সপ্তাহে ৭০ ঘণ্টা কাজের ‘নিদানে’ বড় ধাক্কা! শ্রম আইন না মানায় ফ্রান্সে ২ কোটি টাকার বিপুল জরিমানা ইনফোসিসকে

তরুণ সমাজকে অলসতা ঝেড়ে ফেলে সপ্তাহে অন্তত ৭০ ঘণ্টা কাজ করার পরামর্শ দিয়েছিলেন ইনফোসিসের সহ-প্রতিষ্ঠাতা এন আর নারায়ণমূর্তি। তাঁর সেই বিতর্কিত নিদান নিয়ে গোটা দেশে শোরগোল পড়ে গিয়েছিল। কিন্তু ভারতের প্রেক্ষাপটে মুখ বুজে অতিরিক্ত খাটুনি মেনে নেওয়া হলেও, ইউরোপের দেশ ফ্রান্সে গিয়ে সেই নীতি খাটাতে গিয়েই বড় বিপাকে পড়ল তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা ইনফোসিস। ফরাসি শ্রম আইন ভঙ্গের দায়ে সরাসরি শাস্তির মুখে পড়ল ভারতের এই দ্বিতীয় বৃহত্তম আইটি জায়ান্ট।
ফরাসি কর্তৃপক্ষের কড়া পদক্ষেপ: কী এই বিতর্ক?
ফ্রান্সের আঞ্চলিক শ্রম ও কর্মসংস্থান সংস্থা ’দ্রিইতস ইলে দে ফ্রঁস’ (DRIEETS Île-de-France) সম্প্রতি ইনফোসিসের বিরুদ্ধে তদন্ত চালায়। ফরাসি শ্রম আইন অনুসারে কোনো কর্মী সপ্তাহে ৩৫ ঘণ্টার বেশি শ্রম দিতে পারেন না। কিন্তু তথ্যানুসারে, ইনফোসিসের কাজের সিস্টেম ও কর্মঘণ্টার যে হিসাব রেকর্ড করা হচ্ছিল, তাতে আইন লঙ্ঘনের পাশাপাশি মারাত্মক ত্রুটি ও অসচ্ছতা ধরা পড়ে।
যার জেরেই কড়া পদক্ষেপ নিয়ে সংস্থাটিকে ১৭৫,০০০ ইউরো জরিমানা করে ফরাসি শ্রম প্রশাসন। এই ঘটনার বিবরণ দিয়ে স্টক এক্সচেঞ্জ (BSE)-কে লিখিতভাবে বিষয়টি জানিয়েছে ইনফোসিস কর্তৃপক্ষ।
[ফ্রান্স শ্রম আইন বনাম ইনফোসিস বিতর্ক]
* ফরাসি আইন: সপ্তাহে নির্দিষ্ট ৩৫ ঘণ্টা কাজ, উইকএন্ড বা ছুটির দিনে মেল/ফোন করা বেআইনি।
* নারায়নমূর্তির পরামর্শ: সপ্তাহে ৭০ ঘণ্টা কাজের পক্ষে সওয়াল।
* শাস্তিমূলক পদক্ষেপ: DRIEETS কর্তৃক ১৭৫,০০০ ইউরো (₹২ কোটি) জরিমানা।
ইনফোসিসের প্রতিক্রিয়া
ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর শেয়ার বাজার ও বিনিয়োগকারীদের আশ্বস্ত করে ইনফোসিসের তরফে জানানো হয়, এই জরিমানায় সংস্থার সামগ্রিক ব্যবসা বা আর্থিক স্থিতিশীলতায় কোনো মারাত্মক প্রভাব বা বিপর্যয় আসবে না। তবে ইউরোপীয় দেশে তাদের ট্র্যাকিং সিস্টেম ও কর্মসংস্থান আইনের সাথে তারা সামঞ্জস্য রক্ষা করে চলার চেষ্টা করছে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় মিমের ঝড় ও নেটিজেনদের প্রতিক্রিয়া
খবরটি প্রকাশ্যে আসতেই নেটদুনিয়ায় দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছে মিম ও রিল। বিশেষ করে নারায়ণমূর্তির ৭০ ঘণ্টা কাজের তত্ত্বকে কটাক্ষ করে পোস্ট করতে ছাড়ছেন না ভারতীয় নেটিজেনরা।
একজন এক্স (টুইটার) ব্যবহারকারী লিখেছেন—
“কর্মীদের রক্ত জল করানো বন্ধ হোক। সময় এভাবেই শিক্ষা দেয়। পরিস্থিতি বিচার না করে অন্যদের ওপর অতিরিক্ত কাজের চাপ চাপানোর নাম নেতৃত্ব নয়। আশা করি নারায়ণমূর্তি এবার নিজের বক্তব্য পুনর্বিবেচনা করবেন।”
অন্য একজন লিখেছেন—
“ভারতে শ্রম আইন দুর্বল বলেই কর্পোরেটরা সপ্তাহে ৬ দিন খেটিয়ে নেয়। ইউরোপের শ্রম আইনকে ধন্যবাদ, ওরা অন্তত মানুষের সুস্বাস্থ্য ও লাইফ-ব্যালেন্সকে মর্যাদা দিতে জানে।”
এক নজরে ইনফোসিসের জরিমানা সংক্রান্ত তথ্য:
| বিষয় | বিস্তারিত তথ্য |
| জরিমানাকারী সংস্থা | DRIEETS Île-de-France (ফরাসি শ্রম কর্তৃপক্ষ) |
| জরিমানার পরিমাণ | ১৭৫,০০০ ইউরো (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ২ কোটি টাকা) |
| মূল অভিযোগ | কর্মীদের কাজের সময় রেকর্ডিংয়ে ত্রুটি ও ৩৫ ঘণ্টার আইনি কাজের সীমা লঙ্ঘন |
| ইনফোসিসের দাবি | আর্থিক বা কার্যকারী দিক থেকে এতে কোনো বড় ক্ষতি হবে না |
নারায়ণমূর্তির ‘৭০ ঘণ্টার কাজের তত্ত্ব’ ভারতে যতই করপোরেট মহলে আলোচিত হোক না কেন, ইউরোপের মাটিতে কর্মীদের অধিকার ও শ্রম আইন যে অত্যন্ত কঠোর, তা এই ২ কোটি টাকার জরিমানায় স্পষ্ট বুঝিয়ে দিল ফ্রান্স।






