সাধারণ মিষ্টিকে ‘রাম মন্দিরের প্রসাদ’ বলে বিক্রি! জরিমানার মুখে আমাজন, সিসিপিএ-র কড়া নির্দেশ

অনলাইন শপিং প্ল্যাটফর্ম আমাজনে রাম মন্দিরের প্রসাদ বিক্রির নামে বড়সড় বিভ্রান্তি ও প্রতারণার খবর প্রকাশ্যে এসেছে। রাম জন্মভূমি ট্রাস্টের কোনো প্রকার অনুমতি ছাড়াই সাধারণ বাণিজ্যিক মিষ্টিকে ‘অযোধ্যার রাম মন্দিরের প্রসাদ’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করে বিক্রি করা হচ্ছিল। বিষয়টি নজরে আসতেই কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে সেন্ট্রাল কনজিউমার প্রোটেকশন অথরিটি (CCPA)। মধ্যস্থতাকারী সংস্থা হিসেবে ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম আমাজন দায় এড়াতে পারে না উল্লেখ করে তাদের ওপর আর্থিক জরিমানা আরোপ করা হয়েছে।
কীভাবে চলছিল প্রতারণা?
সিসিপিএ-র তদন্তে উঠে এসেছে যে, আমাজনে ‘বিহারি ব্রাদার্স’-এর মতো কিছু বিক্রেতা সাধারণ কিছু মিষ্টির প্যাকেটের গায়ে ‘অযোধ্যার শ্রী রাম মন্দিরের প্রসাদ’ কিংবা ‘ভগবান রামের আশীর্বাদ’ লিখে বিক্রি করছিল।
[প্রতারণার কৌশল]
সাধারণ ঘিয়ের/খোয়ার/বুন্দির লাড্ডু ও দুধের পেড়া
└── প্যাকেটে লেখা: "অযোধ্যার শ্রী রাম মন্দিরের প্রসাদ"
└── 'শ্রী রাম জন্মভূমি ট্রাস্ট'-এর অনুমতি ছাড়া অনলাইন বিক্রি
└── সিসিপিএ (CCPA) দ্বারা অসৎ বাণিজ্য চিহ্নিতকরণ ও আইনি পদক্ষেপ
ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মের দায় ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ
গ্রাহকদের বিভ্রান্ত করার অপরাধে সিসিপিএ আমাজনকে ১ লক্ষ টাকা জরিমানা করেছে এবং পরবর্তী ১৫ দিনের মধ্যে এই অর্থ পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছে। সিসিপিএ স্পষ্ট করে জানিয়েছে, পণ্যটি তৃতীয় কোনো বিক্রেতা তৈরি করলেও, ই-কমার্স মধ্যস্থতাকারী সংস্থা হিসেবে আমাজন কোনোভাবেই নিজেদের দায় ঝেড়ে ফেলতে পারে না

| বিষয় | তথ্য ও নির্দেশাবলী |
| অভিযুক্ত প্ল্যাটফর্ম | আমাজন (Amazon) |
| জরিমানার পরিমাণ | ₹ ১,০০,০০০ (১ লক্ষ টাকা) |
| নিয়ামক সংস্থা | সেন্ট্রাল কনজিউমার প্রোটেকশন অথরিটি (CCPA) |
| প্রধান নির্দেশিকা | অনুমতি ছাড়া ‘প্রসাদ’, ‘মহাপ্রসাদ’ বা ‘ভোগ’ শব্দ ব্যবহার করে পণ্য তালিকাভুক্ত করা যাবে না। |
১০টি প্রধান ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে নতুন কড়াকড়ি
এই ঘটনার পর সিসিপিএ নতুন এক কঠোর নির্দেশিকা জারি করেছে। এর ফলে দেশের প্রধান ১০টি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে যেকোনো পণ্য বা প্রসাদ বিক্রির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ট্রাস্ট বা কর্তৃপক্ষের লিখিত অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

- তালিকায় থাকা প্রধান মন্দিরসমূহ: অযোধ্যার রাম মন্দির, তিরুপতি বালাজি, শ্রী বৈষ্ণোদেবী, পুরীর জগন্নাথ মন্দির ইত্যাদি।
ভোক্তা অধিকার রক্ষা এবং ধর্মীয় অনুভূতির অপব্যবহার রোথে সিসিপিএ-র এই পদক্ষেপকে অত্যন্ত গুরুত্বপূণ বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল। এই রায়ের পর অন্যান্য ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মগুলিকেও অসত্য বা বিভ্রান্তিকর পণ্যের তালিকা সরানোর বিষয়ে আরও সতর্ক হতে হবে।






