সস্তায় থাইল্যান্ড ভ্রমণের টোপ! ব্যাংককে ৩ ভারতীয় তরুণকে অপহরণ করে বেধড়ক মার, ৭০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি

বিদেশে ঘুরতে যাওয়ার আকর্ষণ এবং বাজেট ফ্রেন্ডলি প্যাকেজের ফাঁদে পড়ে জীবনে নেমে এল চরম দুঃস্বপ্ন! কম খরচে থাইল্যান্ড ঘুরে আসার টোপ গিলে আন্তর্জাতিক কিডন্যাপিং ও সাইবার সিন্ডিকেটের ফাঁদে পড়লেন ভারতের তিন তরুণ। বিদেশের মাটিতে বন্দি বানিয়ে হাত-পা বেঁধে অমানবিক অত্যাচারের পাশাপাশি তাঁদের পরিবারের থেকে ৭০ লাখ টাকার বিশাল মুক্তিপণ দাবি করে দুষ্কৃতীরা।
কীভাবে পাতা হয়েছিল ফাঁদ?
গোপন সূত্রে জানা গিয়েছে, একটি আন্তর্জাতিক অপরাধ চক্র নিজেদের ভুয়া ভ্রমণ সংস্থার (Travel Agency) প্রতিনিধি হিসেবে পরিচয় দিয়ে অত্যন্ত সস্তায় থাইল্যান্ড ঘোরার আকর্ষনীয় প্যাকেজ অফার করে।
সেই আকর্ষণীয় প্যাকেজের ফাঁদে পা দিয়েগত ২১ জুলাই ভোর ৫টা নাগাদ থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের সুবর্ণভূমি বিমানবন্দরে পৌঁছন ওই তিন ভারতীয় তরুণ। বিমানবন্দর থেকে একটি ট্যাক্সি ভাড়া করে তাঁরা পাটায়ার উদ্দেশ্যে রওনা হন। অপরাধীরা তাঁদের আগে থেকেই নির্দেশ দিয়েছিল নংপ্রু-র সুখুমভিট হাইওয়ের কাছের একটি নির্দিষ্ট রেস্তরাঁয় দেখা করার জন্য।
সকাল ৭টা নাগাদ তাঁরা সেই নির্ধারিত স্থানে পৌঁছলে, তাঁদের হোটেলে পৌঁছে দেওয়ার অজুহাতে ট্যাক্সিতে তুলে একটি অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই এক বাড়িতে তাঁদের বন্দি করে ফেলে অপহরণকারীরা।
[ঘটনার ধারাবাহিকতা]
* ২১ জুলাই (ভোর ৫:০০): ব্যাংকক বিমানবন্দরে অবতরণ।
* ২১ জুলাই (সকাল ৭:০০): নংপ্রুর সুখুমভিট হাইওয়ের কাছে অপরাধীদের সাথে সাক্ষাৎ।
* অপহরণ ও অত্যাচার: হোটেলে নিয়ে যাওয়ার নাম করে ফাঁকা বাড়িতে বন্দি, হাত-পা বেঁধে মারধর।
* চাওয়া মুক্তিপণ: পরিবারের কাছে প্রায় ৭০ লক্ষ টাকা।
বিদেশে ট্র্যাকিং এড়িয়ে মুক্তিপণ আদায়ের ছক
তরুণদের আটকে রেখেই ক্ষান্ত হয়নি অপরাধীরা; তাঁদের হাত-পা বেঁধে অমানুষিক অত্যাচার চালানো হয় যাতে পরিবারকে ভয় দেখানো যায়। এরপর পরিবারের কাছে হুমকি ফোন করে প্রায় ৭০ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়।
ঘটনায় ঘাবড়ে না গিয়ে অপহৃতদের পরিবার অবিলম্বে সাহায্য চেয়ে থাই পুলিশের দ্বারস্থ হয়। থাইল্যান্ড পুলিশের বিশেষ গোয়েন্দা দল তদন্তে নেমে জানতে পারে, নিজেদের আসল অবস্থান লুকাতে অপরাধীরা দুবাই ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর (UAE) আন্তর্জাতিক সিম কার্ড ব্যবহার করে ভয়েস ওভার ইন্টারনেট কল বা মেসেজ পাঠাচ্ছিল।
থাই পুলিশের হাই-ভোল্টেজ ড্রামা ও গ্রেপ্তার
অপরাধীদের প্রযুক্তিগত চালাকি সত্ত্বেও থাই পুলিশ সাইবার ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে তাদের আস্তানা খুঁজে বের করে। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে প্রথম আস্তানা থেকে চম্পট দেয় অপরাধীরা।
এরপর থাইল্যান্ড জুড়ে চিরুনি তল্লাশি ও রেড অ্যালার্ট জারি করে পুলিশ। মঙ্গলবার অবশেষে মূল অভিযুক্তদের জালে তোলে থাই পুলিশ। উদ্ধার করা হয় তিন ভারতীয় তরুণকে। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া ৫ জনই ভারতীয় নাগরিক। তবে এই আন্তর্জাতিক পাচার ও কিডন্যাপিং চক্রে যুক্ত এক পাকিস্তানি নাগরিক এখনও পলাতক, যার খোঁজে তল্লাশি জারি রয়েছে।
এক নজরে অপহরণ কান্ডের বিস্তারিত:
| বিষয় | বিবরণ |
| ঘটনাস্থল | ব্যাংকক ও পাটায়া (নংপ্রু অঞ্চল), থাইল্যান্ড |
| শিকার | ৩ জন ভারতীয় পর্যটক/তরুণ |
| দাবিকৃত মুক্তিপণ | প্রায় ৭০ লক্ষ টাকা |
| অপরাধের ধরণ | ভুয়া ট্রাভেল প্যাকেজের টোপ দিয়ে অপহরণ ও অত্যাচার |
| গ্রেপ্তার ও বর্তমান অবস্থা | ৫ জন ভারতীয় দুষ্কৃতী ধৃত, ১ পাকিস্তানি চক্রান্তকারী পলাতক |
ভ্রমণে যাওয়ার আগে ট্রাভেল এজেন্সির সত্যতা যাচাই না করা এবং অতিরিক্ত সস্তা প্যাকেজের লোভ যে কতটা বিপদ ডেকে আনতে পারে, থাইল্যান্ডের এই ঘটনাটি আরও একবার তা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল। বিদেশে ভ্রমণের সময় যেকোনো অনিবন্ধিত সংস্থা ও অপরিচিত ব্যক্তির থেকে সাবধান থাকা অত্যন্ত জরুরি।






