যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংঘর্ষের আঁচ রাস্তায়: এবিভিপির মিছিলে বিজেপি বিধায়ক শর্বরী, পাল্টা নন্দিনী মুখোপাধ্যায়ের তোপ!

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ফেটসু (FETSU)-র জেনারেল বডি (GB) মিটিংকে কেন্দ্র করে বুধবার রাতের রক্তাক্ত সংঘাত এবার ক্যাম্পাসের গণ্ডি ছাড়িয়ে কলকাতার রাস্তায় রূপ নিয়েছে রাজনৈতিক মহাযুদ্ধে। এবিভিপি ও এসএফআই— দুই পক্ষই বৃহস্পতিবার বড়সড় প্রতিবাদ মিছিলে শক্তি প্রদর্শন করে। এই আবহে যাদবপুরের স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক শর্বরী মুখোপাধ্যায় এবং সিপিআই(এম) নেত্রী নন্দিনী মুখোপাধ্যায়ের পারস্পরিক বাকযুদ্ধে চড়েছে রাজনীতির পারদ।
এবিভিপির মিছিল ও বিধায়ক শর্বরী মুখোপাধ্যায়ের ক্ষোভ
বৃহস্পতিবার দুপুরে গোলপার্ক থেকে মিছিল শুরু করে এবিভিপি সমর্থকরা, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪ নম্বর গেটের দিকে এগোয়। এই মিছিলে সামিল হয়ে সরাসরি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের একাংশ ও বাম ছাত্র সংগঠনগুলোকে কাঠগড়ায় তোলেন এলাকাটির বিজেপি বিধায়ক শর্বরী মুখোপাধ্যায়।
- শর্বরী মুখোপাধ্যায়ের মন্তব্য: “যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়কে রাষ্ট্রবিরোধী মেশিনারি তৈরির কারখানায় পরিণত করা হয়েছে। বারবার দেশবিরোধী স্লোগান বা ‘ইনশাল্লাহ আজাদি’-র মতো কথা বলা বরদাস্ত করা হবে না। আমরা প্রথমে দেশের নাগরিক, তাই দেশের পক্ষে কথা বলতে হবে।”
- বামদের পাল্টা অভিযোগ: বুধবার রাতে অশান্তি চলাকালীন বিধায়ক নিজে এসে উসকানি দিয়েছেন এবং অরবিন্দ ভবনের বাইরে আগুন জ্বালানোর ঘটনায় তাঁর ঘনিষ্ঠদের হাত ছিল।
[যাদবপুর কাণ্ডের প্রতিবাদ ও রাজনৈতিক সংঘাত]
বুধবার রাতে ফেটসু (FETSU) জিবি মিটিং কেন্দ্র করে সংঘাত
├── এবিভিপির মিছিল (গোলপার্ক ➔ ৪ নম্বর গেট) ──► বিজেপি বিধায়ক শর্বরীর "দেশবিরোধী কারখানা" তোপ
└── এসএফআইয়ের মিছিল (যাদবপুর ৮বি) ──────────────► বামনেত্রী নন্দিনীর "উসকানিদাতা বিধায়ক" পাল্টা তোপ
নন্দিনী মুখোপাধ্যায়ের পাল্টা হামলা ও ইউনিয়নের প্রশ্ন
এসএফআই, ডিএসওসহ বাম ছাত্র সংগঠনগুলির ডাকে ৮বি থেকে বের হওয়া প্রতিবাদ মিছিলে উপস্থিত ছিলেন বাম নেত্রী তথা শিক্ষিকা নন্দিনী মুখোপাধ্যায়। শর্বরী মুখোপাধ্যায়ের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন।
| বক্তা | রাজনৈতিক পরিচয় | মূল বক্তব্য/অভিযোগ |
| শর্বরী মুখোপাধ্যায় | বিজেপি বিধায়ক (যাদবপুর) | “যাদবপুরে রাষ্ট্রবিরোধী আন্দোলন চলতে দেওয়া হবে না। ‘আজাদি’ স্লোগান বন্ধ করতে হবে।” |
| নন্দিনী মুখোপাধ্যায় | বাম নেত্রী ও শিক্ষিকা | “ছাত্রদের অশান্তিতে বিধায়কের কাজ ছিল শান্ত করা, কিন্তু উনি গিয়ে উসকানি দিলেন। সরকার কার বিরুদ্ধে গুন্ডাদমন আইন প্রয়োগ করবে?” |
পাশাপাশি, বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে অনুমোদিত নির্বাচিত ছাত্র ইউনিয়ন না থাকা সত্ত্বেও কীভাবে ফেটসু জিবি মিটিং ডাকল এবং তা কেন্দ্র করে পরিকল্পিতভাবে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করা হলো কি না— তা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন ওয়াকিবহাল মহল।
হাত গুটিয়ে দায় এড়ালেন শমীক ভট্টাচার্য
যাদবপুরের এই চরম উত্তেজনা নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হলে কিছুটা দূরত্ব বজায় রেখেছেন বিজেপি-র রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তিনি স্পষ্ট জানান—
“এবিভিপি সম্পূর্ণ একটি আলাদা ছাত্র সংগঠন। তারা বিজেপির নির্দেশে পরিচালিত হয় না। এই বিষয়ে যা বলার ওদের নেতৃত্ব বলবে। আর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামলানো পুলিশ ও মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব।”
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিনিয়ত ছাত্র রাজনীতি ও প্রশাসনিক জটিলতার যোগফলে পড়াশোনার পরিবেশ বিঘ্নিত হওয়ার অভিযোগ উঠছে। ছাত্র সংগঠনগুলির অনড় অবস্থান এবং রাজনৈতিক নেতাদের সরাসরি হস্তক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।






