তারাপীঠের বেসরকারি হোটেলে ভোররাতে ভয়াবহ আগুন! দগ্ধ হয়ে মৃত অন্তত ৭, আশঙ্কাজনক বহু

বীরভূমের বিখ্যাত তীর্থ ও পর্যটনক্ষেত্র তারাপীঠে সোমবার ভোররাতে ঘটে গেল চরম ট্র্যাজেডি। তারাপীঠ থানার ঢিল ছোঁড়া দূরত্বে অবস্থিত একটি বেসরকারি হোটেলে আচমকা ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ফলে অন্তত ৭ জন পর্যটকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। অগ্নিদগ্ধ ও গুরুতর আহত অবস্থায় আরও বহু আবাসিককে রামপুরহাট গভর্মেন্ট মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসাধীন অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ঘুমন্ত অবস্থায় অগ্নিকাণ্ড ও তীব্র আতঙ্ক
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার ভোর সাড়ে ৪টে নাগাদ তারাপীঠের পুকুরপাড় এলাকায় অবস্থিত ‘বিদিশিনি’ নামক একটি বেসরকারি হোটেলের গ্রাউন্ড ফ্লোরে আচমকা আগুন লেগে যায়। গভীর রাতে হোটেলের আবাসিকরা যখন গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন ছিলেন, ঠিক সেই সময় মুহূর্তে আগুন ও কালো ধোঁয়ায় চারদিক ঢেকে যায়।
হোটেল থেকে গলগল করে ধোঁয়া বেরোতে দেখে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত খবর দেন স্থানীয় থানা ও দমকল বিভাগে।
[ঘটনার সংক্ষিপ্ত সময়রেখা]
* সময়: সোমবার ভোর আনুমানিক ৪:৩০ মিনিট
* স্থান: 'বিদিশিনি' হোটেল, পুকুরপাড়, তারাপীঠ (বীরভূম)
* হতাহত: মৃত অন্তত ৭ জন, বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত
* প্রধান চিকিৎসা কেন্দ্র: রামপুরহাট গভর্মেন্ট মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল
উদ্ধার অভিযান ও স্বজনহারাদের হাহাকার
খবর পাওয়ামাত্রই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় দমকল বাহিনী ও তারাপীঠ-রামপুরহাট থানার যৌথ পুলিশ টিম। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হলেও, হোটেলের ভেতর থেকে ঝলসে যাওয়া অবস্থায় ৭ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
আহতদের মধ্যে মুনমুন মণ্ডল নামে এক আবাসিক জানান, তাঁর মা-সহ পরিবারের একাধিক সদস্য ওই হোটেলে ছিলেন। আগুন লাগার পর থেকে পরিবারের অনেকেরই কোনো খোঁজ মেলেনি। আলিপুরদুয়ার ও দিনহাটা থেকে আসা পর্যটকদের পরিবারে খবর পৌঁছাতেই আত্মীয়স্বজনরা তারাপীঠ ও রামপুরহাট হাসপাতালের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন।
অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন
দমকল বাহিনীর প্রাথমিক ধারণা, শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছিল। তবে নিচের তলায় আগুন লাগায় তা ওপরের তলাগুলিতে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং বিষাক্ত ধোঁয়ায় আটকে পড়েন আবাসিকরা।
পুলিশ প্রশাসন ও দমকল বাহিনীর তরফে খতিয়ে দেখা হচ্ছে:
- হোটেলে উপযুক্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা (Fire Safety Infrastructure) ছিল কিনা।
- বৈদ্যুতিক সংযোগের কোনো ত্রুটি কিংবা নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘন করা হয়েছিল কিনা।
- সিসিটিভি ফুটেজ (CCTV Footage) বিশ্লেষণ করে ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ নির্ণয়।
এক নজরে অগ্নিকাণ্ড সংক্রান্ত তথ্য:
| বিবরণ | তথ্য |
| ঘটনার স্থান | ‘বিদিশিনি’ হোটেল, পুকুরপাড়, তারাপীঠ |
| ঘটনাকাল | সোমবার ভোর আনুমানিক ৪:৩০ মিনিট |
| মৃতের সংখ্যা | অন্তত ৭ জন (সংখ্যা বৃদ্ধির আশঙ্কা) |
| আহতদের অবস্থান | রামপুরহাট গভর্মেন্ট মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল |
| আবাসিকদের বাসস্থান | উত্তরবঙ্গের আলিপুরদুয়ার, দিনহাটা সহ অন্যান্য এলাকা |
| প্রাথমিক কারণ | শর্ট সার্কিট (তদন্ত সাপেক্ষ) |
ভোররাতের এই মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডের পর গোটা তারাপীঠ এলাকায় চরম শোক ও চাঞ্চল্যের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। পর্যটনকেন্দ্রের হোটেলগুলিতে অগ্নিনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা কতটা সুরক্ষিত, তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। পুলিশ ও প্রশাসনের আধিকারিকরা উদ্ধারকাজ শেষ করে পুরোদমে তদন্ত প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছেন।






