অন ডিউটি নার্স রূপালি বর্মনের রহস্যমৃত্যু! ২ কনুইয়ে সুচের দাগ, পাশে কড়া সিডেটিভের ৩ ভায়াল— খুনের নাকি আত্মহত্যার পথ?

কলকাতার অন্যতম নামী সরকারি হাসপাতাল নীলরতন সরকার (NRS) মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে কর্মরত এক অন-ডিউটি নার্সের আকস্মিক ও রহস্যজনক মৃত্যুতে চরম চাঞ্চল্য ও নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। মৃত নার্স রূপালি বর্মনের দেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে রহস্যের পর রহস্য ঘনীভূত হচ্ছে। শৌচাগার থেকে উদ্ধারের সময় তাঁর পাশে কড়া ডোজের সিডেটিভ ড্রাগের ভায়াল মিললেও, ইনকোয়েস্ট রিপোর্টে উঠে এসেছে দুই কনুইতেই সুচ ফোটানোর মতো চাঞ্চল্যকর তথ্য।
রাত সাড়ে ৯টা থেকে নিখোঁজ, দরজা ভেঙে উদ্ধার দেহ
বুধবার রাতে এনআরএসের গাইনি বিভাগের এইচডিইউ (HDU)-তে ডিউটিতে ছিলেন রূপালি বর্মন। ডিউটি চলাকালীনই রাত ৯টা ৩০ মিনিট নাগাদ হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে যান তিনি।
দীর্ঘ সময় তাঁর দেখা না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু হলে দেখা যায়, এইচডিইউ-এর শৌচাগারের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ রয়েছে। এরপর রাত ১১টা নাগাদ দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকা হলে তাঁকে অচৈতন্য অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
[ঘটনা ও তদন্তের গতিপথ]
* মৃতার নাম: রূপালি বর্মন (এনআরএস হাসপাতালের HDU নার্স)।
* উদ্ধারের স্থান ও সময়: গাইনি বিভাগের শৌচাগার; রাত ১১টা (দরজা ভেঙে)।
* উদ্ধারের সামগ্রী: ফেন্টানিল ও মিডাজোলামের ৩টি খালি ভায়াল।
* মূল রহস্য: আত্মহত্যার ঘটনা হলে কীভাবে একাধারে ২ কনুইয়ের শিরাতেই সুচের দাগ?
২ কনুইয়ে সুচের দাগ! আত্মহত্যার তত্ত্ব নাকি অন্য কিছু?
ঘটনাস্থল থেকে অচৈতন্য করার মতো কড়া অ্যানাস্থেটিক ওষুধ— ফেন্টানিল ও মিডাজোলামের ৩টি ভায়াল বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। তবে চিকিৎসকদের বড় একটি অংশের মতে, যদি এটি আত্মহত্যার ঘটনা হতো, তবে একজন মানুষ সাধারণত নিজের একটি হাতেই ইঞ্জেকশন প্রয়োগ করেন।
কিন্তু ইনকোয়েস্ট রিপোর্টে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, রূপালি বর্মনের দুটি কনুইতেই (Needle Prick) সুচ ফোটার দাগ রয়েছে। চিকিৎসকরা অনুমান করছেন, কনুইয়ের শিরায় জোরপূর্বক বা পরিকল্পনা করে কড়া ইঞ্জেকশন দেওয়া হয়ে থাকতে পারে। প্রাথমিক ময়নাতদন্তে মৃত্যুর কারণ স্পষ্ট না হওয়ায় বর্তমানে চূড়ান্ত ফরেনসিক ও প্যাথলজি রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে।
জামাই ও বান্ধবীর বয়ানে অমিল! মুখ খুললেন মৃতার বাবা
মেয়ের রহস্যমৃত্যুর খবরে স্তব্ধ পটাশপুরের কৃষক পরিবার। মৃতার বাবা অর্জুন বন্দ্যোপাধ্যায় সংবাদমাধ্যমের সামনে ক্ষোভ ও শঙ্কা প্রকাশ করে জানান:
“নাইট ডিউটি ছিল। রাত ১১.৩০ থেকে ১২টা নাগাদ ফোন আসে, জামাই ফোন করে বলছে মেয়ে আর নেই। আবার কিছুক্ষণ পর বলছে, আইসিইউ-তে রাখা হয়েছে। আবার কিছুক্ষণ পর সুরাইয়া (রূপালির বান্ধবী) ফোন করে বলল, রূপালি নেই। আমরা কিচ্ছু বুঝতে পারছি না, কীভাবে মৃত্যু হলো একটু দেখবেন। আমরা সঠিক তদন্ত চাইছি।”
কলকাতা মেডিক্যালে নিরপেক্ষ ময়নাতদন্ত
পরিবারের সংশয় ও স্বচ্ছতার কথা মাথায় রেখে রাজ্য সরকারের নির্দেশে এনআরএসের বদলে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের মর্গে ময়নাতদন্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান নিজে এই ময়নাতদন্ত প্রক্রিয়া পরিচালনা করছেন।
এক নজরে নার্স রূপালি বর্মন মৃত্যু মামলা:
| বিষয় | বিবরণ / তথ্য |
| মৃতার পরিচয় | রূপালি বর্মন (এনআরএস হাসপাতালের স্ত্রীরোগ বিভাগের নার্স) |
| উদ্ধার হওয়া ওষুধ | ফেন্টানিল ও মিডাজোলাম (৩টি খালি ভায়াল) |
| ইনকোয়েস্টের তথ্য | দুটি কনুইয়ের সংযোগস্থলেই সুচের দাগ (Needle Prick) |
| ময়নাতদন্তের স্থান | কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ (বিভাগীয় প্রধানের অধীনে) |
| স্বজনদের বক্তব্য | বাবা অর্জুন বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি |
হাসপাতাল চত্বরে অন-ডিউটি থাকা অবস্থায় একজন নার্সের এই ধরনের মৃত্যু চিকিৎসা ব্যবস্থার ভেতরে সুরক্ষাবলয় নিয়ে বিরাট প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। দুই কনুইয়ের সুচের দাগ আর বাজেয়াপ্ত হওয়া ফেন্টানিলের শিশি কি কোনো পরিকল্পিত অপরাধ ঢেকে দেওয়ার চেষ্টা, নাকি নেপথ্যে গভীর কোনো মানসিক যন্ত্রণা— তার স্পষ্ট উত্তর দেবে কলকাতা মেডিক্যালের ফরেনসিক রিপোর্ট ও পুলিশের তদন্ত






