নেতাজির অপমানের প্রতিবাদে ৭০০ কিমি পদযাত্রা, গঙ্গাসাগর থেকে দার্জিলিং অতীন হালদার

একটা ছবি, একটা জাতীয় পতাকা আর অদম্য জেদ—এই সম্বল করেই সাগর থেকে পাহাড়ের পথে হাঁটছেন এক বৃদ্ধ। তাঁর নাম অতীন হালদার। দক্ষিণ ২৪ পরগনার বজবজের বাসিন্দা অতীনের এই পদযাত্রা কোনও রেকর্ড গড়া কিংবা পুরস্কার পাওয়ার জন্য নয়। তাঁর হাঁটার উদ্দেশ্য একটাই—প্রতিবাদ।
নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে নিয়ে করা এক কুরুচিকর মন্তব্যের প্রতিবাদে গঙ্গাসাগর থেকে দার্জিলিংয়ের ম্যালে পায়ে হেঁটে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন অতীন। প্রায় ৭০০ কিলোমিটারের এই দীর্ঘ যাত্রা শুরু হয়েছে সাগর থেকে। গন্তব্য দার্জিলিং।
অতীনের কথায়, নেতাজি তাঁর কাছে শুধুমাত্র একজন স্বাধীনতা সংগ্রামী নন, তিনি আবেগ। তাই তাঁকে নিয়ে অসম্মানজনক মন্তব্য মেনে নিতে পারেননি তিনি। প্রতিবাদের জন্য বেছে নিয়েছেন নীরব পদযাত্রার পথ।
শুক্রবার দুপুরে মুর্শিদাবাদের সুতি থানার আহিরনে পৌঁছেছেন অতীন। শনিবার তাঁর এই পদযাত্রার ২০তম দিন। প্রতিদিন গড়ে ২৫ থেকে ৩০ কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটে অতিক্রম করছেন তিনি।
গলায় ঝুলছে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর বাঁধানো ছবি। মাথায় সাদা গান্ধী টুপি। হাতে বিশাল জাতীয় পতাকা। রোদে পুড়ছেন, বৃষ্টিতে ভিজছেন, তবুও হাত থেকে নামছে না জাতীয় পতাকা। পায়ে সাধারণ চটি, পিঠে ছোট্ট একটি ব্যাগ—এই সামান্য সম্বল নিয়েই এগিয়ে চলেছেন তিনি।
এই দীর্ঘ যাত্রার পথে শারীরিক সমস্যাও এসেছে। কয়েকদিন আগে প্রচণ্ড জ্বরে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন অতীন। বাধ্য হয়ে দু’দিন একটি হোটেলে বিশ্রাম নিতে হয় তাঁকে। জ্বর কিছুটা কমতেই ফের লাঠি হাতে রাস্তায় নেমে পড়েন তিনি।
অতীন হালদার বলেন, “নেতাজি আমার কাছে ভগবানের মতো। যে মানুষটা দেশের জন্য নিজের সব সুখ বিসর্জন দিলেন, তাঁকে নিয়ে নোংরা কথা বলবে আর আমরা চুপ করে থাকব? আমার এই হাঁটাই আমার প্রতিবাদ, আমার শ্রদ্ধা।”
অতীনের এই পদযাত্রা ইতিমধ্যেই মানুষের নজর কাড়ছে। জাতীয় সড়কের ধারে তাঁকে দেখে অনেকেই দাঁড়িয়ে যাচ্ছেন। কেউ এগিয়ে দিচ্ছেন জলের বোতল, কেউ বিস্কুট। কেউ আবার নেতাজির ছবির দিকে তাকিয়ে কপালে হাত ঠেকিয়ে শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন।
তবে অতীন কারও কাছে কিছু চাইছেন না। তাঁর একটাই বার্তা—নেতাজির আদর্শকে মনে রাখতে হবে।
সাগর থেকে শুরু হওয়া এই যাত্রার শেষ হবে দার্জিলিংয়ে। সেখানেই রয়েছে নেতাজির রাজনৈতিক গুরু দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশের বাড়ি। সেই জায়গাতেই তাঁর পদযাত্রার সমাপ্তি ঘটাতে চান অতীন হালদার।
এক বৃদ্ধের দীর্ঘ পথচলা তাই শুধুমাত্র একটি পদযাত্রা নয়, তাঁর কাছে এটি নেতাজির প্রতি শ্রদ্ধা এবং প্রতিবাদের এক নীরব বার্তা।






