ব্যক্তিগত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ! বিদেশযাত্রার আগে জরুরি শুনানির আর্জিতে হাই কোর্টে অভিষেক

চোখের চিকিৎসার জন্য আমেরিকা যাওয়ার আইনি লড়াইয়ের মাঝেই নতুন আইনি জটে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কোনো পূর্ব নোটিস না দিয়েই তাঁর ব্যক্তিগত একাধিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হয়েছে—এই অভিযোগে সোমবার কলকাতা হাই কোর্টের শরণাপন্ন হয়েছেন তিনি। বিষয়টিকে কেন্দ্র করে দ্রুত শুনানির আর্জি জানানো হয়েছে বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের বেঞ্চে।
১০৭ নম্বর ধারা না মানার অভিযোগ
সোমবার হাই কোর্টে বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন অভিষেকের আইনজীবী অয়ন ভট্টাচার্য। তিনি আদালতে দাবি করেন, কী কারণে বা কোন নির্দেশে এই ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টগুলি ফ্রিজ করা হয়েছে, সে বিষয়ে ব্যাঙ্কের তরফে কোনো লিখিত স্পষ্টীকরণ দেওয়া হয়নি।
আইনজীবী অয়ন ভট্টাচার্য জানান:
- ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা (BNSS)-এর ১০৭ নম্বর ধারা প্রয়োগ না করেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
- নিয়ম অনুযায়ী, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার পূর্বে পুলিশকে সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে লিখিত আবেদন জানাতে হয় এবং আদালতের নির্দেশ ছাড়া তা সম্ভব নয়।
- এ ক্ষেত্রে আইনি পথ না মেনেই সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে এই কাজ করা হয়েছে।
[অভিযোগ ও আইনি বিধানের সংক্ষিপ্ত রূপরেখা]
১. ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার কারণ গোপন রাখা হয়েছে।
২. BNSS-এর ১০৭ নম্বর ধারা লঙ্ঘন করা হয়েছে।
৩. ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতি ছাড়াই পুলিশের আবেদনে ফ্রিজ করার অভিযোগ।
৪. তদন্তে সহযোগিতা সত্ত্বেও ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট বন্ধের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন।
আদালতের পর্যবেক্ষণ ও বুধবার শুনানির সম্ভাবনা
শুনানি চলাকালীন বিচারপতি কৃষ্ণা রাও জানতে চান, অভিষেকের বিরুদ্ধে বর্তমানে কোনো মামলা চলছে কিনা এবং তদন্তের কী অবস্থা। জবাবে অভিষেকের আইনজীবী জানান, তাঁর মক্কেল আদালতের সমস্ত নির্দেশ মেনে তদন্তকারী সংস্থাকে সবরকম সহযোগিতা করছেন। তবে তার সঙ্গে ব্যক্তিগত ব্যাঙ্কিং পরিষেবা স্তব্ধ করে দেওয়ার কোনো আইনি যোগসূত্র নেই।
উভয়পক্ষের বক্তব্য শোনার পর বিচারপতি কৃষ্ণা রাও নির্দেশ দেন, এই মামলার সাথে যুক্ত সব পক্ষকে দ্রুত নোটিস পাঠাতে হবে। জানা গিয়েছে, আগামী বুধবার হাই কোর্টে এই মামলার জরুরি শুনানি হতে পারে।
পেছনের প্রেক্ষাপট: চোখের চিকিৎসা ও আমেরিকা যাত্রা
চোখের চিকিৎসার জন্য আমেরিকা যাওয়া নিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনি লড়াই বেশ কিছুদিন ধরেই রাজ্য রাজনীতিতে চর্চার বিষয়:
| আইনি প্রক্রিয়ার ক্রম | ঘটনা ও আদালতের সিদ্ধান্ত |
| প্রাথমিক আবেদন | ২৯ জুলাই আমেরিকা যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল অভিষেকের। |
| হাই কোর্টের আপত্তি | ২০ জুলাই বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের বেঞ্চ জানতে চায়, এসএসকেএমে চিকিৎসা না করিয়ে কেন বিদেশে যেতে হবে? আর্জি খারিজ করা হয়। |
| সুপ্রিম কোর্টে মামলা | হাই কোর্টের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে শীর্ষ আদালতে যান অভিষেক। মামলা ফের হাই কোর্টে ফেরত পাঠায় সুপ্রিম কোর্ট। |
| দ্বিতীয়বার আর্জি খারিজ | হাই কোর্ট পুনরায় আবেদন খারিজ করে এসএসকেএমের মেডিক্যাল বোর্ডে চিকিৎসার পরামর্শ দেয়। |
| শীর্ষ আদালতের সবুজ সংকেত | পুনরায় সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানালে, শীর্ষ আদালত শেষ পর্যন্ত শর্তসাপেক্ষে বিদেশযাত্রার অনুমতি দেয়। |
আমেরিকা রওনা হওয়ার শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতির মাঝেই ব্যাঙ্কিং পরিষেবা এভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ।
বিদেশযাত্রার আইনি জটিলতা কাটতে না কাটতেই ব্যক্তিগত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ হওয়ার ঘটনায় ফের জলঘোলা শুরু হলো। আইনি প্রক্রিয়া অমান্য করে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কিনা এবং বুধবারে হাই কোর্ট কী অন্তর্বর্তী নির্দেশ দেয়, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক ও আইনি মহলের।






