AI নিয়ে ভয়! Google DeepMind-এর দুই গবেষকের ইস্তফা, বাড়ছে AGI নিরাপত্তা বিতর্ক

এআই নিয়ে আশঙ্কা আজকের নয়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভবিষ্যৎ নিয়ে বহু বছর আগেই সতর্ক করেছিলেন কিংবদন্তি পদার্থবিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং। এবার সেই আশঙ্কাই যেন আরও জোরালো হয়ে সামনে এল Google DeepMind-এর এক নিরাপত্তা গবেষকের পদত্যাগে। এআই-এর দ্রুত অগ্রগতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে সংস্থার চাকরি ছেড়েছেন বিলাল চুঘতাই। তাঁর দাবি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কারণে মানবজাতির অস্তিত্বই ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
বিলাল চুঘতাই সম্প্রতি নিজের X হ্যান্ডলে ইস্তফার কথা জানান। Google DeepMind-এ তিনি AGI বা Artificial General Intelligence-এর নিরাপত্তা ও অ্যালাইনমেন্ট নিয়ে গবেষণা করতেন। অর্থাৎ ভবিষ্যতের আরও শক্তিশালী এআই সিস্টেম যাতে মানুষের লক্ষ্য ও মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ থাকে এবং অনাকাঙ্ক্ষিত ক্ষতি না করে, সেই সংক্রান্ত গবেষণাই ছিল তাঁর কাজের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
ইস্তফার কথা জানিয়ে বিলাল লিখেছেন, Google-এ থাকার সময় তিনি খুব কাছ থেকে এআই উন্নয়নের প্রক্রিয়া দেখেছেন। প্রযুক্তিটির বর্তমান অগ্রগতির ধারা তাঁকে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করেছে। তাঁর আশঙ্কা, এআই-এর কারণে মানবজাতির বিলুপ্তির ঝুঁকি রয়েছে এবং সেই পরিণতি এড়ানোর জন্য হাতে হয়তো খুব বেশি সময় নেই।
তবে বিলালই প্রথম নন। এর আগে Google DeepMind-এর AGI নিরাপত্তা দলের সঙ্গে যুক্ত জশ এঙ্গেলসও চাকরি ছাড়ার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছিলেন। তাঁর বক্তব্যেও উঠে এসেছে একই ধরনের উদ্বেগ।
এঙ্গেলস জানিয়েছেন, কয়েক সপ্তাহ আগে তিনি DeepMind-এর AGI নিরাপত্তা টিম ছেড়েছেন। কাজটি তিনি উপভোগ করতেন এবং বাইরে থেকে তাঁর সিদ্ধান্তটি বন্ধু ও পরিবারের অনেকের কাছেই অদ্ভুত মনে হয়েছিল। কিন্তু তাঁর মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে এআই-সংক্রান্ত ঝুঁকির মাত্রা এতটাই বেশি যে সেই ঝুঁকির কথা মাথায় রেখেই তাঁকে চাকরি ছাড়তে হয়েছে।
ঘটনাগুলি এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন কৃত্রিম সাধারণ বুদ্ধিমত্তা বা AGI-এর সম্ভাবনা এবং নিরাপত্তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে বিতর্ক ক্রমশ তীব্র হচ্ছে। এআই যত শক্তিশালী হচ্ছে, ততই প্রশ্ন উঠছে—মানুষের তৈরি এই প্রযুক্তি যদি একদিন মানুষের সক্ষমতাকে ব্যাপকভাবে ছাড়িয়ে যায়, তাহলে তাকে নিয়ন্ত্রণে রাখা কতটা সম্ভব হবে?
এই বিতর্কে রাজনীতির প্রভাবও পড়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এআই নিয়ে অতিরিক্ত আশঙ্কার বদলে আমেরিকার প্রযুক্তিগত নেতৃত্ব বজায় রাখার পক্ষেই জোর দিয়েছেন। বিশেষ করে চিনের সঙ্গে প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকতে মার্কিন সংস্থাগুলিকে আরও উন্নত এআই মডেল তৈরির দিকে এগিয়ে যেতে উৎসাহিত করার অবস্থান নিয়েছেন তিনি।
অন্যদিকে, এআই শিল্পেরই একাংশ দ্রুতগতির উন্নয়ন নিয়ে সতর্ক। Anthropic-এর প্রধান দারিও আমোদি সম্প্রতি এআই উন্নয়নের গতি কিছুটা ধীর করার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে মত প্রকাশ করেছেন। তাঁর বক্তব্য ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয় এআই নিরাপত্তা নিয়ে।
এর পর OpenAI-এর প্রধান স্যাম অল্টম্যান এবং xAI-এর প্রধান এলন মাস্কও সামাজিক মাধ্যমে ওই আলোচনায় সায় দেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে এআই ঘিরে বিতর্কটি এখন শুধু প্রযুক্তিবিদদের গবেষণাগারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। বিজ্ঞানী, গবেষক, প্রযুক্তি সংস্থার কর্তা এবং রাজনীতিক—সকলের মধ্যেই প্রশ্নটি ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। এআই মানবসভ্যতার জন্য আশীর্বাদ হবে, নাকি একদিন অস্তিত্বের সংকট ডেকে আনবে—তার উত্তর এখনও অজানা। তবে DeepMind-এর মতো প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা গবেষকদের প্রকাশ্য উদ্বেগ দেখিয়ে দিচ্ছে, ভবিষ্যৎ নিয়ে আশঙ্কাটিকে আর পুরোপুরি উপেক্ষা করা যাচ্ছে না।






