কলকাতা ও উত্তরবঙ্গে ISI-এর ‘ঘাঁটি’ বানানোর ছক! ঢাকা পালানোর আগেই গ্রেফতার পাক চর রানা রউফ

রাজ্যে পাক গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই (ISI)-এর এক বড়সড় চক্রের পর্দাফাঁস করল রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (STF)। শিলিগুড়িকে মূল ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করে উত্তরবঙ্গ ও কলকাতায় চরবৃত্তির নেটওয়ার্ক বা ‘এসপিওনেজ সেল’ তৈরি করছিল পাক চর রানা রউফ খালিদ। চূড়ান্ত রিপোর্ট দিতে ঢাকায় হয়ে করাচি ও পাকিস্তানের ইসলামাবাদে আইএসআই সদর দপ্তরে পৌঁছানোর কথা ছিল তার। তবে বাংলাদেশে চম্পট দেওয়ার ঠিক আগেই রাজ্য পুলিশের জালে ধরা পড়ল সে।
কীভাবে তৈরি হচ্ছিল চরবৃত্তির ‘এসপিওনেজ সেল’?
গোয়েন্দা সূত্রে জানা গিয়েছে, পাকিস্তানের ইসলামাবাদ থেকে সরাসরি নির্দেশ পেত রানা। সোশাল মিডিয়া মারফত এবং সরাসরি নতুন এজেন্ট নিয়োগের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল তাকে। তদন্তকারীদের বিভ্রান্ত করতে এবং নিজের পরিচয় লোকোতে কাঠমান্ডুতে বসে শিলু নামের এক নেপালি তরুণীকে বিয়েও করেছিল সে।
[পাক চরের আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক সংক্ষেপ]
* মূল কেন্দ্র: শিলিগুড়ি, উত্তরবঙ্গ ও কলকাতা।
* পরিকল্পনা: এসপিওনেজ সেল তৈরি, নতুন এজেন্ট নিয়োগ ও জঙ্গি মডিউল সক্রিয় করা।
* আন্তর্জাতিক রুট: নেপাল (কাঠমান্ডু) ➔ ভারত (বাংলা) ➔ বাংলাদেশ (ঢাকা) ➔ পাকিস্তান (করাচি/ইসলামাবাদ)।
* গ্রেফতারি: বনগাঁ সীমানার কাছে হাবড়া (রানা) ও কলকাতা (মহম্মদ ইজাজ)।
ঢাকায় বিমান ধরে করাচি পালানোর পরিকল্পনা
অভিযুক্ত রানার মূল লক্ষ্য ছিল চলতি শনিবারে ঢাকার পাক দূতাবাসের এক আধিকারিকের সাহায্যে ঢাকা থেকে করাচি উড়ে যাওয়া। সেখান থেকে ইসলামাবাদের ‘সেক্টর সেভেন’-এ অবস্থিত আইএসআই-এর প্রধান কার্যালয়ে যাওয়ার কথা ছিল তার।
আইএসআই শীর্ষ আধিকারিকদের কাছে ‘এসপিওনেজ সেল’-এর পুঙ্খানুপুঙ্খ রিপোর্ট জমা দেওয়া এবং সীমান্তবর্তী এলাকায় বিএসএফ (BSF) ক্যাম্প বা সেনাশিবিরে জঙ্গি হামলা চালানোর নীলক নকশা নিয়ে আলোচনা করাই ছিল তার উদ্দেশ্যে।
নেপাল যোগসূত্র ও আন্তর্জাতিক সিমকার্ড ব্যবহার
হাবড়া থেকে রানা ও কলকাতা থেকে তার সঙ্গী মহম্মদ ইজাজ গ্রেফতার হতেই উঠে এসেছে একের পর এক চমকপ্রদ তথ্য।
- হোয়াটসঅ্যাপ কল ও সিমকার্ড: কাঠমান্ডুতে বসে আন্তর্জাতিক সিম ধারণকারী পাঁচজন আইএসআই এজেন্টের (কাশিফ, হানিফ চৌধুরী, সোহেল, জেডি ও হারুন সফদার) সাথে যোগাযোগ রাখত রানা।
- শিলিগুড়ির সিম: জাল নথিতে শিলিগুড়ি থেকে দুটি স্থানীয় সিমকার্ডও জোগাড় করেছিল সে। যদিও নেপালেই নিজের ব্যবহৃত ফোনটি ভেঙে ফেলে রানা। ইতিমধ্যেই শিলিগুড়ির বেশ কয়েকজন সিম বিক্রেতাকে জেরা করা শুরু করেছেন গোয়েন্দারা।
এক নজরে আইএসআই এজেন্ট রানা রউফ খালিদ বিতর্ক:
| বিষয় | বিবরণ / তথ্য |
| ধৃত প্রধান অভিযুক্ত | রানা রউফ খালিদ (পাকিস্তানি নাগরিক) ও মহম্মদ ইজাজ |
| তদন্তকারী সংস্থা | পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (STF) |
| মূল চক্রান্তের কেন্দ্র | শিলিগুড়ি, উত্তরবঙ্গ ও কলকাতা[cite: 1] |
| টার্গেট | সেনা ছাউনি, বিএসএফ ক্যাম্প ও আন্তর্জাতিক সীমান্ত নিরাপত্তা[cite: |
পাক চর রানা রউফ খালিদ গ্রেফতার হওয়ায় আপাতত রাজ্যে এক বড়সড় নাশকতার ছক বানচাল করা সম্ভব হলো[cite: 1]। তবে সে ইতিমধ্যে কতজনকে নিজের সেলে নিয়োগ করেছে এবং কাদের সাথে যুক্ত ছিল, তা জানতে তাকে টানা জিজ্ঞাসাবাদ চালাচ্ছেন এসটিএফের শীর্ষ কর্তারা






