বল হাতে আগুন ঝরালেও বিসিসিআই-এর দরজায় ‘নো এন্ট্রি’! অজিত আগরকরদের দীর্ঘমেয়াদি ভাবনায় ব্রাত্য মহম্মদ শামি

২০২৩ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে ভারতের সর্বকালের সেরা বোলিং স্পেল উপহার দেওয়া সেই মহম্মদ শামি কি তবে অতীত? ঘরোয়া ক্রিকেটে নামলেই প্রতিপক্ষের উইকেট উপড়ে ফেলছেন, তবুও জাতীয় দলের স্কোয়াড ঘোষণার সময় বারবার এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে তাঁর নাম। স্পোর্টস পোর্টাল সূত্রের খবর, নির্বাচকদের টেবিল থেকে প্রায় নিঃশব্দেই মুছে গেছে ৩৫ বছর বয়সি এই তারকা ভারতীয় পেসারের নাম।
কেন হঠাৎ ব্রাত্য শামি? নেপথ্যে ‘ফিটনেস’ ও বয়সের সমীকরণ
একটি ক্রীড়া বিষয়ক ওয়েবসাইটের রিপোর্ট অনুযায়ী, অজিত আগারকরের নেতৃত্বাধীন জাতীয় নির্বাচক কমিটি ভবিষ্যতে তরুণদের ওপর বাজি ধরতে চায়। শামির ক্ষেত্রে মূল সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে তাঁর বারবার চোট পাওয়ার প্রবণতা।
যদিও জশপ্রীত বুমরাহকেও চোটের সমস্যা ভুগিয়েছে, কিন্তু বোর্ড তাঁর ক্ষেত্রে কঠোর ‘ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্ট’ (Workload Management) নীতি নিয়ে খেলানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বুমরাহ ও মহম্মদ সিরাজকে নিয়মিত মূল পেস আক্রমণের স্তম্ভ রেখে বাকি শূন্যস্থানগুলি তরুণদের দিয়ে পূরণ করতে চায় বোর্ড। ফলে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় শামিকে আর রাখা হচ্ছে না।
[বিসিসিআইয়ের নতুন পেস অ্যাটাক পরিকল্পনা]
* মূল স্তম্ভ: জশপ্রীত বুমরাহ (ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্ট সহ) ও মহম্মদ সিরাজ।
* ব্যাকআপ পুল: নতুন চিহ্নিত ১৫ জন উদীয়মান তরুণ পেসার।
* বয়সের হিসাব: ৩৫+ বছর বয়সি পেসারদের দীর্ঘমেয়াদি ফরম্যাট থেকে ছাঁটাইয়ের নীতি।
নীরব বিদায়: পূজারা-ইশান্তের পথেই কি শামি?
ভারতীয় ক্রিকেটে তারকাদের বিদায়ঘণ্টা বাজানোর ধরণ নতুন নয়। চেতেশ্বর পূজারা, ইশান্ত শর্মা বা ঋদ্ধিমান সাহার মতো অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের কোনো স আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না করেই দল থেকে বাইরে রাখা হয়েছিল। পরবর্তীতে তাঁরা আর ফিরে আসতে পারেননি।
শামির ক্ষেত্রেও একই চিত্রনাট্য মেনে চলা হচ্ছে বলে ক্রিকেট মহলের খবর। বোর্ড আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানাবে না, তবে স্কোয়াডেও আর তাঁর জায়গা হবে না।
পরিসংখ্যান বনাম নির্বাচকদের দৃষ্টিভঙ্গি: উঠছে চরম বিতর্ক
একদিকে ফিটনেস এবং বয়সের যুক্তি দেখাচ্ছে বিসিসিআই, কিন্তু অন্য দিকে শামির সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স পুরো উল্টো কথা বলছে:
- রনজি ট্রফি: রনজি সেমিফাইনালে ৮ উইকেট সহ মাত্র ৭টি ম্যাচে নিয়েছেন ৩৭টি উইকেট!
- বিজয় হাজারে ট্রফি: লিস্ট-এ ক্রিকেটে ঝুলিতে পুরেছেন ১৫টি উইকেট।
- আইপিএল: কোটি টাকার লিগে তুলে নিয়েছেন ১২টি অমূল্য উইকেট।
যেখানে মাঠে নেমে নিয়মিত উইকেট নিচ্ছেন শামি, সেখানে বয়স বা ফিটনেসের দোহাই দিয়ে তাঁকে ছেঁটে ফেলা কতটা যুক্তিযুক্ত, তা নিয়ে ক্রিকেট বিশেষজ্ঞ ও ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে ক্ষোভ পুঞ্জীভূত হচ্ছে। রনজিতে ৬০ উইকেট নেওয়া আকিব নবির মতো বোলাররাও যেখানে জাতীয় দলের বাইরে, সেখানে পারফর্ম করেও শামির এই পরিণতি ভারতীয় দল নির্বাচন প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিল।
এক নজরে শামির সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স:
| টুর্নামেন্ট/সিরিজ | ম্যাচ সংখ্যা | অর্জিত উইকেট |
| রনজি ট্রফি (Ranji Trophy) | ৭টি ম্যাচ | ৩৭টি উইকেট (সেমিফাইনালে ৮ উইকেট) |
| বিজয় হাজারে ট্রফি (Vijay Hazare) | – | ১৫টি উইকেট |
| আইপিএল (IPL) | – | ১২টি উইকেট |
বিশ্বের যে কোনো দলের বোলিং আক্রমণকে একা হাতে ভেঙে দেওয়ার ক্ষমতা রাখা মহম্মদ শামি হয়তো আর কোনোদিন টিম ইন্ডিয়ার নীল জার্সিতে মাঠে নামতে পারবেন না। বিসিসিআইয়ের তরুণদের সুযোগ দেওয়ার এই নীতির মাঝে ভারতের অন্যতম সেরা ম্যাচ উইনারের এমন নীরব বিদায় নিশ্চিতভাবেই ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য বেদনাদায়ক।






