পহেলগাঁও হামলার বদলা! কাশ্মীরে সেনার গুলিতে নিকেশ লস্কর কমান্ডার ইয়াসির, ছিল হামলার অন্যতম চক্রী

পহেলগাঁওয়ের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ক্ষত এখনও তাজা। সেই হামলার ঘটনায় ফের বড় সাফল্য পেল ভারতীয় নিরাপত্তাবাহিনী। জম্মু ও কাশ্মীরে সেনার অভিযানে নিকেশ পাক মদতপুষ্ট জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তইবার কুখ্যাত কমান্ডার ইয়াসির। নিরাপত্তা সূত্রের দাবি, পহেলগাঁও জঙ্গি হামলার অন্যতম চক্রী ছিল এই জঙ্গি।
সম্প্রতি গোপন সূত্রে নিরাপত্তাবাহিনীর কাছে খবর আসে, কাশ্মীরের বুদগাম জেলার ইউসমার্গের জঙ্গলঘেরা পাহাড়ি এলাকায় লুকিয়ে রয়েছে ইয়াসির। খবর পেয়েই এলাকায় তল্লাশি অভিযান শুরু করা হয়।
শনিবার ইউসমার্গের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় যৌথভাবে অভিযানে নামে সেনার স্পেশাল ফোর্সেস এবং ৫৩ রাষ্ট্রীয় রাইফেলস। তল্লাশি চলাকালীন নিরাপত্তাবাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে গুলি চালাতে শুরু করে ইয়াসির। পালটা জবাব দেয় সেনাও।
দীর্ঘক্ষণ দু’পক্ষের মধ্যে গুলির লড়াই চলে। শেষ পর্যন্ত নিরাপত্তাবাহিনীর গুলিতে মৃত্যু হয় লস্কর কমান্ডার ইয়াসিরের। অভিযানের পর ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন সামগ্রী উদ্ধারের পাশাপাশি ইয়াসিরের সঙ্গে যুক্ত জঙ্গি নেটওয়ার্ক সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা শুরু হয়েছে।
সূত্রের খবর, পহেলগাঁও হামলার মূলচক্রী সুলেমান মুসা গোষ্ঠীর সদস্য ছিল ইয়াসির। যদিও প্রায় এক বছর আগে সে ওই গোষ্ঠী থেকে বেরিয়ে আসে বলে দাবি গোয়েন্দা সূত্রের। এরপর পৃথকভাবে জঙ্গি কার্যকলাপ চালিয়ে যাচ্ছিল সে।
দীর্ঘদিন ধরেই ইয়াসির ভারতীয় গোয়েন্দাদের নজরে ছিল বলে সূত্রের দাবি। অবশেষে বুদগামের ইউসমার্গে অভিযানে তাকে নিকেশ করা হল। ইয়াসিরের সঙ্গে কার কার যোগাযোগ ছিল, তার জঙ্গি নেটওয়ার্ক কতদূর বিস্তৃত ছিল এবং হামলার সঙ্গে তার ঠিক কী ভূমিকা ছিল, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
প্রসঙ্গত, গত বছর ‘অপারেশন মহাদেব’-এ জম্মু ও কাশ্মীরে নিরাপত্তাবাহিনীর অভিযানে তিন জঙ্গি নিহত হয়েছিল বলে জানা যায়। নিহতদের মধ্যে পহেলগাঁও হামলার মাস্টারমাইন্ড হিসেবে চিহ্নিত সুলেমান মুসা এবং তার দুই সঙ্গী ছিল।






