চম্পাহাটির পিয়ালিতে বাজি কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ: দগ্ধ একাধিক, লাইসেন্স নিয়ে বড় প্রশ্ন!

দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাজি হাব হিসেবে পরিচিত চম্পাহাটিতে ফের ঘটে গেল ভয়াবহ দুর্ঘটনা। বৃহস্পতিবার দুপুরে পিয়ালি অঞ্চলের একটি বাজি তৈরি ও মজুত কারখানায় বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। মুহূর্তের মধ্যে দাউদাউ করে জ্বলে ওঠে পুরো কারখানা এবং এলাকা কালো বিষাক্ত ধোঁয়ায় মুড়ে যায়।
বিস্ফোরণের তীব্রতা ও উদ্ধারকাজ
স্থানীয় অধিবাসীদের দাবি, দুপুরে পর পর বিকট শব্দ শুনে তাঁরা আতঙ্কে বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসেন। কারখানায় আগুন জ্বলতে দেখে স্থানীয়রাই প্রাথমিক উদ্ধারকাজে হাত লাগান। পরে বারুইপুর থানার পুলিশ এবং দমকল বাহিনী এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে ও আহতদের উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠায়।
[ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ]
চম্পাহাটির পিয়ালিতে বাজি কারখানায় হঠাৎ বিস্ফোরণ
└── মুহূর্তেই পুরো কারখানায় দাউদাউ করে আগুন ও কালো ধোঁয়া
└── ৫ জন কারখানা কর্মী আগুনে দগ্ধ (১ জন আশঙ্কাজনক)
└── বারুইপুর থানার পুলিশ ও দমকলের হস্তক্ষেপে উদ্ধার কাজ
└── কারখানাটির বৈধ লাইসেন্স ও নিরাপত্তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত
হতাহতের বর্তমান পরিস্থিতি
বিস্ফোরণের জেরে কারখানার চাল ও দেয়ালের একাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অগ্নিকাণ্ডের ফলে ভেতরে থাকা শ্রমিকরা বেরোনোর সুযোগ পাননি।
| বিষয় | বিবরণ |
| আহতদের সংখ্যা | প্রায় ৫ জন |
| শারীরিক অবস্থা | সকলেই অগ্নিদগ্ধ, ১ জনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক |
| প্রাথমিক পদক্ষেপ | বারুইপুর মহকুমা হাসপাতাল ও কলকাতার উন্নত হাসপাতালে স্থানান্তরের উদ্যোগ |
প্রশ্ন উঠছে লাইসেন্স ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে
চম্পাহাটি এলাকায় এর আগেও বারবার বেআইনি বাজি কারখানা ও অগ্নিকাণ্ডের খবর সামনে এসেছে। পিয়ালির এই কারখানার ঘটনায় স্থানীয়দের প্রশ্ন—
- ঘনবসতিপূর্ণ বা গ্রামীণ এলাকায় পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছাড়াই কীভাবে এই কারখানা চলছিল?
- কারখানাটির বাজি তৈরি ও রাসায়নিক মজুত রাখার বৈধ সরকারি লাইসেন্স ছিল কি না?
বারুইপুর থানার পুলিশ জানিয়েছে, পুরো বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং কারখানা মালিকের ভূমিকাও তদন্তের আওতায় রাখা হয়েছে।
বাজি তৈরির কেন্দ্রস্থল চম্পাহাটিতে একের পর এক নিরাপত্তা লঙ্ঘন ও বেআইনি কারখানার বাড়বাড়ন্ত স্থানীয় বাসিন্দাদের জীবনকে চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। পুলিশ ও প্রশাসনের কড়া নজরদারি এবং লাইসেন্সহীন বেআইনি কারখানার বিরুদ্ধে আইনানুগ পদক্ষেপ নেওয়ার জোরালো দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।






