Equal Earth Map: ৫০০ বছরের পুরনো বিশ্ব মানচিত্র বদলের পথে রাষ্ট্রসংঘ

প্রায় পাঁচ শতক ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসা প্রচলিত বিশ্ব মানচিত্র এবার বদলের পথে! শনিবার রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব পাশ হয়েছে। সেই প্রস্তাব অনুযায়ী, ভবিষ্যতে বিশ্বকে তুলনামূলকভাবে আরও বাস্তব আয়তনে তুলে ধরতে ‘ইকুয়াল আর্থ’ (Equal Earth) মানচিত্র ব্যবহারের বিষয়টি সামনে এসেছে।
নতুন এই মানচিত্রে আফ্রিকাকে তুলনামূলকভাবে বড় আকারে দেখা যাবে। অন্যদিকে প্রচলিত মানচিত্রের তুলনায় উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপকে ছোট দেখানো হবে। তবে প্রস্তাবটি পাশ হলেও ‘ইকুয়াল আর্থ’ মানচিত্র ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়নি বলেই জানা যাচ্ছে।
প্রস্তাবটি নিয়ে রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদে ভোটাভুটিতে অংশ নেয় ১৬৫টি দেশ। এর মধ্যে একমাত্র আমেরিকাই প্রস্তাবের বিরোধিতা করে ভোট দেয়। বাকি ১৬৪টি দেশ প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেয়। ৬টি দেশ ভোটদানে বিরত ছিল। অর্থাৎ ১৬৪-১ ভোটে প্রস্তাবটি পাশ হয়।
কেন বদলানোর কথা উঠল বিশ্ব মানচিত্র?
বর্তমানে বহুল ব্যবহৃত ‘মার্কেটর মানচিত্র’ তৈরি হয়েছিল ১৫৬৯ সালে। তৈরি করেছিলেন ফ্লেমিশ মানচিত্রকার জেরার্ডাস মার্কেটর। মূলত সমুদ্রপথে নাবিকদের দিকনির্দেশ দিতে সুবিধা হবে, সেই উদ্দেশ্যেই এই মানচিত্র তৈরি করা হয়েছিল।
কিন্তু গোলাকার পৃথিবীকে সমতল কাগজে তুলে ধরার ক্ষেত্রে এই প্রক্ষেপণের কারণে বিভিন্ন মহাদেশ ও ভূখণ্ডের প্রকৃত আয়তনের তুলনায় বিকৃতি তৈরি হয়। বিশেষ করে পৃথিবীর উত্তর ও দক্ষিণ প্রান্তের অঞ্চলগুলিকে বাস্তবের তুলনায় অনেক বড় দেখায় এই মানচিত্র।
এর সবচেয়ে পরিচিত উদাহরণ গ্রিনল্যান্ড ও আফ্রিকা। প্রচলিত মার্কেটর মানচিত্রে অনেক সময় গ্রিনল্যান্ডকে আফ্রিকার কাছাকাছি আকারের বলে মনে হয়। অথচ বাস্তবে আফ্রিকা গ্রিনল্যান্ডের চেয়ে প্রায় ১৪ গুণ বড়।
নতুন ‘ইকুয়াল আর্থ’ মানচিত্রে এই আয়তনগত বৈষম্য কমিয়ে বিভিন্ন মহাদেশের তুলনামূলক প্রকৃত আয়তনকে আরও স্পষ্টভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে। আয়তনের বিচারে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় মহাদেশ এশিয়া। অন্যদিকে সবচেয়ে ছোট মহাদেশ হিসেবে ধরা হয় ওশিয়ানিয়াকে।
কেন প্রস্তাব টোগোর?
রাষ্ট্রসংঘে এই প্রস্তাব পেশ করে আফ্রিকার দেশ টোগো। টোগোর বিদেশমন্ত্রী রবার্ট ডুসির বক্তব্য, মানচিত্র শুধু ভৌগোলিক তথ্য দেখায় না, মানুষের শিক্ষা ও কল্পনাকেও প্রভাবিত করে। তাঁর দাবি, এতদিনের ব্যবহৃত বিশ্ব মানচিত্র পৃথিবী সম্পর্কে একটি ভুল ধারণা তৈরি করে। তাই মানচিত্রের উপস্থাপনায় পরিবর্তন আনা প্রয়োজন।
কেন বিরোধিতা আমেরিকার?
রাষ্ট্রসংঘে প্রস্তাবটির একমাত্র বিরোধিতা করেছে আমেরিকা। ওয়াশিংটনের বক্তব্য, ষোড়শ শতকের মানচিত্র নিয়ে বিতর্কে রাষ্ট্রসংঘের মনোযোগ না দিয়ে বর্তমান বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাগুলির দিকে নজর দেওয়া উচিত।
মার্কিন প্রতিনিধি ইয়ারিনা ফেরেনসেভিচের বক্তব্য, এই মানচিত্র সংক্রান্ত রাষ্ট্রসংঘের ‘আদর্শগত এজেন্ডা’র বিরোধিতা করবে আমেরিকা।
তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, প্রস্তাবটি বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতায় পাশ হলেও বিশ্বের সমস্ত স্কুল, প্রতিষ্ঠান বা সরকারি সংস্থার জন্য ‘ইকুয়াল আর্থ’ মানচিত্র ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়নি। ফলে প্রচলিত মানচিত্রের জায়গা এটি কতটা নিতে পারবে, তা নির্ভর করবে ভবিষ্যতের ব্যবহার ও গ্রহণযোগ্যতার উপর।






