
ইরানের ‘জীবনরেখা’ বলে পরিচিত খার্গ দ্বীপে ফের হামলার খবর। শনিবার পারস্য উপসাগরে অবস্থিত ইরানের গুরুত্বপূর্ণ এই তেলকেন্দ্রে মার্কিন সেনা হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। ইরানি সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, খার্গ দ্বীপে পণ্য খালাসের সময় একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে আছড়ে পড়ে চারটি মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র। একইসঙ্গে দ্বীপের আশপাশে একের পর এক বিস্ফোরণের শব্দও শোনা গিয়েছে বলে খবর।
ইরানের একটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, শনিবার খার্গ দ্বীপে একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কার পণ্য খালাস করছিল। সেই সময় আচমকাই ট্যাঙ্কারটিকে লক্ষ্য করে চারটি মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়।
অন্যদিকে, ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ‘ফার্স নিউজ’-এর দাবি, খার্গ দ্বীপের কাছে জোরালো বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গিয়েছে। তবে ঘটনাস্থল থেকে ধোঁয়া বেরোতে দেখা যায়নি বলে জানিয়েছে তারা। ট্যাঙ্কারটির ঠিক কতটা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
এই হামলার বিষয়ে তেহরানের তরফে এখনও পর্যন্ত কোনও সরকারি বিবৃতি পাওয়া যায়নি। ফলে ট্যাঙ্কারে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাতের দাবি এবং ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত মাত্রা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূল থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে পারস্য উপসাগরের মধ্যে অবস্থিত খার্গ দ্বীপ। আয়তনে ছোট হলেও ইরানের অর্থনীতিতে এই দ্বীপের গুরুত্ব অপরিসীম। কারণ, দেশের অন্যতম প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে খার্গ।
এই দ্বীপ থেকেই প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল রপ্তানি করা হয়। বিভিন্ন প্রতিবেদনে দৈনিক প্রায় ১.৫ মিলিয়ন ব্যারেল তেল রপ্তানির সক্ষমতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। দ্বীপজুড়ে রয়েছে অপরিশোধিত তেলের মজুত ও রপ্তানির পরিকাঠামো।
শুধু তেল রপ্তানিই নয়, খার্গ দ্বীপের কৌশলগত গুরুত্বও রয়েছে। এখানে ইরানের সামরিক পরিকাঠামো রয়েছে বলে জানা যায়। ফলে এই দ্বীপে বড় ধরনের হামলা হলে তা তেহরানের তেল রপ্তানি এবং অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে।
এই কারণেই খার্গ দ্বীপকে ইরানের অর্থনৈতিক ‘জীবনরেখা’ হিসেবে দেখা হয়। দ্বীপের তেল পরিকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হলে আন্তর্জাতিক বাজারে ইরানের তেল সরবরাহ যেমন ব্যাহত হতে পারে, তেমনই তেহরানের উপর তৈরি হতে পারে বড় অর্থনৈতিক চাপ।






