Power Crisis India: তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে কয়লার মজুত কম, ফের বিদ্যুৎ সংকটের আশঙ্কা

চার বছর পর ফের কি দেশজুড়ে তৈরি হতে পারে বড়সড় বিদ্যুৎ সংকট? কয়লার সরবরাহে সমস্যা এবং বিদ্যুতের চাহিদা বৃদ্ধিকে ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দেশের একাধিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে বর্তমানে সরকার নির্ধারিত সীমার তুলনায় কয়লার মজুত অনেকটাই কম।
এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২ সেপ্টেম্বরের হিসাব বলছে, দেশের ৫০টি বৃহৎ তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে নির্ধারিত সীমার মাত্র ৪৮ শতাংশ কয়লা মজুত রয়েছে। এই পরিমাণ কয়লা দিয়ে সর্বোচ্চ প্রায় ৯ দিন বিদ্যুৎ উৎপাদন চালানো সম্ভব বলে ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলিতে কয়লার ঘাটতির পিছনে মূলত দু’টি কারণ রয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। প্রথমত, আগস্টে প্রবল গরমের জেরে দেশে বিদ্যুতের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছিল। সেপ্টেম্বরে উৎসবের মরশুম শুরু হওয়ায় সেই চাহিদা আরও বাড়তে পারে।
দ্বিতীয়ত, বর্ষার মরশুমে কয়লা উত্তোলন এবং পরিবহণে সমস্যা তৈরি হওয়ায় সরবরাহেও প্রভাব পড়েছে। এর জেরে দেশের বড় ৫০টি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে কয়লার মজুত কমে গিয়েছে।
ওই সংবাদমাধ্যমের হিসাব অনুযায়ী, এই ৫০টি কেন্দ্রে বর্তমানে প্রায় ২৮.২ মিলিয়ন টন কয়লা মজুত রয়েছে। অথচ সরকার নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী মজুত থাকার কথা প্রায় ৫৮.৭ মিলিয়ন টন। অর্থাৎ প্রয়োজনীয় মজুতের তুলনায় ঘাটতি যথেষ্ট বেশি।
সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয়, এই মজুত দিয়ে মাত্র ৯ দিন বিদ্যুৎ উৎপাদন চালানো সম্ভব বলে দাবি করা হচ্ছে। দ্রুত কয়লা সরবরাহ বাড়ানো না গেলে আগামী দিনে বিদ্যুৎ উৎপাদনে চাপ তৈরি হতে পারে।
শেষবার ২০২২ সালে দেশে কয়লার ঘাটতির জেরে বিদ্যুৎ সরবরাহে সমস্যা দেখা দিয়েছিল। এবার সেপ্টেম্বরে উৎসবের মরশুমে বিদ্যুতের চাহিদা আরও বেড়ে গেলে একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তবে এখনই দেশজুড়ে বিদ্যুৎ বিপর্যয় হবে, এমন কোনও সরকারি ঘোষণা হয়নি।
ভারতের বিদ্যুৎ উৎপাদনে কয়লার গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রায় ৭০ শতাংশই কয়লাভিত্তিক জ্বালানির উপর নির্ভরশীল। ফলে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলিতে পর্যাপ্ত কয়লার জোগান বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
যদিও কয়লা মন্ত্রক এখনই বড়সড় সংকটের আশঙ্কা মানতে নারাজ। মন্ত্রকের শীর্ষ আধিকারিকদের বক্তব্য, দেশের গুরুত্বপূর্ণ তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলিতে কয়লা সরবরাহের উপর নিয়মিত নজর রাখা হচ্ছে। পরিস্থিতি পর্যালোচনায় আন্তঃমন্ত্রক বিশেষজ্ঞ দলও কাজ করছে।
প্রয়োজনে কয়লা আমদানি বাড়ানোর বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। ফলে পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও সম্ভাব্য ঘাটতি মোকাবিলায় কেন্দ্র আগেভাগেই পদক্ষেপ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।






