গাঁজা বিতর্কের পর ডোপ টেস্টে ‘ফেল’ আরও ২ জন পাইলট! চূড়ান্ত রিপোর্টের অপেক্ষায় এয়ার ইন্ডিয়া

বিতর্ক যেন কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না টাটা গোষ্ঠীর মালিকানাধীন এয়ার ইন্ডিয়ার (Air India)। একের পর এক বিস্ফোরক তথ্যে রীতিমতো প্রশ্নের মুখে পড়েছে বিমানের যাত্রীসুরক্ষা ব্যবস্থা। সম্প্রতি এক চালকের শরীরে গাঁজা ও তীব্র সাইকোঅ্যাক্টিভ উপাদানের উপস্থিতি মেলার ঘটনার পর, এয়ার ইন্ডিয়া তাদের পাইলটদের ওপর ব্যাপক মাদক পরীক্ষা (Drug Test) চালানো শুরু করেছিল। সেই ধারাবাহিকতাতেই সামনে এসেছে নতুন আতঙ্ক— ডোপ টেস্টে প্রাথমিক পরীক্ষায় ‘ফেল’ করেছেন আরও দু’জন বিমান চালক।
ঘটনার সূত্রপাত: ফুকেট-দিল্লি বিমানের সেই ভয়াবহ ঝাঁকুনি
সমস্যার শুরু হয়েছিল গত ৪ আগস্ট। ফুকেট থেকে দিল্লিগামী এয়ার ইন্ডিয়ার একটি বিমান আকাশে আচমকাই সজোরে ঝাঁকুনি দেয় (Severe Turbulence) এবং প্রায় ৩০০ ফুট নিচে নেমে আসে।
- হতাহতের সংখ্যা: এই ঘটনায় ১১ জন যাত্রী এবং ৪ জন বিমানকর্মী আহত হন।
- প্রথম ডোপ টেস্টের ফলাফল: ঘটনার তদন্তে নেমে চালকের রক্ত ও প্রস্রাবের ডোপ টেস্ট করা হয়। প্রথম এবং দ্বিতীয়— উভয় পরীক্ষায় সুনির্দিষ্টভাবে প্রমাণ মেলে যে অভিযুক্ত পাইলট গাঁজা (Cannabis) সেবন করেছিলেন।
- ঘুমের ওষুধ ব্যবহারের কারণ: পরীক্ষায় তাঁর শরীরে পাওয়া যায় কড়া ঘুমের ওষুধও।
অভিযুক্ত পাইলট জানান, এয়ার ইন্ডিয়ার ক্রু রস্টার এমন অসৌজন্যমূলকভাবে প্রস্তুত করা হয় যে ন্যুনতম প্রয়োজনীয় বিশ্রামটুকুও পাওয়া যায় না। ক্লান্তি তাড়াতে ও ঘুমাতে তিনি ওষুধ সেবনে বাধ্য হন।
৩০০ পাইলটের রক্ত-পরীক্ষা: ফাঁস আরও ২ জনের নাম
পাইলটের গাঁজা সেবনের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই টাটাদের পরিচালিত সংস্থাটি অত্যন্ত কড়া পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়। সংস্থায় কর্মরত সমস্ত বিমান চালকদের মাদক পরীক্ষা বাধ্যতামূলকের আওতায় আনা হয়।
[ঘটনার ধারাবাহিক চিত্রলেখ]
৪ আগস্ট: ফুকেট-দিল্লি বিমানে সজোরে ঝাঁকুনি ও দুর্ঘটনা
└── তদন্তে প্রকাশ: পাইলটের শরীরে মিলল গাঁজা ও ঘুমের ওষুধ
└── এয়ার ইন্ডিয়ার সিদ্ধান্ত: ৩০০ চালকের বাধ্যতামূলক ডোপ টেস্ট
└── ফলাফল: প্রাথমিক ডোপ টেস্টে 'ফেল' আরও ২ জন পাইলট!
এখনও পর্যন্ত প্রায় ৩০০ জন পাইলটের মাদক পরীক্ষা বা ডোপ টেস্ট সম্পন্ন করা হয়েছে। তবে উদ্বেগের বিষয় হলো, এর মধ্যে আরও ২ জন চালক প্রাথমিক টেস্টে ব্যর্থ বা পজিটিভ সাব্যস্ত হয়েছেন।
চূড়ান্ত রিপোর্টের অপেক্ষা ও পরবর্তী ব্যবস্থা
এয়ার ইন্ডিয়ার আধিকারিক সূত্রে জানানো হয়েছে, আপাতত অভিযুক্ত দু’জন চালককে ফ্লাইট ডিউটি (Flight Roster) থেকে অবিলম্বে নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে।
| ডোপ টেস্ট এবং প্রশাসনিক তথ্য | পরিস্থিতি |
| মোট চালকের পরীক্ষা | প্রায় ৩০০ জন |
| নতুন পজিটিভ কেস | ২ জন পাইলট |
| চূড়ান্ত রিপোর্টের সময় | ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা |
| প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত | রিপোর্ট পজিটিভ এলে বরখাস্ত ও কঠোর আইনি শাস্তি |
চূড়ান্ত রিপোর্ট পজিটিভ নিশ্চিত হলে, এয়ারলাইন্সের অভ্যন্তরীণ নিয়মনীতি ও বেসামরিক বিমান পরিবহন সংস্থা (DGCA)-এর নির্দেশিকা অনুযায়ী তাঁদের কঠোর শাস্তির মুখে পড়তে হবে।
পাইলটদের কাজের অতিরিক্ত চাপ ও ‘রস্টার ফ্যাটিগ’ (Roster Fatigue)-এর দোহাই দিয়ে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় হাজার হাজার যাত্রীর জীবন বিপন্ন করার এই ঘটনা আন্তর্জাতিক বিমান পরিষেবায় বড় প্রশ্ন চিহ্ন তুলে দিয়েছে। ডোপ টেস্টের চূড়ান্ত রিপোর্ট সামনে এলে এই বিতর্ক আরও কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই নজর দেশের সমস্ত মহলের।






