NEET UG Student Suicide: দ্বিতীয়বার হওয়া নিট পরীক্ষাও ভালো হয়নি, হতাশায় কুয়োয় ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা ১৮ বছরের পরীক্ষার্থীর, ভাইরাল শেষ ভিডিও বার্তা

source :সংবাদ প্রতিদিন
জাতীয় স্তরের ডাক্তারি প্রবেশিকা পরীক্ষা ‘নিট’ (NEET)-কে কেন্দ্র করে চলা দেশজোড়া বিতর্ক ও অনিশ্চয়তা এবার কেড়ে নিল আরও এক তরতাজা পড়ুয়ার প্রাণ। প্রথমবার প্রশ্ন ফাঁসের জেরে বাতিল হওয়া পরীক্ষা দ্বিতীয়বার দিতে গিয়েও সফল হতে না পারার তীব্র গ্লানি ও মানসিক অবসাদ গ্রাস করেছিল ১৮ বছর বয়সি সুশীল ধাগেকে। মহারাষ্ট্রের হিঙ্গোলির বাসিন্দা এই নিট পরীক্ষার্থী অবশেষে নিজের জীবন শেষ করার পথ বেছে নিলেন। একটি গভীর কুয়োয় ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেন তিনি। মৃত্যুর আগে মায়ের উদ্দেশ্যে তাঁর পাঠানো একটি ভিডিও বার্তা বর্তমানে সমাজমাধ্যমে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি করেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আত্মঘাতী ওই নিট পরীক্ষার্থীর নাম সুশীল ধাগে (১৮)। গত ২১ জুন দেশজুড়ে নতুন করে নিট-ইউজি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সুশীলের পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশে অভিযোগ দায়ের করার সময় জানানো হয়েছে, প্রথমবার পরীক্ষা বাতিলের পর দ্বিতীয় দফার এই পরীক্ষাও সুশীলের ভালো হয়নি। পরীক্ষা দিয়ে ফেরার পর থেকেই গভীর মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন তিনি।
আত্মহত্যার ঠিক আগে নিজের মোবাইলে একটি ৩৩ সেকেন্ডের ভিডিও রেকর্ড করে পরিবারের সদস্যদের পাঠান সুশীল। ভিডিওটি পাঠানোর পরেই তিনি একটি গভীর কুয়োয় ঝাঁপ দেন। পরে ঘটনাস্থল থেকে তাঁর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় সুশীলের পরিবারসহ গোটা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
মৃত্যুর আগে রেকর্ড করা ওই বিষাদগ্রস্ত ভিডিও বার্তায় সুশীলকে বলতে শোনা যায়, “মা, আজ আমি নিজের জীবন শেষ করে ফেলছি। মা, তুমি একদম চিন্তা কোরো না। পরের জন্মে আমি তোমারই গর্ভে জন্ম নেব। তোমাকে আর এমন কষ্ট দেব না।”
কান্নাভেজা গলায় নিজের তীব্র মানসিক যন্ত্রণার কথা প্রকাশ করে সুশীল আরও বলেন, “আমাকে ক্ষমা করে দিও মা। সুমেধের পাশে থেকো। নিজের খেয়াল রেখো আর আমার জন্য চিন্তা কোরো না। আমি ভীষণ যন্ত্রণার মধ্যে আছি… আমি কিছুই করতে পারছি না… আমি আর কিছুই বুঝতে পারছি না। কেবল আমাকে ক্ষমা করে দিও মা।”
উল্লেখ্য, চলতি বছরের গত ৩ মে দেশজুড়ে ডাক্তারির সর্বভারতীয় প্রবেশিকা পরীক্ষা (NEET-UG) অনুষ্ঠিত হয়েছিল। কিন্তু পরীক্ষার ফল প্রকাশের পরই দেশজুড়ে প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং ফলাফলে ব্যাপক বেনিয়মের অভিযোগ সামনে আসে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত জল গড়ায় এবং দেশজুড়ে তীব্র ছাত্র বিক্ষোভের জেরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার বিতর্কিত পরীক্ষাটি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়। এরপরই জাতীয় পরীক্ষা নিয়ামক সংস্থা (NTA) গত ২১ জুন নতুন করে এই পরীক্ষার আয়োজন করে। কিন্তু বারবার পরীক্ষার এই টানাপোড়েন ও মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরে সুশীলের মতো অনেক শিক্ষার্থীই চরম পথ বেছে নিচ্ছেন।
এই ঘটনার পর কংগ্রেসসহ দেশের প্রধান বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে পুনরায় সরব হয়েছে। সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান নিজের মন্ত্রকের খামতির কথা স্বীকার করে নিয়ে বলেন, “আমি স্বীকার করছি যে অতীতে আমরা ভুল করেছি। তবে আমরা সে সব ভুলত্রুটি শুধরেও নিয়েছি।”
যদিও সরকারের এই সাফাইতে শান্ত হচ্ছেন না বিরোধীরা। পরীক্ষা ব্যবস্থার এই চরম গাফিলতির কারণে একের পর এক পরীক্ষার্থীর আত্মহননের ঘটনা তুলে ধরে বিরোধীরা প্রশ্ন তুলছেন, “শিক্ষামন্ত্রী ভুল স্বীকার করলেও, যেসব পরীক্ষার্থীরা অবসাদে প্রাণ হারালেন, তাঁদের জীবন কীভাবে ফিরিয়ে দেবে সরকার?”
পরীক্ষা ব্যবস্থার দীর্ঘসূত্রিতা, প্রশ্ন ফাঁস এবং পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার মতো ঘটনাগুলি যে তরুণ ছাত্রছাত্রীদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর কতটা মারাত্মক প্রভাব ফেলছে, সুশীলের মৃত্যুর ঘটনা তারই এক জলজ্যান্ত ও করুণ উদাহরণ। দেশজুড়ে লক্ষ লক্ষ নিট পরীক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে, যার ফলে তৈরি হওয়া এই মানসিক চাপ সামলানোর জন্য উপযুক্ত কাউন্সিলিংয়ের অভাবও এই ধরণের ঘটনার পিছনে দায়ী বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সুশীল ধাগের এই মর্মান্তিক মৃত্যু নিট পরীক্ষা ব্যবস্থার ত্রুটি এবং তার জেরে শিক্ষার্থীদের ওপর তৈরি হওয়া অমানুষিক মানসিক চাপকে আরও একবার কাঠগড়ায় দাঁড় করাল। প্রশাসন পরীক্ষা ব্যবস্থা সংশোধনের দাবি করলেও, সুশীলের মতো সম্ভাবনাময় শিক্ষার্থীদের এই অকাল প্রয়াণ সমগ্র শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য এক বড়সড় সতর্কবার্তা।






