তারাপীঠের ‘বিদেশিনী’ হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মৃত বেড়ে ৮; শোক প্রকাশ প্রধানমন্ত্রী মোদি, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু ও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতার

বীরভূমের বিখ্যাত তীর্থক্ষেত্র তারাপীঠের ‘বিদেশিনী’ নামক বেসরকারি হোটেলে সোমবার ভোরে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮ জন। শ্রাবণ মাসের শেষ সোমবার তারাপীঠ মন্দিরে পুজো দেওয়ার জন্য আসা পুণ্যার্থীদের এই আকস্মিক মৃত্যুতে দেশ ও রাজ্য রাজনীতিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এই ঘটনায় গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
কীভাবে ঘটল ঘটনা?
সোমবার ভোর ৪টে ৩০ মিনিট নাগাদ তারাপীঠ থানার নিকটবর্তী পুকুরপাড়ে অবস্থিত ‘বিদেশিনী’ হোটেলের গ্রাউন্ড ফ্লোরে প্রথম আগুন লাগে।
- অসাবধানতা ও ধোঁয়া: ভোররাতে যখন সব আবাসিকরা ঘুমে আচ্ছন্ন ছিলেন, তখন আচমকা আগুনের ধোঁয়ায় পুরো হোটেল ভরে যায়।
- স্থানীয়দের তৎপরতা: বাইরে ধোঁয়া ও আগুনের লেলিহান শিখা দেখে স্থানীয়রাই প্রথম পুলিশ ও দমকলে খবর দেন।
- উদ্ধার অভিযান: দীর্ঘ প্রচেষ্টায় দমকলকর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং ভেতর থেকে আটকে থাকা আবাসিকদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৮ দাঁড়ায়।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির শোকবার্তা
সোমবার দুপুরে এক্স (টুইটার) হ্যান্ডেলে পোস্ট করে শোকপ্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
তিনি লেখেন:
“পশ্চিমবঙ্গের বীরভূমে অগ্নিকাণ্ডের জেরে প্রাণহানির ঘটনায় আমি গভীরভাবে শোকাহত। যাঁরা তাঁদের প্রিয়জনদের হারিয়েছেন, তাঁদের প্রতি আমি সমবেদনা জানাচ্ছি। আমি আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি। স্থানীয় প্রশাসন এই দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা প্রদান করছে।”
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্য ও রাজ্য সরকারের পদক্ষেপ
ঘটনার পরেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গভীর উদ্বেগ ও শোক ব্যক্ত করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
তিনি জানান:
“সবরকম প্রচেষ্টা সত্ত্বেও ৮ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু এড়ানো যায়নি। পবিত্র শ্রাবণ মাসের শেষ সোমবার পুজো দেওয়ার জন্য ওই হোটেলের অতিথিরা তারাপীঠের মন্দির নগরীতে এসেছিলেন। যাঁরা তাঁদের আপনজনদের হারিয়েছেন, তাঁদের প্রতি আমার গভীর শোক ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়।”
[ঘটনাস্থলে উপস্থিত ও সমন্বয়কারী শীর্ষ প্রতিনিধিগণ]
- জেলা প্রশাসন: জেলাশাসক ও পুলিশ সুপার (বীরভূম)
- স্থানীয় জনপ্রতিনিধি: বিধায়ক শ্রী ধ্রুব সাহা
- রাজ্য সরকার: দমকল বিভাগের প্রতিমন্ত্রী শ্রী কৌশিক চৌধুরী
- আন্তঃরাজ্য সমন্বয়: মেঘালয় সরকার ও আলিপুরদুয়ার স্থানীয় প্রশাসন
মুখ্যমন্ত্রী আরও স্পষ্ট করেছেন যে, অগ্নিকাণ্ডের মূল কারণ অনুসন্ধানে রাজ্য সরকার কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে এবং যাঁদের গাফিলতিতে এই ঘটনা ঘটেছে, তাঁদের কোনোভাবেই রেহাই দেওয়া হবে না।
প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমবেদনা
ঘটনায় শোকপ্রকাশ করেছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও।
তিনি লেখেন:
“তারাপীঠে ঘটে যাওয়া আকস্মিক ও মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আমি গভীরভাবে শোকাহত ও ব্যথিত। এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় যাঁরা প্রাণ হারিয়েছেন, তাঁদের আত্মার শান্তি কামনা করছি। যাঁরা প্রিয়জনদের হারিয়েছেন এবং সর্বস্বান্ত হয়েছেন, ঈশ্বর তাঁদের এই অসহনীয় শোক সহ্য করার শক্তি দিন।”
| অগ্নিকাণ্ড ও প্রশাসনিক পদক্ষেপের সারণী | বিবরণ |
| ঘটনার স্থান | ‘বিদেশিনী’ হোটেল, পুকুরপাড়, তারাপীঠ |
| ঘটনার সময় | সোমবার ভোর ৪:৩০ মিনিট |
| প্রাণহানি | ৮ জন মৃত্যু |
| আহতদের স্থিতি | হাসপাতালে চিকিৎসাধীন |
| তদন্তে নেতৃত্ব | ফরেনসিক টিম, দমকল দপ্তর ও বীরভূম জেলা পুলিশ |
তারাপীঠের মতো জনবহুল ধর্মীয় স্থানে পুণ্যার্থীদের এমন মর্মান্তিক মৃত্যু পুরো রাজ্যকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। প্রশাসনিক তদারকির পাশাপাশি মেঘালয় ও আলিপুরদুয়ার প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। ফায়ার লাইসেন্স ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত গাফিলতি খতিয়ে দেখে দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে প্রশাসন।






