Nepal Flood: হড়পা বানের ১১ দিন পর ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিত বৃদ্ধা উদ্ধার

প্রলয়ের তাণ্ডবে তছনছ হয়ে গিয়েছে গোটা এলাকা। চারদিকে শুধু ধ্বংসস্তূপ, কোথাও প্রাণের চিহ্নমাত্র নেই। ভয়ংকর হড়পা বানে মৃত্যুপুরীতে পরিণত হওয়া সেই নেপালেই এবার ঘটল অবিশ্বাস্য ঘটনা। মহাপ্রলয়ের ১১ দিন পর ধ্বংসস্তূপের ভিতর থেকে জীবিত উদ্ধার করা হল এক বৃদ্ধাকে। পাশাপাশি আপার ত্রিশূলী-১ টানেল থেকেও উদ্ধার করা হয়েছে এক বিদেশি নাগরিককে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ত্রিশূলী নদীর ভয়াবহ বন্যায় আশপাশের অধিকাংশ বাড়ি কার্যত গুঁড়িয়ে যায়। নুয়াকোটের বিদুর পুরসভার অন্তর্গত এক বৃদ্ধার চারতলা বাড়িও রেহাই পায়নি। কাদা ও ধ্বংসস্তূপের নিচে সম্পূর্ণ চাপা পড়ে যায় বাড়িটি।
এতদিন পর ধ্বংসস্তূপের নিচে কারও বেঁচে থাকার সম্ভাবনা কার্যত নেই বলেই মনে করেছিলেন উদ্ধারকারীরা। কিন্তু সেই সময়ই ধ্বংসস্তূপের ভিতর থেকে ক্ষীণ কণ্ঠস্বর শুনতে পান তাঁরা। মুহূর্তের মধ্যে শুরু হয় উদ্ধারকাজ। একের পর এক ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে অবশেষে জীবিত অবস্থায় ওই মহিলাকে উদ্ধার করতে সক্ষম হন উদ্ধারকারীরা।
উদ্ধার হওয়া মহিলার নাম চণ্ডিকা শ্রেষ্ঠা। বয়স আনুমানিক ৬০ বছর। উদ্ধারকারীদের দাবি, অত্যন্ত গুরুতর অবস্থায় তাঁকে ধ্বংসস্তূপ থেকে বের করা হয়। দ্রুত তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানা গিয়েছে।
প্রায় ১১ দিন ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকার পরও চণ্ডিকা শ্রেষ্ঠার জীবিত উদ্ধার হওয়ার ঘটনাকে কার্যত মিরাকেল হিসেবেই দেখছেন স্থানীয়রা। ভয়াবহ বিপর্যয়ে প্রিয়জন হারানো বহু মানুষের মধ্যেও এই ঘটনা নতুন করে আশার আলো দেখিয়েছে।
এর পাশাপাশি আপার ত্রিশূলী-১ টানেল থেকেও এক বিদেশি নাগরিককে উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে নেপাল প্রশাসন। তবে উদ্ধার হওয়া ওই বিদেশি নাগরিকের পরিচয় সম্পর্কে এখনও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
উল্লেখ্য, গত ২৬ আগস্ট হিমবাহ ধসের জেরে ত্রিশূলী নদীতে ভয়ংকর হড়পা বান নামে। মুহূর্তের মধ্যে উত্তর নেপালের বিস্তীর্ণ এলাকা কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। ভয়াবহ এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে এখনও পর্যন্ত ১,৩৪৪ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে দাবি। নিখোঁজ রয়েছেন ৫ হাজারেরও বেশি মানুষ। তাঁদের মধ্যে ৫৮৯ জন বিদেশি নাগরিক বলে জানা গিয়েছে।
সময় যত গড়াচ্ছে, নিখোঁজের সংখ্যা নিয়ে উদ্বেগ ততই বাড়ছে। এর মধ্যেই ১১ দিন পর চণ্ডিকা শ্রেষ্ঠাকে জীবিত উদ্ধারের ঘটনা উদ্ধারকারীদেরও নতুন করে আশাবাদী করেছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও কেউ আটকে রয়েছেন কি না, তা জানতে জোরকদমে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।






