ডুরান্ড কাপ ২০২৬: বিশাল কাইথের ‘শাপমোচন’; টাইব্রেকারে জামশেদপুরকে হারিয়ে সেমিফাইনালে মোহনবাগান!

ভুলের মাশুল দেওয়ার কাছাকাছি পৌঁছেও অবশেষে স্বস্তির জয়। যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে রোমাঞ্চকর কোয়ার্টার ফাইনালে সাডেন ডেথে বিদেশিহীন জামশেদপুর এফসি-কে ৯-৮ ব্যবধানে হারিয়ে ডুরান্ড কাপের সেমিফাইনালে টিকিট নিশ্চিত করল মোহনবাগান। নির্ধারিত সময়ের খেলা ১-১ সমতায় শেষ হওয়ার পর টাইব্রেকারে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ হয়। নিজের ভুলেই দলকে চাপে ফেলে দিয়েছিলেন গোলকিপার বিশাল কাইথ, তবে সাডেন ডেথে দুর্দান্ত সেভ করে নিজেই সেই ভুল শুধরে নায়ক হয়ে উঠলেন।
সাহালের দ্রুত গোল ও জামশেদপুরের জবাব
ম্যাচ শুরুর মাত্র ২ মিনিটের মাথায় সমর্থকদের উল্লাসে ভাসান সাহাল আবদুল সামাদ। ডুরান্ডে নিজের ৫ম গোলটি করে দলকে এগিয়ে দেন তিনি। প্রতিপক্ষ প্লেয়ার রাশিথোইকে ড্রাজিচ প্রেস করলে বল পেয়ে সাহাল বিন্দুমাত্র ভুল করেননি।
তবে প্রথমার্ধেই বিশাল কাইথের একটি মারাত্মক ভুলে ঘুরে দাঁড়ায় জামশেদপুর। রাশিথোইয়ের দূরপাল্লার শট সঠিকভাবে ফিস্ট করতে না পারায় বল পান দেবেন্দ্র মুরগাঁওকর। ফাঁকা গোলে বল ঠেলে দিয়ে ১-১ সমতা ফেরান তিনি।
[ম্যাচের সময়ক্রম ও ফলাফল]
০২' মিনিট ── সাহাল আবদুল সামাদের গোল (মোহনবাগান ১ - ০ জামশেদপুর)
প্রথমার্ধ ── দেবেন্দ্র মুরগাঁওকরের সমতা ফেরানো গোল (১ - ১)
দ্বিতিয়ার্ধ ── আক্রমণ সত্ত্বেও গোলহীন (নির্ধারিত সময় শেষ: ১ - ১)
টাইব্রেকার ── সাডেন ডেথে বিশাল কাইথের সেভ (মোহনবাগান ৯ - ৮ জামশেদপুর)
দ্বিতীয়ার্ধে ফিটনেস ও গোল করার সমস্যা
দ্বিতীয়ার্ধে পুরো ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ও সিংহভাগ বল পজেশন মোহনবাগানের হাতে থাকলেও বক্সে ধারহীন দেখায় তাদের। লিস্টন কোলাসোর ফর্মে না থাকা এবং ম্যাকলারেনের গোল হাতছাড়া সবুজ-মেরুন শিবিরের চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
১০টি কর্নার এবং ২৪টি আক্রমণের মধ্যে মাত্র ৫টি শট গোলমুখে রাখতে পেরেছিল প্যানাজিওটিসের দল। অন্যদিকে, অস্তিত্ব সংকটে ভোগা এবং বিদেশিহীন জামশেদপুর এফসি-র হয়ে প্রণয় হালদার, প্রতীক চৌধুরী ও প্রভাত লাকারাদের লড়াই ফুটবলপ্রেমীদের প্রশংসা কুড়িয়েছে।
স্নায়ুচাপের টাইব্রেকার ও বিষালের সেভ
ডুরান্ডের নিয়ম অনুযায়ী সরাসরি গড়াচ্ছিল পেনাল্টি শুটআউট। দুই দলের ফুটবলাররাই একে একে বল জালে জড়াতে থাকেন। মোহনবাগানের হয়ে সফল শট নেন:
- রাহুল ভেকে, সমীর জেলকোভিচ, শুভাশিস বোস, জেমি ম্যাকলারেন, কিয়ান নাসিরি
- অনিরুদ্ধ থাপা, আলবার্তো রড্রিগেজ, সুহেল ভাট ও টেকচাম সিং
| ম্যাচের বিবরণ | পরিসংখ্যান |
| নির্ধারিত সময়ের ফল | ১ – ১ |
| পেনাল্টি শুটআউট | ৯ – ৮ (মোহনবাগানের জয়) |
| ম্যাচের নায়ক | বিশাল কাইথ (সাডেন ডেথ সেভ) |
| পরবর্তী ধাপ | সেমিফাইনাল (স্থান: শিলং) |
অবশেষে নবম শটে জামশেদপুরের মামার শট আটকে দেন বিশাল কাইথ। ফলে ৯-৮ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে মোহনবাগান।
জয় পেলেও বিদেশিহীন জামশেদপুরের বিরুদ্ধে মোহনবাগানের এই পারফরম্যান্স একরাশ উদ্বেগ রেখে গেল। সেমিফাইনালে প্রতিপক্ষ নর্থইস্ট ইউনাইটেড বা শিলং লাজং—উভয় দলই তাদের ঘরের মাঠে শক্ত চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিতে পারে। ট্রফি ধরে রাখতে হলে কোচ প্যানাজিওটিসকে দ্রুত দলের ফিটনেস ও আক্রমণভাগের গলদ শুধরে নিতে হবে।






