Gurugram Biker Sia Case: তরুণী বাইকারকে ধাক্কার ঘটনায় গ্রেপ্তার কল্যাণ, খুনের চেষ্টা

গুরুগ্রামে তরুণী বাইকার সিয়াকে গাড়ি দিয়ে ধাক্কা মেরে ফেলে দেওয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত কল্যাণ বঁইসলাকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টার মামলা রুজু করা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ-সহ বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণ করে পুলিশ প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়েছে, ঘটনাটি নিছক দুর্ঘটনা নয়। ইচ্ছাকৃতভাবে সিয়াকে ধাক্কা দেওয়া হয়েছিল বলেই তদন্তকারীদের দাবি।
ইনস্টাগ্রামে ‘রেবেলউইলস সিয়া’ নামে একটি পেজ রয়েছে তরুণী বাইকারের। সেখানে নিয়মিত বাইকযাত্রার বিভিন্ন ভিডিও শেয়ার করেন তিনি। সম্প্রতি সেই পেজেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন সিয়া। তাঁর পোস্ট করা ভিডিওতে ধাক্কার গোটা ঘটনাটিও ধরা পড়েছে।
সিয়ার দাবি, ঘটনাটি ঘটে রবিবার। গুরুগ্রামের গল্ফ রোড থেকে স্পোর্টস বাইক নিয়ে একটি বাইকার দলের সঙ্গে বেরিয়েছিলেন তিনি। যাত্রার শুরু থেকেই একটি গাড়িতে থাকা কয়েকজন যুবক তাঁকে অনুসরণ করতে শুরু করেন বলে অভিযোগ।
সিয়ার বক্তব্য, গাড়িটি বারবার তাঁর বাইকের একেবারে কাছে চলে আসছিল। গাড়িতে থাকা যুবকেরা তাঁকে লক্ষ্য করে কটাক্ষও করছিলেন বলে অভিযোগ তাঁর। গাড়ি থেকে দূরত্ব বজায় রাখার অনুরোধ করলে তাঁকে উলটে বাইক থামাতে বলা হয়।
সিয়ার দাবি, গাড়িতে থাকা যুবকদের আচরণ দেখে তাঁদের মদ্যপ বলে মনে হচ্ছিল। পরিস্থিতি এড়িয়ে যাওয়ার জন্য তিনি বাইক নিয়ে এগিয়ে যেতে থাকেন। তাঁর অভিযোগ, গাড়িটিও তাঁর সঙ্গে রেষারেষি করছিল।
একসময় যাতে গাড়িটি তাঁর পথ আটকে দিতে না পারে, সেজন্য বাইক নিয়ে দ্রুত এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন সিয়া। সেই সময়ই গাড়িটি তাঁর স্পোর্টস বাইকে ধাক্কা মারে। ধাক্কার পর গাড়ি না থামিয়ে চালক সেখান থেকে চলে যান বলে অভিযোগ।
ধাক্কার অভিঘাতে বাইক থেকে ছিটকে রাস্তায় পড়ে যান সিয়া। তাঁর বাইকও কয়েক মিটার রাস্তার উপর ঘষটাতে ঘষটাতে এগিয়ে যায়। বাইকে লাগানো ক্যামেরায় পুরো ঘটনাটি রেকর্ড হয়েছিল। পরে সেই ভিডিওই সোশাল মিডিয়ায় প্রকাশ করেন তিনি।
ঘটনার পর চালক উলটে দুর্ঘটনার দায় তাঁর উপর চাপানোর চেষ্টা করেছিলেন বলেও অভিযোগ সিয়ার। এরপর ভিডিও-সহ গুরুগ্রাম পুলিশের কাছে অভিযোগ জানান তিনি। গাড়ির চালক এবং তাঁর সঙ্গে থাকা অন্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানান তরুণী বাইকার।
সিয়ার পোস্ট করা ভিডিও দ্রুত সোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি নজরে আসার পর তৎপর হয় গুরুগ্রাম পুলিশ। স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু হয়। আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজও খতিয়ে দেখা হয়।
পুলিশের দাবি, সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য তথ্য বিশ্লেষণের পর ঘটনাটিকে নিছক পথ দুর্ঘটনা হিসেবে দেখা হয়নি। তদন্তকারীদের মতে, সিয়াকে লক্ষ্য করে ইচ্ছাকৃতভাবে গাড়ি দিয়ে ধাক্কা দেওয়া হয়েছিল। এরপরই অভিযুক্ত কল্যাণ বঁইসলাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের তরফে মামলায় ভারতীয় দণ্ডবিধির ১০৯ ধারা (খুনের চেষ্টা) যুক্ত করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। এই ধারায় দোষী সাব্যস্ত হলে সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে গুরুগ্রাম পুলিশের তরফে কড়া বার্তাও দেওয়া হয়েছে। পুলিশের বক্তব্য, রাস্তায় অশান্তি করা বা আইন ভাঙার ঘটনায় কোনওভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। বিশেষ করে মহিলাদের নিরাপত্তা এবং শহরের রাস্তায় আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখার বিষয়ে পুলিশ কঠোর অবস্থান নেবে বলে জানানো হয়েছে।
তরুণী বাইকারকে গাড়ি দিয়ে ধাক্কার ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই ঘটনাটি নিয়ে সোশাল মিডিয়ায় তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছিল। এখন অভিযুক্তের গ্রেপ্তারের পর তদন্ত কোন দিকে এগোয় এবং ঘটনায় আরও কেউ জড়িত কি না, সেদিকেই নজর রয়েছে।






