Delhi Building Collapse: সত্য নিকেতনে বাড়ি ধসে ৭ মৃত, বেসমেন্টে নির্মাণকাজ নিয়ে প্রশ্ন

দিল্লির সত্য নিকেতনে মর্মান্তিক ভবন ধসের ঘটনায় আরও বাড়ল মৃতের সংখ্যা। ছ’তলা ওই ভবন ভেঙে পড়ার ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। গুরুতর আহত ২ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। এখনও পর্যন্ত ১১ জনকে ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও, আরও অনেকে আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে উচ্চ পর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, দুর্ঘটনার আগে ওই বাড়ির বেসমেন্টে নির্মাণকাজ চলছিল। শুক্রবার থেকে টানা বৃষ্টির জেরে বেসমেন্টে জল জমে ছিল। সেই পরিস্থিতির মধ্যেই নির্মাণকাজ চলায় বহুতলের ভিত দুর্বল হয়ে থাকতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তার জেরেই ছ’তলা ভবনটি হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে বলে প্রাথমিকভাবে অনুমান তদন্তকারীদের।
দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাউথ ক্যাম্পাসের কাছে এই এলাকায় একাধিক বাড়ি মেস বা পেইং গেস্ট হিসেবে ব্যবহৃত হয়। বেশিরভাগ বাড়িরই নিচে রয়েছে বেসমেন্ট। দুর্ঘটনাগ্রস্ত ভবনটিতেও বহু পড়ুয়া পেইং গেস্ট হিসেবে থাকতেন বলে স্থানীয়দের দাবি।
এদিকে বাড়িটি নির্মাণের ক্ষেত্রেও নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। পুরসভার দাবি, রেসিডেন্সিয়াল বিল্ডিংয়ের সর্বোচ্চ উচ্চতা ১৭.৫ মিটার হতে পারে। কিন্তু দুর্ঘটনাগ্রস্ত বাড়িটির উচ্চতা সেই সীমার চেয়ে অনেক বেশি ছিল বলে দাবি করা হচ্ছে। ফলে নির্মাণের অনুমোদন ও বিল্ডিংয়ের কাঠামোগত নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
রবিবার দুপুর দেড়টা নাগাদ ভারী বৃষ্টির মধ্যে দিল্লির চাণক্যপুরীর কাছে মোতিবাগ এলাকার ওই বাড়িটি তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দমকলের আটটি ইঞ্জিন। পরে উদ্ধারকাজে আরও কয়েকটি ইঞ্জিন পাঠানো হয়। ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আটকে থাকা ব্যক্তিদের উদ্ধারের কাজ শুরু হয়।
স্থানীয়দের দাবি, বাড়িটিতে বহু পড়ুয়া থাকতেন। রবিবার ছুটির দিন হওয়ায় অনেকেই বাড়িতে ছিলেন। এক প্রত্যক্ষদর্শীর দাবি, ওই ভবনে অন্তত ৫০ জন পড়ুয়া থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। পাশের একটি বাড়ির এক পেইং গেস্ট পড়ুয়া জানান, দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে তিনি ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে বেশ কয়েকজনের আর্তনাদের আওয়াজ শুনতে পেয়েছিলেন।
দুর্ঘটনার পর থেকেই বাড়ির মালিকের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানা গিয়েছে। তাঁর সন্ধানে একাধিক তদন্তকারী দল গঠন করে তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ। অভিযুক্তের বাড়ি গুরুগ্রামে বলে জানা গিয়েছে।
ঘটনার পর শোকপ্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলেন, দিল্লির সত্য নিকেতনে ভবন ধসের ঘটনা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। যাঁরা তাঁদের প্রিয়জনকে হারিয়েছেন, তাঁদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান তিনি। আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করে প্রধানমন্ত্রী জানান, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থলে উদ্ধার ও ত্রাণের কাজ চালাচ্ছে।
কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীও ঘটনায় শোকপ্রকাশ করেছেন। তাঁর বক্তব্য, প্রতিটি শিক্ষার্থীর জীবন অমূল্য এবং যে কোনও পরিস্থিতিতে তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে ঘটনাটিকে ‘অত্যন্ত বেদনাদায়ক’ এবং ‘এড়ানো সম্ভব ছিল এমন এক মর্মান্তিক ঘটনা’ বলে অভিহিত করেছেন।
এখন তদন্তের মূল নজর বেসমেন্টে চলা নির্মাণকাজ, ভবনের কাঠামোগত দুর্বলতা এবং নির্মাণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগের দিকে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আর কেউ আটকে রয়েছেন কি না, তা জানতে জোরকদমে চলছে উদ্ধারকাজ।






