কেঁপে উঠল জাপান! ৭.১ মাত্রার বিধ্বংসী ভূমিকম্পে গুঁড়িয়ে গেল শপিং মল ও বসতবাড়ি, মৃত অন্তত ১৮, জারি সুনামি সতর্কতা

ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ হিসেবে পরিচিত হলেও মঙ্গলবার বিকালের তাণ্ডব স্তব্ধ করে দিয়েছে জাপানকে। প্রশান্ত মহাসাগরের তলদেশে সৃষ্ট শক্তিশালী কম্পনের প্রভাবে দক্ষিণ জাপানের বিস্তীর্ণ অঞ্চল রাতারাতি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। কম্পনের পরেই বিশাল সমুদ্র তরঙ্গ বা সুনামির আশঙ্কায় উপকূল ছাড়ছেন হাজার হাজার বাসিন্দা।
কুমামোতোয় ধ্বংসলীলা ও ‘আয়ন মল’-এ প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা
মঙ্গলবার বিকেলের এই ৭.১ মাত্রার ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কুমামোতো এলাকা। একাধিক বসতবাড়ির সাথে গুঁড়িয়ে গিয়েছে রাস্তাঘাট ও শপিং সেন্টার।
সবচেয়ে ভয়াবহ চিত্র সামনে এসেছে কাশিমা শহরের জনপ্রিয় ‘আয়ন মল’ (Aeon Mall) থেকে। ভূমিকম্পের সময় মলে হাজার হাজার ক্রেতা কেনাকাটায় ব্যস্ত ছিলেন। কম্পনের ধাক্কায় মলের দোতলার একটি বড় অংশ ধসে পড়ে, ফলে বহু মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়েন। উদ্ধারকারী দল দ্রুত তৎপরতা চালিয়ে প্রায় ৩,০০০ মানুষকে মলের পার্কিং লটে নিরাপদে সরিয়ে নিয়ে যেতে সক্ষম হলেও, পরবর্তীতে মলের অন্য একটি অংশে আকস্মিক গ্যাস বিস্ফোরণ ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, বিস্ফোরণের তীব্রতা পুরো শহরকে কাঁপিয়ে দিয়েছিল।
[জাপান ভূমিকম্পের মূল তথ্য]
* রিখটার স্কেলে মাত্রা: ৭.১।
* কেন্দ্রস্থল: কিউশু দ্বীপের কুমামোতো অঞ্চল (প্রশান্ত মহাসাগরের ১০ কিমি গভীরে)।
* প্রাণহানি: ১৮ জন নিশ্চিত মৃত, ৬২ জন আশঙ্কাজনকভাবে আহত।
* ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা: নাগাসাকি, কাগোশিমা, ফুকুওকা, সাগা, ওইতা, মিয়াজাকি।
সুনামি জারি ও পারমাণবিক কেন্দ্রে উচ্চ সতর্কতা
ভূমিকম্পের পর সমুদ্রের জল আচমকা অস্বাভাবিকভাবে ফুটতে ও উত্তাল হতে শুরু করায় কালবিলম্ব না করে সুনামি সতর্কতা জারি করে জাপান আবহাওয়া দফতর। কিউশু দ্বীপের উপকূলে অবস্থিত নাগাসাকি, ফুকুওকা, কাগোশিমা, সাগা, ওইতা এবং মিয়াজাকি অঞ্চলের সাধারণ মানুষকে অবিলম্বে নিরাপদ ও উঁচুতে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী।
এর পাশাপাশি জাপানের সমস্ত পারমাণবিক চুল্লি ও বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলিতে বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
২০১১ ফুকুশিমা ট্র্যাজেডির স্মৃতির পুনরাবৃত্তি?
এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ স্বাভাবিকভাবেই ২০১১ সালের তোহোকু উপকূলের সেই মর্মান্তিক স্মৃতি উস্কে দিয়েছে। ২০১১ সালে ৯.০ মাত্রার বিধ্বংসী ভূমিকম্পের ফলে সৃষ্ট সুনামিতে ফুকুশিমা দাইইচি পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের তিনটি চুল্লি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, যা চের্নোবিলের পর বিশ্বের সবচেয়ে বড় পারমাণবিক বিপর্যয় ডেকে এনেছিল। সেই ঘটনার পর জাপান সরকার তাদের দেশের সমস্ত ৫৪টি পরমাণু চুল্লি বন্ধ করে দিয়েছিল। পরবর্তীতে জ্বালানি সংকট মেটাতে অল্প কিছু চালু করা হলেও, আজকের ঘটনার পর পুনরায় দেশের সকল পারমাণবিক কেন্দ্রের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
এক নজরে ভূমিকম্প ও সুনামির ক্ষয়ক্ষতি:
| বিষয় | বিবরণ |
| কম্পনের মাত্রা | ৭.১ (রিখটার স্কেলে) |
| আক্রান্ত মূল অঞ্চল | কুমামোতো, কিউশু দ্বীপ, জাপান |
| মৃত ও আহত | মৃত: অন্তত ১৮ জন, আহত: ৬২+ জন |
| প্রধান ক্ষতিগ্রস্ত কেন্দ্র | আয়ন মল (কাশিমা শহর) |
| সুনামি অ্যালার্ট প্রাপ্ত এলাকা | নাগাসাকি, ফুকুওকা, কাগোশিমা, সাগা, ওইতা, মিয়াজাকি |
ভূমিকম্পের ধাক্কা সামলানোর পাশাপাশি এখন জাপানের প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো সম্ভাব্য সুনামির হাত থেকে উপকূলীয় বাসিন্দাদের রক্ষা করা এবং আটকে পড়া মানুষদের ধ্বংসস্তূপ থেকে দ্রুত উদ্ধার করা। জাপানি প্রশাসন ও উদ্ধারকারী দল পূর্ণ শক্তিতে ময়দানে নেমেছে।






