Aditi Munshi Debraj Chakraborty Case: প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক অদিতি মুন্সির আগাম জামিন মঞ্জুর হাই কোর্টে, খারিজ স্বামী দেবরাজের আবেদন
১০০ কোটি টাকার আয়বহির্ভূত সম্পত্তি এবং বেনামে অর্থ হস্তান্তরের মামলায় বড়সড় নির্দেশ দিল কলকাতা হাই কোর্ট। রাজারহাট-গোপালপুরের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক তথা বিশিষ্ট সঙ্গীতশিল্পী অদিতি মুন্সির আগাম জামিন মঞ্জুর করল উচ্চ আদালত। তবে এই একই মামলায় বড় ধাক্কা খেয়েছেন তাঁর স্বামী তথা বিধাননগর পুরসভার প্রভাবশালী তৃণমূল কাউন্সিলর দেবরাজ চক্রবর্তী। বুধবার বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত দেবরাজের আগাম জামিনের আবেদন সরাসরি খারিজ করে দিয়েছেন।
বিগত ৫ বছরে এই রাজনীতিক দম্পতির আয়ের সঙ্গে সঙ্গতিহীন বিপুল সম্পত্তি বৃদ্ধি এবং অর্থপাচার সংক্রান্ত একাধিক অভিযোগ সামনে আসে। অভিযোগ ওঠে, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে অদিতির এবং তাঁর স্বামী অন্তত ১০০ কোটি টাকার সম্পত্তি বেনামে এবং নিজেদের আত্মীয় ও পরিচিতদের নামে হস্তান্তর করেছেন। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে রাজারহাট-গোপালপুর কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের টিকিটে জয়ী হয়ে বিধায়ক হয়েছিলেন অদিতি। সেই সময় নির্বাচনী হলফনামায় সম্পত্তির পরিমাণ কম দেখানোর অভিযোগও উঠেছিল তাঁর বিরুদ্ধে।
এই মামলায় এর আগে আদালত ১৯ জুন পর্যন্ত এই দম্পতির গ্রেপ্তানির ওপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দিয়েছিল। বুধবার মামলার শুনানিতে বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত পর্যবেক্ষণ করেন যে, অদিতির চার মাসের একটি ছোট শিশুসন্তান রয়েছে। মানবিকতার খাতিরে এবং এই পরিস্থিতি বিবেচনা করে তাঁর আগাম জামিন মঞ্জুর করা হলেও, একাধিক কড়া শর্ত চাপিয়েছে উচ্চ আদালত।

source : আনন্দবাজার
আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, আগাম জামিন পেলেও প্রাক্তন বিধায়ক অদিতি মুন্সিকে তদন্তের স্বার্থে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে। একই সঙ্গে আদালতের অনুমতি ছাড়া তিনি দেশের বাইরে যেতে পারবেন না এবং তাঁর পাসপোর্ট নিম্ন আদালতে জমা রাখতে হবে। কোনওভাবেই মামলার কোনও সাক্ষীকে প্রভাবিত করা যাবে না বলেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, আপাতত বাগুইআটি থানা এলাকায় প্রবেশ করতে পারবেন না অদিতি মুন্সি।
অন্যদিকে, কাউন্সিলর দেবরাজ চক্রবর্তীর ক্ষেত্রে আদালত কোনো স্বস্তি দেয়নি। তাঁর আগাম জামিনের আবেদন খারিজ করে দিয়ে বিচারপতি জানান, দেবরাজকেও তদন্তে সবরকম সহযোগিতা করতে হবে।
বিধাননগর ও সংলগ্ন এলাকায় তোলাবাজি, সিন্ডিকেট রাজ চালানো এবং জোরপূর্বক জমি দখলের মাধ্যমে বিপুল সম্পত্তির মালিক হওয়ার অভিযোগ রয়েছে এই রাজনীতিক দম্পতির বিরুদ্ধে। সম্প্রতি কলকাতা হাই কোর্টে রাজ্য সরকারের তরফেও চাঞ্চল্যকর দাবি করা হয়। রাজ্যের তরফে জানানো হয়, কালিম্পঙে অদিতিদের একটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ছিল। কিন্তু নির্বাচনের আগে ওই অ্যাকাউন্ট এবং আরও কয়েকটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা অন্য কোথাও সরিয়ে ফেলা হয়। তাছাড়া, দেবরাজের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত দুই ব্যক্তিকে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এর পাশাপাশি ২০২১ সালের ভোট-পরবর্তী হিংসার মামলাতেও অন্যতম অভিযুক্ত হিসেবে নাম রয়েছে দেবরাজ চক্রবর্তীর।
হাই কোর্টের এই রায়ের পর রাজনৈতিক মহলে নতুন করে শোরগোল শুরু হয়েছে। তবে তদন্তের গতিপ্রকৃতি নিয়ে দুই পক্ষের আইনজীবীদের মধ্যেই সওয়াল-জবাব চলেছে। আদালতের এই নির্দেশের পর তদন্তকারী সংস্থা দেবরাজ চক্রবর্তীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পরবর্তী কী পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই নজর রয়েছে ওয়াকিবহাল মহলের।
নির্বাচনের মুখে ১০০ কোটি টাকার বেনামি সম্পত্তি হস্তান্তরের এই অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। প্রাক্তন বিধায়কের জামিন মিললেও প্রভাবশালী কাউন্সিলর দেবরাজের জামিন খারিজ হওয়া ইঙ্গিত দেয় যে, তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলির গভীরতা খতিয়ে দেখছে আদালত। বাগুইআটি থানায় অদিতির প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করার সিদ্ধান্তও আইনশৃঙ্খলার দিক থেকে তাৎপর্যপূর্ণ।
কলকাতা হাই কোর্টের রায়ে অদিতি মুন্সি সাময়িক স্বস্তি পেলেও, তাঁর স্বামী দেবরাজ চক্রবর্তীর ওপর গ্রেপ্তানির তলোয়ার ঝুলছে। তবে আদালতের কড়া নির্দেশের পর, আয়বহির্ভূত এই বিপুল সম্পত্তির উৎস সন্ধানে তদন্তকারী আধিকারিকরা এই দম্পতিকে কীভাবে জেরা করেন এবং আগামী দিনে কী তথ্য সামনে আসে, সেটাই এখন দেখার।






