যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘর্ষের আঁচ বাইরে: ব্যারিকেড ভাঙল এবিভিপি, এসএফআই-পুলিশ ধস্তাধস্তিতে ধুন্ধুমার ৮বি ও ঢাকুরিয়া!

বুধবার রাতের ঘটনার পর বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই ফের অগ্নিগর্ভ রূপ নিয়েছে দক্ষিণ কলকাতার যাদবপুর এলাকা। ফেটসু (FETSU)-র মিটিং ঘিরে শুরু হওয়া বাম-এবিভিপি সংঘাত এবার ক্যাম্পাসের গণ্ডি টপকে রাজপথে। এসএফআই ও এবিভিপির মুখোমুখি পাল্টাপাল্টি মিছিলকে কেন্দ্র করে এলাকা রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়।
ব্যারিকেড ভেঙে বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটে এবিভিপি
গোলপার্ক থেকে শুরু হওয়া এবিভিপির মিছিল ঢাকুরিয়া ব্রিজের কাছে পৌঁছালে বিশাল পুলিশ বাহিনী ব্যারিকেড দিয়ে তাদের পথ আটকানোর চেষ্টা করে। তবে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে ব্যারিকেড ভেঙে এগিয়ে যায় বিক্ষোভকারীরা।
- উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দু: ব্যারিকেড ভেঙে মিছিলের একটি অংশ সরাসরি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান গেটের দিকে পৌঁছে গেলে চরম উত্তেজনা ছড়ায়।
- পুলিশি তৎপরতা: দুই ছাত্র সংগঠন যাতে সরাসরি সংঘর্ষে জড়িয়ে না পড়ে, তার জন্য পুলিশি বেষ্টনী তৈরি করা হলেও পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা দুষ্কর হয়ে পড়ে।
[বৃহস্পতিবারের সংঘাতের গতিপথ]
বুধবার রাতের ফেটসু (FETSU) মিটিং কেন্দ্র করে রক্তক্ষয়ী সংঘাত
├── এবিভিপির মিছিল (গোলপার্ক ➔ ঢাকুরিয়া) ──► ব্যারিকেড ভেঙে বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটে প্রবেশ
└── এসএফআইয়ের বিক্ষোভ (যাদবপুর ৮বি) ───────► অবরুদ্ধ দেবাঞ্জন দে ও দীপ্সিতা ধর
└── কলকাতা হাইকোর্টে জরুরি শুনানির আবেদন নামঞ্জুর (নতুন মামলার নির্দেশ)
৮বি-তে এসএফআইয়ের অবরুদ্ধ অবস্থান ও বাম নেতৃত্ব
অন্যদিকে, যাদবপুরের ৮বি বাস স্ট্যান্ড সংলগ্ন মোড়ে অবস্থান নেয় এসএফআই সমর্থকরা। সেখানে প্রতিবাদ সভায় উপস্থিত ছিলেন ডিওয়াইএফআই (DYFI) নেতা-নেত্রীরাও।
| নেতা/নেত্রী | দলীয় পরিচয় | বর্তমান স্থিতি/অভিযোগ |
| দীপ্সিতা ধর | যুবনেত্রী (DYFI) | ৮বি-র সামনে ব্যারিকেডের কারণে আটকে পড়েন, বহিরাগত হামলার বিরুদ্ধে তোপ। |
| দেবাঞ্জন দে | রাজ্য সভাপতি (SFI) | সমাবেশ স্থলে আটকে রাখা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসন রক্ষার ডাক। |
| এবিভিপি নেতৃত্ব | ছাত্র সংগঠন | ঢাকুরিয়াতে পুলিশকে ফাঁকি দিয়ে ৪ নম্বর গেটের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন। |
আইনি জটিলতা ও প্রশাসনের কড়া নজরদারি
এর আগে বুধবার রাতের রক্তাক্ত ঘটনার বিবরণ দিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে তড়িঘড়ি শুনানির আর্জি জানানো হয়েছিল। তবে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তীর ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দেয়— পুরোনো মামলার সাথে এটি যুক্ত করা যাবে না; প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন মামলা করতে হবে।
বর্তমানে যাদবপুর, ৮বি বাস স্ট্যান্ড ও ঢাকুরিয়া এলাকায় মোতায়েন রাখা হয়েছে একাধিক ট্রাফিক ও লালবাজারের পুলিশ সার্জেন্ট ও কম্ব্যাট ফোর্স।
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়মিত ছাত্র আন্দোলন এবং দলীয় রাজনীতির আকচাআকচিতে ব্যাহত হচ্ছে পড়াশোনার সাধারণ পরিবেশ। পুলিশ প্রশাসন দুই পক্ষকে নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করলেও রাস্তায় ব্যারিকেড ভাঙার মতো ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।






