মিষ্টি হাসির ‘সিস্টার দিদি’-র এমন পরিণত কেন? শৌচাগারে রহস্যমৃত্যু, ট্রলি সিজ করে তদন্তে নামল লালবাজারের হোমিসাইড টিম

সদা হাসিমুখ, রোগীদের পরম স্নেহে জড়িয়ে ধরা এক ‘সিস্টার দিদি’। অথচ বুধবার রাতে এনআরএস (NRS) মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের গাইনি বিভাগের শৌচাগারের ভেতর থেকে উদ্ধার হলো তাঁরই নিথর দেহ। দমদমের বাসিন্দা (মূল বাড়ি পূর্ব মেদিনীপুরের পটাশপুর) মাত্র এক বছর আগে বিয়ে হওয়া এই তরুণীর অকাল প্রয়াণ ঘিরে তৈরি হয়েছে চরম ধোঁয়াশা। দুর্ঘটনাবশত ওষুধ সেবন, আত্মহনন নাকি অন্য কোনও ষড়যাত— জট ছাড়াতে তৎপর পুলিশ।
রাত ৯টার পর থেকেই নিখোঁজ, দরজা ভেঙে উদ্ধার দেহ
বুধবার রাত ৮টায় গাইনি বিভাগের এইচডিইউ (HDU)-তে নাইট ডিউটিতে যোগ দিয়েছিলেন ওই নার্স। রাত ৯টা নাগাদ এক রোগীকে দেখার পরই শৌচাগারে যান তিনি।
এরপর দীর্ঘ সময় পার হলেও তিনি ফেরেননি। এক জুনিয়র ডাক্তার ডেথ সার্টিফিকেটের তথ্যের জন্য খোঁজ করতেই নজর আসে বিষয়টিতে। ডাকাডাকির পরও সাড়াশব্দ না পেয়ে শৌচাগারের দরজা ভাঙা হলে ভেতরে ঢলে পড়া অবস্থায় পাওয়া যায় তাঁকে।
[ঘটনার গতিপ্রকৃতি ও তদন্ত চিত্র]
* স্থান ও সময়: এনআরএস হাসপাতালের গাইনি বিভাগের HDU; বুধবার রাত ৯টার পর।
* উদ্ধার সামগ্রী: দেহের পাশে ইঞ্জেকশনের ভায়াল, তবে মেলেনি কোনও সুইসাইড নোট।
* ময়নাতদন্তের স্থান: মৃতার স্বামীর আর্জি মেনে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ।
* প্রশাসনিক পদক্ষেপ: শৌচাগার সিল, ব্যবহার করা ট্রলি সিজ ও লালবাজারের হোমিসাইড টিম মোতায়েন।
ওষুধ সঙ্গে নিয়ে বাথরুমে? প্রশ্ন অনেক, মেলেনি সুইসাইড নোট
তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, গাইনি বিভাগের ডিউটিতে থাকা ওই নার্স কি নিজেই ইঞ্জেকশনের ভায়াল নিয়ে শৌচাগারে গিয়েছিলেন? তাঁর পাশে ওষুধের খালি ভায়াল মিললেও উদ্ধার হয়নি কোনো সুইসাইড নোট (Suicide Note)।
তিনি কোনো কারণে মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন কি না, অথবা পারিবারিক জীবনে টানাপোড়েন ছিল কি না— তা জানতে তাঁর স্বামী, ভাই, সহকর্মী এবং রোগীদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে লালবাজার।
কলকাতা মেডিক্যালে ময়নাতদন্ত ও হোমিসাইড টিমের অ্যাকশন
নার্সের স্বামী এই মৃত্যুর কারণ নিয়ে গভীর সন্দেহ প্রকাশ করেন এবং এনআরএস হাসপাতালে ময়নাতদন্তে অনিচ্ছা প্রকাশ করেন। পরবর্তীতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী নিজে জানান যে, পরিবারের আর্জি মেনেই কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে দেহের ময়নাতদন্ত করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, ঘটনার গুরুত্ব বুঝে কলকাতা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ দমন) কুণাল আগরওয়াল এবং DC (পূর্ব শহরতলি) সুবিমল পালের নেতৃত্বে লালবাজারের হোমিসাইড টিম (Homicide Team) তদন্তে নেমেছে। ফরেনসিক টিম শৌচাগার সিল করে নমুনা সংগ্রহ করেছে এবং যে ট্রলিতে করে দেহ নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, সেটিও বাজেয়াপ্ত (Seize) করেছে পুলিশ।
এক নজরে এনআরএস নার্স মৃত্যু রহস্য:
| বিষয় | বিবরণ / তথ্য |
| মৃতার পরিচয় | এনআরএসের HDU নার্স, নিবাস: দমদম (আসল বাড়ি: পটাশপুর, পূর্ব মেদিনীপুর) |
| পারিবারিক তথ্য | ১ বছর আগে বিবাহিত, স্বামী ও ভাইয়ের সাথে কথা বলেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী |
| ময়নাতদন্ত ক্ষেত্র | কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ (পরিবারের আর্জি অনুসারে) |
| প্রধান তদন্তকারী দল | লালবাজারের হোমিসাইড টিম ও ফরেনসিক বিভাগ |
Conclusion
একজন দায়িত্বশীল ও হাসিখুশি নার্সের হাসপাতাল চত্বরে এভাবে রহস্যজনক মৃত্যুতে শোকের মাতম সহকর্মী ও স্বজনদের মধ্যে। ফরেনসিক রিপোর্ট এবং ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত তথ্য হাতে আসলেই পরিষ্কার হবে— ওষুধের বিষক্রিয়া নাকি অন্য কোন কারণে নিভে গেল এক তরতাজা প্রাণ[






