সিংহলগড় দুর্গে শর্টস পরে প্রবেশে ‘আপত্তি’: ৮ বছরের নাবালিকা ও পরিবারকে বেধড়ক মারধর পুণেতে!

পর্যটন কেন্দ্রে পোশাকে বিধিনিষেধ আরোপ এবং ‘নীতিপুলিশগিরি’র (Moral Policing) জেরে ফের উত্তপ্ত মহারাষ্ট্রের পুণে। ঐতিহ্যবাহী সিংহগড় দুর্গে বেড়াতে গিয়ে চরম হেনস্থা ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হতে হলো একটি পরিবারকে। অপরাধ? পরিবারের ৮ বছর বয়সি এক নাবালিকা সদস্যের পরনে ছিল শর্টস। তা নিয়েই বচসা শুরু করে দুর্গের সংরক্ষণে থাকা একদল যুবক, যা পরবর্তীতে ভয়াবহ তাণ্ডবে রূপ নেয়।
ঘটনার সূত্রপাত ও তাণ্ডবের বিবরণ
গত রবিবার সকালে পুণের সিংহগড় দুর্গে পরিবার নিয়ে ঘুরতে গিয়েছিলেন আক্রান্তরা। হঠাৎই একদল যুবক এসে পরিবারের ৮ বছরের বালিকার পোশাক নিয়ে কটূক্তি করতে শুরু করে। “ঐতিহাসিক মারাঠা দুর্গের ভেতরে কেন এমন পোশাক পরা হয়েছে?”—এই অজুহাতে বচসা শুরু হয়।
[ঘটনার বিবরণী]
সিংহগড় দুর্গে পরিবারসহ ৮ বছরের নাবালিকার আগমন
└── ক্ষুদ্রে সদস্যের 'শর্তস' পরা নিয়ে যুবকদের কটূক্তি ও আপোত্তি
└── পরিবারের প্রতিবাদ ও বচসা
└── ২ ঘণ্টা ধরে তাণ্ডব ও বেধড়ক মারধর (ভীতি ছড়িয়ে অন্য পর্যটকদের পলায়ন)
└── হাভেলি থানায় অভিযোগ ও ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা
২ ঘণ্টা ধরে চরম নির্যাতন
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি অনুযায়ী, বচসা থেকে মুহূর্তের মধ্যে মারামারি শুরু হয়। আক্রমণকারীরা পরিবারের মহিলা এবং ছোট শিশুকেও রেহাই দেয়নি। প্রায় দু’ঘণ্টা ধরে এই তাণ্ডব চালানো হয়। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ রূপ নেয় যে, সেখানে উপস্থিত অন্যান্য সাধারণ পর্যটকরা নিজেদের প্রাণ বাঁচাতে দ্রুত ঘটনাস্থল ছেড়ে পালিয়ে যান।
| বিবরণ | তথ্য |
| ঘটনাস্থল | সিংহগড় দুর্গ, পুণে (মহারাষ্ট্র) |
| আক্রান্ত | ৮ বছরের নাবালিকা ও তাঁর পুরো পরিবার |
| অভিযুক্ত দল | স্থানীয় ‘কনজারভেশন সোসাইটি’-র কয়েকজন সদস্যসহ একদল যুবক |
| পুলিশি পদক্ষেপ | হাভেলি থানা কর্তৃক ৯ জনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা রুজু |
পুলিশি তদন্ত ও প্রতিক্রিয়া
খবর পেয়ে তড়িঘড়ি তদন্তে নামে হাভেলি থানার পুলিশ। প্রাথমিক অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, হামলাকারীদের মধ্যে অনেকেই স্থানীয় দুর্গের ‘কনজারভেশন সোসাইটি’ (Conservation Society)-র সঙ্গে যুক্ত। পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, ঘটনায় সরাসরি যুক্ত ৯ জনের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট ধারায় মামলা করা হয়েছে। বাকি অভিযুক্তদের চিহ্নিত করে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
ঐতিহাসিক ও পর্যটন স্থানে এমন ঘটনার জেরে রাজ্য জুড়ে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠেছে। পুলিশ প্রশাসন আশ্বাস দিয়েছে, ঐতিহ্য রক্ষার নামে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া কোনো ব্যক্তিকেই রেহাই দেওয়া হবে না এবং দোষীদের কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে।






