WhatsApp Username Feature: ‘ইউজারনেম’ নিয়ে প্রতারণার ছক! মেটাকে কড়া নোটিস কেন্দ্রের, স্থগিত হতে পারে হোয়াটসঅ্যাপের নতুন ফিচার

source : আনন্দবাজার
জনপ্রিয় মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম হোয়াটসঅ্যাপে (WhatsApp) বড়সড় বদল আনতে চলেছিল মেটা (Meta)। ফোন নম্বর শেয়ার না করেই কেবল একটি নির্দিষ্ট ইউজারনেম (যেমন: @Name123) ব্যবহার করে একে অপরকে মেসেজ বা কল করার প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি প্রায় শেষের দিকে। কিন্তু ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষার আড়ালে যাতে কোনও বড়সড় সাইবার অপরাধের ফাঁদ তৈরি না হয়, তা সুনিশ্চিত করতে এবার নড়েচড়ে বসল মোদী সরকার। কেন্দ্রের স্পষ্ট নির্দেশ, সরকারের সবুজ সংকেত এবং আলোচনা পর্ব শেষ না হওয়া পর্যন্ত ভারতে এই নতুন ফিচার চালু করা যাবে না।
সংবাদসংস্থা এএনআই (ANI) এবং পিটিআই (PTI) সূত্রে খবর, কেন্দ্রীয় বৈদ্যুতিন ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক (MeitY) বুধবার মেটার ভারতীয় অপারেশনের চিফ কমপ্লায়েন্স অফিসারকে একটি জরুরি নোটিস পাঠিয়েছে। এই নোটিসে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, হোয়াটসঅ্যাপের প্রস্তাবিত ‘ইউজারনেম ফিচার’টি কীভাবে কাজ করবে, ব্যবহারকারীদের সত্যতা যাচাইয়ের (Verification) কী ব্যবস্থা থাকবে এবং ভুয়ো পরিচয় রোধে কী ধরনের পরিকাঠামো নেওয়া হয়েছে—তা ৩ দিনের মধ্যে সবিস্তারে জানাতে হবে।
প্রস্তাবিত এই ফিচারটির আইনি কাঠামো এবং তথ্যপ্রযুক্তি আইনের (IT Act) বিভিন্ন ধারা ইতিমধ্যেই পর্যালোচনা করতে শুরু করেছে কেন্দ্র। এই ফিচারটি ভারতের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা এবং সাইবার অপরাধের গ্রাফকে প্রভাবিত করবে কি না, তা নিয়ে পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়ার পরেই ছাড়পত্র মিলবে।
কেন্দ্রীয় আইটি মন্ত্রকের একটি উচ্চপদস্থ সূত্র জানাচ্ছে, এই ফিচারের সাহায্যে অপরাধীরা খুব সহজেই কোনও বৈধ সংস্থা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান কিংবা সরকারি আধিকারিকদের হুবহু নামের মতো দেখতে ইউজারনেম তৈরি করে নিতে পারে (Impersonation)। সাধারণ মানুষ অনেক সময়ই সেই নামের সূক্ষ্ম তফাত ধরতে পারেন না।
আইটি মন্ত্রকের নোটিসে বলা হয়েছে, এই ফিচারের কারণে অনলাইন জালিয়াতি, ফিশিং (Phishing), বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠা ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’ সংক্রান্ত ব্ল্যাকমেইলের ঘটনা বহুগুণ বেড়ে যেতে পারে।
সোশাল মিডিয়ায় এই ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে নটডেটিং (KnotDating)-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা তথা সিইও জসপ্রীত সিংহ লিখেছেন,
“ব্যক্তিগত গোপনীয়তা গুরুত্বপূর্ণ। দায়বদ্ধতাও তেমনই গুরুত্বপূর্ণ।” অর্থাৎ, সুরক্ষার বলি দিয়ে কেবল গোপনীয়তা রক্ষা করা অর্থহীন।
কেন্দ্রের এই আপত্তির জবাবে মেটা এবং হোয়াটসঅ্যাপের তরফে জানানো হয়েছে যে, এই ফিচারটি এখনও লাইভ করা হয়নি এবং বছরের শেষের দিকে ধাপে ধাপে এটি আনা হবে। একই সঙ্গে মেটা দাবি করেছে, তারা সুরক্ষার ক্ষেত্রে বেশ কিছু স্তর (Layers of Defence) তৈরি রাখছে:
- ভিআইপি নাম সংরক্ষণ: সরকারি সংস্থা, সেলিব্রিটি, পাবলিক ফিগার এবং ভেরিফায়েড মেটা অ্যাকাউন্টগুলির নাম বা তাদের নামের সঙ্গে সাদৃশ্যযুক্ত ইউজারনেমগুলি আগে থেকেই ব্লক করে রাখা হবে, যাতে কেউ তা চুরি করতে না পারে।
- সার্চ লিমিট: কেউ আন্দাজে বা বারবার অন্য কারও ইউজারনেম খোঁজার চেষ্টা করলে সেই অ্যাকাউন্ট ব্লক করা হবে।
- অ্যাকাউন্টের তথ্য প্রদর্শন: প্রথমবার কেউ ইউজারনেম মারফত মেসেজ পাঠালে হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীকে দেখাবে যে অ্যাকাউন্টটি নতুন কি না, কোনও মিউচুয়াল গ্রুপ আছে কি না, নাকি সেটি অন্য কোনও দেশের অ্যাকাউন্ট।
এক নজরে ইউজারনেম ফিচারের বিতর্ক:
| ফিচারের সুবিধা | কেন্দ্রের আশঙ্কা ও ঝুঁকি | মেটার প্রস্তাবিত সুরক্ষাকবচ |
| ফোন নম্বর গোপন রেখে সম্পূর্ণ প্রাইভেসি বজায় রেখে চ্যাট। | সরকারি সংস্থা, ব্যাঙ্ক বা সেলিব্রিটি সেজে ছদ্মবেশে প্রতারণা। | ভিআইপি ও অফিশিয়াল অ্যাকাউন্টগুলির নাম লক করে রাখা হবে। |
| অপরিচিতদের নম্বর সেভ করার প্রয়োজন নেই। | অপরাধীদের মূল উৎস বা আইডেন্টিটি ট্র্যাক করা কঠিন হবে। | কন্ট্যাক্ট করার জন্য সঠিক ইউজারনেম জানা বাধ্যতামূলক, কোনও ডিরেক্টরি থাকবে না। |
ভারতে হোয়াটসঅ্যাপের ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৫০ কোটিরও বেশি। ফলে এই প্ল্যাটফর্মের সামান্যতম নীতি পরিবর্তনও দেশের কোটি কোটি মানুষের আর্থিক ও সামাজিক সুরক্ষার সঙ্গে জড়িত। টেলিগ্রামের মতো প্ল্যাটফর্মে এই ইউজারনেম আইডির অপব্যবহার করে যেভাবে অপরাধের জাল ছড়াচ্ছে, সরকার হোয়াটসঅ্যাপের ক্ষেত্রে সেই ঝুঁকি নিতে নারাজ। এখন দেখার, ৩ দিনের মধ্যে মেটা কেন্দ্রের নোটিসের কী জবাব দেয় এবং সরকারের মন জয় করার মতো কী কী অতিরিক্ত সুরক্ষাকবচ তারা যুক্ত করে।






