“দিল্লি থেকে আগেই সতর্কতা ছিল, বাংলার স্বার্থে ওকে রক্ষা করুন!” শুভেন্দুর নিরাপত্তায় উদ্বেগ প্রকাশ বাবা শিশির অধিকারীর

বর্ধমান থেকে জইশ-ই-মহম্মদ মডিউলের সক্রিয় সদস্য হামিম মণ্ডল গ্রেপ্তার হতেই ফাঁস হয়েছে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে খুনের ভয়ংকর ষড়যন্ত্র। এই ঘটনার পরই পুত্র শুভেন্দুর সুরক্ষায় তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তাঁর পিতা তথা প্রাক্তন সাংসদ শিশির অধিকারী। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের সতর্কবার্তা এবং অতীতের একাধিক প্রাণঘাতী আক্রমণের ইতিহাস স্মরণ করিয়ে দিয়ে শিশিরবাবু পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূয়সী প্রশংসা করার পাশাপাশি ছেলেকে বাঁচানোর ব্যাকুল আর্জি জানান।
“দিল্লি থেকে দেড়-দুই মাস ধরে লাগাতার বার্তা আসছিল”
শুভেন্দুর ওপর হামলার আন্তর্জাতিক চক্রান্ত সম্পর্কে কথা বলতে গিয়ে শিশির অধিকারী খোলসা করেন যে, এই তথ্য নতুন নয়।
তিনি বলেন—
“দিল্লি থেকে আমাদের গত দেড়-দু’মাসে বারে বারে অ্যালার্ট করা হয়েছে যে পাকিস্তান, বাংলাদেশ— এসব জায়গা দিয়ে প্যাসেজ করে কেউ না কেউ ঢুকেছে। ওদের কাছে সেরকম পাকা খবর ছিল। আজকে রাজ্য পুলিশ (এসটিএফ) যে জইশ জঙ্গিকে ধরল, তাতেই প্রমাণিত হয়ে গেল যে কেন্দ্রের দেওয়া সেই খবরগুলো একদম ঠিক ছিল।”
অতীতের আক্রমণ ও শুভেন্দুর স্বভাব নিয়ে উদ্বেগ
শুভেন্দু অধিকারীর ওপর হামলার চক্রান্ত নতুন নয় বলে উল্লেখ করেন তাঁর পিতা। অতীতেও কীভাবে অলৌকিকভাবে তিনি বেঁচে ফিরেছেন, তার কয়েকটি ঘটনা তিনি সামনে আনেন।
- বাথরুম ভেঙে হামলা: একবার এক আততায়ী বাথরুম ভেঙে ভেতরে ঢুকে পড়েছিল। সেদিন ছোট ছেলে (বর্তমান সাংসদ) সৌমেন্দু অধিকারী তাকে আটকে দেন।
- ছুরি নিয়ে তিনতলায় চড়াও: অন্য একটি ঘটনায় এক দুষ্কৃতী ছুরি নিয়ে বাড়ির তিনতলায় উঠে পড়েছিল, যাকে পরে ধরে ফেলা হয়।
নিরাপত্তা মেনে চলার ক্ষেত্রে শুভেন্দুর স্বভাব তুলে ধরে শিশিরবাবু আক্ষেপ করে বলেন—
“পুলিশের ইনস্ট্রাকশন অনুযায়ী ওর যেভাবে চলা দরকার, ও তা শোনে না। মুশকিল হচ্ছে এখানেই। সিআরপিএফ এবং সেন্ট্রাল ফোর্স ওকে খুব প্রাক্টিকালি গার্ড দিয়ে রাখে। কিন্তু ও মানুষের লোক, মানুষের মাঝেই ছিটকে বেরিয়ে যেতে চায়। এটাই এখন আমাদের আসল ভয়।”
[শিশির অধিকারীর বক্তব্য ও অতীতের অভিজ্ঞতার মূল পয়েন্ট]
* কেন্দ্রের অ্যালার্ট: পাকিস্তান ও বাংলাদেশ সীমান্ত দিয়ে উগ্রপন্থীদের অনুপ্রবেশের আগাম খবর।
* অতীত অভিজ্ঞতার কথা: বাথরুম ভেঙে ও ছুরি নিয়ে বাড়িতে দুষ্কৃতী হামলা নস্যাৎ করেছিলেন সৌমেন্দু অধিকারী।
* বর্তমান আর্জি: "ঘর ছেড়ে বেরোলে পুলিশই আমাদের রক্ষক। বাংলার স্বার্থে শুভেন্দুকে রক্ষা করুন।"
“পরিবারকে ধ্বংস করার চক্রান্ত সফল হবে না”
রাজনৈতিক প্রতিহিংসার প্রসঙ্গ তুলে শিশির অধিকারী বলেন, তাঁদের পরিবারকে ধ্বংস করতে বহু চেষ্টা চালানো হয়েছে। কংগ্রেস ছাড়ার পর পরিবারের নামে প্রায় ১৪৯টি মামলা এবং পরবর্তীতে অন্যান্য রাজনৈতিক বিরোধিতার কারণে ২০০ বার হাইকোর্টের দ্বারস্থ হতে হয়েছিল। পুরনো মামলা বের করে অন্দরে পুরে দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও সত্যের জয় হয়েছে।
অবশ্য জইশ জঙ্গি গ্রেপ্তারির পেছনে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ ও এসটিএফের ভূমিকার মুক্তকণ্ঠে প্রশংসা করে তিনি বলেন, “বর্তমান সরকারের পুলিশকে ধন্যবাদ জানাব, তাঁরা মুখ্যমন্ত্রীকে রক্ষা করেছেন। ষড়যন্ত্রকারীদের চক্রান্ত বেশিদিন টিকবে না।”
এক নজরে নিরাপত্তা সংক্রান্ত তথ্য:
| বিষয় | তথ্য / বিবরণ |
| বক্তা | প্রবীণ রাজনীতিক শিশির অধিকারী (শুভেন্দু অধিকারীর পিতা) |
| কেন্দ্রীয় ইনপুট | বাংলাদেশ ও পাকিস্তান সীমান্ত দিয়ে জঙ্গি অনুপ্রবেশের আগাম সতর্কতা |
| নিরাপত্তা বলয় | পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ (STF) ও কেন্দ্রীয় সিআরপিএফ (CRPF) বাহিনী |
| প্রধান বার্তা | পুলিশি সতর্কবার্তা মেনে চলার আহ্বান ও নিরাপত্তার আর্জি |
সীমান্ত পার থেকে তৈরি হওয়া এই আন্তর্জাতিক জঙ্গি চক্রান্তে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নিরাপত্তা এখন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারের বিষয়। পরিবারের আশঙ্কা এবং প্রবীণ পিতা শিশির অধিকারীর কাতর আর্জির পর, শুভেন্দুর ভিআইপি নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কতটা আঁটসাঁট করা হয়, এখন সেটাই দেখার।






