Guwahati Murder: স্ত্রীকে খুন করে মাথা ফ্রিজে রাখার অভিযোগ, শ্রদ্ধা কাণ্ডের ছায়া

ফিরল শ্রদ্ধা ওয়াকারের খুনের বীভৎস স্মৃতি। দিল্লির সেই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর ফের একই ধরনের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়াল গুয়াহাটিতে। স্ত্রীকে খুন করে তাঁর মাথা ফ্রিজে লুকিয়ে রাখার অভিযোগ উঠেছে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ঘটনায় এখনও পর্যন্ত অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। তবে পুলিশ জোরকদমে তদন্ত শুরু করেছে বলে জানা গিয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ২৫ বছর বয়সি রিয়া তালুকদারের সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল রামানুজন গোস্বামীর। তাঁরা গুয়াহাটির হাতিগাঁও এলাকায় থাকতেন। প্রতিবেশীদের দাবি, গত সোমবার রাতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বচসা শুরু হয়। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে সেই বচসা তীব্র আকার নেয়। এরপর রাত আটটা নাগাদ রামানুজন বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান বলে দাবি স্থানীয়দের।
মঙ্গলবার রাতে ওই বাড়ি থেকে পচা গন্ধ বের হতে শুরু করে। বিষয়টি নজরে আসতেই পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ঘরের ভিতর থেকে রিয়ার দেহ উদ্ধার করে। অভিযোগ, তাঁর মাথা কালো প্লাস্টিকের ব্যাগে ভরে ফ্রিজের ভিতর রাখা হয়েছিল। এছাড়াও তাঁর হাতের আঙুল কাটা অবস্থায় পাওয়া যায় বলে জানা গিয়েছে।
ঘটনার পর থেকেই সন্দেহের তির রামানুজন গোস্বামীর দিকে। প্রাথমিক তদন্তে তিনিই পুলিশের একমাত্র সন্দেহভাজন বলে জানা গিয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত তাঁকে আটক বা গ্রেপ্তার করা যায়নি। অভিযুক্তের সন্ধানে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা গেলে ঘটনার নেপথ্যে ঠিক কী ঘটেছিল, তা স্পষ্ট হতে পারে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।
জানা গিয়েছে, রিয়া ফ্যান্সি বাজারের একটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত মার্কেটে কাজ করতেন। তাঁর মা-বাবা কেউই জীবিত নেই। আত্মীয় বলতে একমাত্র ভাই রয়েছেন। তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার ও এলাকায় শোকের পাশাপাশি তৈরি হয়েছে তীব্র আতঙ্ক।
পুলিশ রিয়ার দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলে মৃত্যুর সঠিক কারণ এবং হত্যার ধরন সম্পর্কে আরও তথ্য সামনে আসতে পারে। পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে রামানুজনের কোনও যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এই ঘটনার সঙ্গে স্বাভাবিকভাবেই মনে পড়ছে দিল্লির শ্রদ্ধা ওয়াকার হত্যাকাণ্ডের কথা। ২০২২ সালের ১৮ মে দিল্লির মেহেরৌলিতে প্রেমিকা তথা লিভ-ইন সঙ্গী শ্রদ্ধাকে খুন করার অভিযোগ উঠেছিল আফতাব আমিন পুনাওয়ালার বিরুদ্ধে। অভিযোগ ছিল, হত্যার পর শ্রদ্ধার দেহ ৩৫টি টুকরো করে সে। এরপর দেহাংশ দিল্লির বিভিন্ন জায়গায় ফেলে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে।
আফতাবের সঙ্গে সম্পর্কের কারণে পরিবার, চাকরি এবং নিজের শহর ছেড়ে দিল্লিতে চলে এসেছিলেন শ্রদ্ধা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই সম্পর্কের পরিণতি হয় ভয়াবহ। আরও চাঞ্চল্যকর বিষয় হল, আফতাবের বিরুদ্ধে আগেই অভিযোগ করেছিলেন শ্রদ্ধা। ২০২০ সালে একটি দীর্ঘ চিঠিতে তাঁর বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে অভিযোগ জানিয়েছিলেন তিনি।
তবে পরবর্তী সময়ে শ্রদ্ধা ফের আফতাবের সঙ্গে সম্পর্কে থেকে যান। ২০২২ সালের হত্যাকাণ্ডের পর সেই পুরনো অভিযোগও নতুন করে আলোচনায় আসে। এবার গুয়াহাটিতে স্ত্রীকে খুন করে দেহের অংশ লুকিয়ে রাখার অভিযোগ সামনে আসায় ফের সেই ঘটনার স্মৃতি উসকে উঠেছে।
গুয়াহাটির ঘটনায় এখনও তদন্ত চলছে। রামানুজন গোস্বামীকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব না হওয়ায় তাঁর সন্ধানে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনার প্রকৃত কারণ ও হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে কী ছিল, তা নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।






