Sumit Roy CID: কোটি কোটি টাকার লেনদেনে ‘বড় মাথা’, অপরাধ স্বীকারের দাবি CID-এর

টানা জিজ্ঞাসাবাদে নিজের অপরাধ স্বীকার করেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্ত সহায়ক সুমিত রায়—এমনই দাবি করেছে CID। শুধু তাই নয়, কোটি কোটি টাকার বেআইনি লেনদেনের নেপথ্যে আরও বড় মাথা রয়েছে বলেও সুমিত দাবি করেছেন বলে মেদিনীপুর আদালতে জমা দেওয়া নথিতে জানিয়েছে তদন্তকারী সংস্থা। ওই টাকা উদ্ধারে তদন্তকারীদের সম্পূর্ণ সহযোগিতা করার কথাও তিনি জানিয়েছেন বলে দাবি CID-এর। স্বাভাবিকভাবেই ‘বড় মাথা’ বলতে সুমিত কাদের নাম জানিয়েছেন, তা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
শালবনি থানার অন্তর্গত বিস্তীর্ণ সরকারি জমি বেআইনিভাবে জালিয়াতির মাধ্যমে ছোট ছোট প্লটে ভাগ করে বিক্রি ও হস্তান্তরের অভিযোগে ইতিমধ্যেই মেদিনীপুরের প্রাক্তন বিধায়ক সুজয় হাজরা-সহ দু’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তে ওই চক্রের সঙ্গে একাধিক প্রভাবশালী নেতার যোগ এবং সুমিত রায়ের সক্রিয় ভূমিকার তথ্য সামনে এসেছে বলে দাবি CID-এর।
তদন্তকারী সংস্থার হাতে বিপুল অঙ্কের বেআইনি আর্থিক লেনদেনের তথ্যও এসেছে বলে জানা গিয়েছে। এক প্রোমোটার এবং এক হোটেল মালিক-সহ আরও কয়েকজনের ভূমিকা নিয়েও সন্দেহ রয়েছে তদন্তকারীদের। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হতে পারে বলেও জানা যাচ্ছে।
সুমিত রায়ের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। প্রতারণা, জালিয়াতি, বিশ্বাসভঙ্গ এবং অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের মতো অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
এর আগে সুপ্রিম কোর্টের রক্ষাকবচ থাকাকালীনও সুমিতকে ভবানী ভবনে ডেকে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল CID। তদন্তে সহযোগিতা করছেন না—এমন অভিযোগ তুলে রাজ্য সরকার ফের সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়। পরে সুপ্রিম কোর্ট রক্ষাকবচ প্রত্যাহার করে নেয়। এরপর বৃহস্পতিবার সুমিত রায়কে গ্রেপ্তার করে CID।
গ্রেপ্তারের পর শুক্রবার তাঁকে ভবানী ভবন থেকে মেদিনীপুর আদালতে নিয়ে যাওয়া হয়। মুখ্য বিচারবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট অতনু মণ্ডলের এজলাসে মামলাটির শুনানি হয়। CID-এর হয়ে সরকারি আইনজীবী সৈয়দ নাজিম হাবিব সুমিতকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আট দিনের হেফাজত চেয়ে আবেদন করেন।
আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করে সুমিত রায়কে আট দিনের CID হেফাজতের নির্দেশ দেয়। আদালতের প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর তাঁকে ফের ভবানী ভবনে নিয়ে যাওয়া হয়। আপাতত সেখানেই চলছে টানা জিজ্ঞাসাবাদ।
CID-এর দাবি অনুযায়ী, জেরায় সুমিত যে তথ্য দিয়েছেন, তার ভিত্তিতে তদন্ত আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে চাইছেন তদন্তকারীরা। বিশেষ করে কোটি কোটি টাকার লেনদেন, ওই অর্থের উৎস ও গন্তব্য এবং এর সঙ্গে আরও কারা যুক্ত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
‘বড় মাথা’ বলতে সুমিত ঠিক কাকে বা কাদের ইঙ্গিত করেছেন, তা এখনও প্রকাশ্যে স্পষ্ট নয়। তবে তাঁর কথিত স্বীকারোক্তি এবং তদন্তে উঠে আসা আর্থিক লেনদেনের তথ্যকে ঘিরে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
তদন্তকারীদের হাতে থাকা তথ্য এবং আদালতে জমা দেওয়া নথির ভিত্তিতে আগামী দিনে আরও কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ বা গ্রেপ্তার করা হতে পারে কি না, সেদিকেও নজর রয়েছে। আপাতত সুমিত রায়কে জেরা করেই এই জমি ও আর্থিক লেনদেনের চক্রের আরও তথ্য বের করার চেষ্টা করছে CID।






