নেতাজি নিয়ে মন্তব্যে বঙ্গবিভূষণ হাতছাড়া! অবশেষে সোশাল মিডিয়ায় ক্ষমা চাইলেন অনন্ত মহারাজ

নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু সম্পর্কে আপত্তিকর ও বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে রাজ্যসভার বিজেপি সাংসদ নগেন্দ্র রায় ওরফে অনন্ত মহারাজকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে তুমুল শোরগোল তৈরি হয়েছে। রাজ্য সরকার তাঁর ‘বঙ্গবিভূষণ’ সম্মান ফিরিয়ে নেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নিজের সুর বদলে সোশাল মিডিয়ায় ক্ষমা প্রকাশ করেছেন তিনি।
ঠিক কী বলেছিলেন অনন্ত মহারাজ?
কোচবিহারের রাজপরিবারের ভূমিকা তুলে ধরতে গিয়ে অনন্ত মহারাজ দাবি করেছিলেন যে, কোচবিহারের মহারাজা যুদ্ধ করে হিটলার এবং আজাদ হিন্দ ফৌজকে পরাজিত করেছিলেন।
তাঁর কথায়, জার্মানির হাতে বন্দি হওয়া ব্রিটিশ ভারতীয় সেনাদের নেতাজির হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল এবং নেতাজি সেই সুযোগের অপব্যবহার করেছিলেন। শুধু তা-ই নয়, তিনি বলেন যে আজ কেউ সরকারের বিরুদ্ধে অস্ত্র তুলে নিলে তাকে এনকাউন্টার করা হতো, যা নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়।
[অনন্ত মহারাজের বক্তব্য ও পরিণাম সংক্ষেপ]
* বিতর্কিত মন্তব্য: হিটলার ও আজাদ হিন্দ ফৌজকে কোচবিহারের রাজা হারিয়েছিলেন এবং নেতাজি সুযোগের অপব্যবহার করেন।
* সরকারের পদক্ষেপ: রাজ্য সরকার প্রাপ্ত 'বঙ্গবিভূষণ' সম্মান প্রত্যাহার করে নেয়।
* চূড়ান্ত পরিণতি: ফেসবুকে ভিডিও পোস্ট করে অনিচ্ছাকৃত ভুলের জন্য প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনা।
রাজ্য সরকারের কড়া পদক্ষেপ ও বঙ্গবিভূষণ প্রত্যাহার
নেতাজিকে নিয়ে এই ধরনের মন্তব্যের বিরুদ্ধে রাজ্য জুড়ে তীব্র জনরোষ তৈরি হয়। নেতাজির অপমান বরদাস্ত করা হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয় এবং কঠিন শাস্তির হুঁশিয়ারি আসে।
এরপরই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জমানায় অনন্ত মহারাজকে দেওয়া রাজ্যের সর্বোচ্চ সম্মান ‘বঙ্গবিভূষণ’ বৃহস্পতিবার ফিরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
আত্মপক্ষ সমর্থন ও অবশেষে নতিস্বীকার
বঙ্গবিভূষণ কেড়ে নেওয়ার পর প্রথমে অনন্ত মহারাজ আত্মপক্ষ সমর্থন করে দাবি করেছিলেন যে, তিনি ইতিহাসের পাতায় যা রয়েছে সেটাই বলেছেন এবং কাউকে অপমান করেননি।
তবে বিতর্কের উত্তাপ বাড়তে থাকায় এবং রাজনৈতিক চাপে পড়ে অবশেষে সুরবদল করেন তিনি। ফেসবুকে এক ভিডিও বার্তায় অনন্ত মহারাজ বলেন:
“নেতাজির প্রতি সম্মান জানিয়ে বলছি, নেতাজি সম্পর্কে আমার অনিচ্ছাকৃত কিছু বক্তব্যের জন্যে কেউ যদি মানসিকভাবে আঘাত পেয়ে থাকেন, তার জন্য আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত।”
এক নজরে অনন্ত মহারাজ বিতর্ক:
| বিষয় | বিবরণ / তথ্য |
| প্রধান ব্যক্তিত্ব | অনন্ত মহারাজ (নগেন্দ্র রায়), রাজ্যসভার বিজেপি সাংসদ |
| বিতর্কের বিষয় | নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু ও আজাদ হিন্দ ফৌজ সম্পর্কে বিতর্কিত মন্তব্য |
| রাজ্য সরকারের আইনি/প্রশাসনিক পদক্ষেপ | বঙ্গবিভূষণ সম্মান ফিরিয়ে নেওয়া |
| বর্তমান স্থিতি | সোশাল মিডিয়ায় ভিডিও বার্তার মাধ্যমে ক্ষমা প্রকাশ |
বাঙালি আবেগ ও দেশনায়ক নেতাজির অপমান নিয়ে রাজকীয় সুর চড়ালেও বঙ্গবিভূষণ হাতছাড়া হওয়া এবং সর্বস্তরের চাপের মুখে পড়ে শেষ পর্যন্ত ক্ষমা চাইতেই বাধ্য হলেন অনন্ত মহারাজ।






