্দ।
নেপালের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুদান গুরুং জানিয়েছেন, শুক্রবার উদ্ধার করা হয়েছে কবীর মহাজন এবং সঞ্জয় শাহকে। দু’জনেই ত্রিশূলি ৩এ হাইড্রোপাওয়ার প্রজেক্টে কর্মরত ছিলেন। গত ২৬ আগস্ট ভয়ংকর হড়পা বানের সময় তাঁরা কর্মস্থলে ছিলেন। আচমকাই কাদামাটি ও ধ্বংসাবশেষের স্তূপে চাপা পড়ে যান তাঁরা। এরপর টানা ৯ দিন তাঁদের কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি।
এই পরিস্থিতিতে দু’জনের বেঁচে থাকার আশা কার্যত ছেড়ে দিয়েছিলেন পরিবারের সদস্য এবং সহকর্মীরা। কিন্তু শুক্রবার ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে দেহ উদ্ধারের জন্য পৌঁছয় উদ্ধারকারী দল। সেখানেই ঘটে অবিশ্বাস্য ঘটনা। জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় দু’জনকেই।
৪৫ বছর বয়সি কবীর মহাজন ত্রিশূলি হাইড্রোপাওয়ার প্রজেক্টে সুপারভাইজার হিসেবে কাজ করছিলেন। উদ্ধার করার সময়ও জ্ঞান ছিল তাঁর। এরপর তাঁকে দ্রুত কাঠমাণ্ডুর সেনা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে সেখানেই তাঁর চিকিৎসা চলছে।
কবীরের ভাই আমির বলেন, দীর্ঘ উৎকণ্ঠার পর তাঁর মন অনেকটাই ভারমুক্ত হয়েছে। ভাই জীবিত রয়েছেন জানতে পেরে তিনি অত্যন্ত খুশি।
অন্যদিকে, ৩০ বছর বয়সি কর্মী সঞ্জয় শাহকে যখন উদ্ধার করা হয়, তখন তাঁর চেতনা ছিল না। উদ্ধারকারীরা তাঁকে কাঁধে করে ধ্বংসস্তূপ থেকে বের করে আনেন। পরে তাঁকেও কাঠমাণ্ডুর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন সঞ্জয়।
উদ্ধারকারীদের অনুমান, ওই এলাকায় এখনও অন্তত ১৫০ জন মানুষ ধ্বংসস্তূপের নীচে চাপা পড়ে থাকতে পারেন। ৯ দিন পর দু’জনকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করার ঘটনায় ফের আশার আলো দেখছেন উদ্ধারকারীরা। তাঁদের আশা, ধ্বংসস্তূপের নীচে আটকে থাকা আরও কয়েকজনকে হয়তো জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হতে পারে।
তবে নেপালের ভয়াবহ পরিস্থিতি এখনও কাটেনি। ত্রিশূলী ও ভোটকোসি নদীর ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞে এখনও পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছেন ১২৫৯ জন। নিখোঁজ রয়েছেন অন্তত ৫০০০ জন। এখনও পর্যন্ত ৬৫৪১ জনকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর।
এই ভয়াবহ দুর্যোগে কতগুলি বাড়ি, অফিস, সেতু, দোকান ও বাজার সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে ধ্বংস হয়েছে, তার সঠিক হিসাব এখনও পাওয়া যায়নি। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কয়েক লক্ষ কোটি টাকা ছুঁতে পারে।
এখনও পর্যন্ত প্রায় ১২ হাজার মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে নেপালের বহু দুর্গম এলাকায় এখনও পৌঁছতে পারেনি উদ্ধারকারী দল। ফলে ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ যত এগোবে, ততই হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা সামনে আসতে পারে। একই সঙ্গে ৯ দিন পর দুই কর্মীকে জীবিত উদ্ধারের ঘটনায় উদ্ধারকারীদের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে।






