বন্দে মাতরম বিতর্ক: কংগ্রেসের ‘তোষণ রাজনীতি’ ও বন্দে মাতরম ভাগের সিদ্ধান্ত নিয়ে তোপ অমিত শাহের!

জাতীয় গীত ‘বন্দে মাতরম’ নিয়ে কেন্দ্র-বিরোধী রাজনীতির নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। কংগ্রেস তাদের দলীয় কর্মসূচিতে বন্দে মাতরমের কেবল প্রথম দু’টি স্তবক গাওয়ার সিদ্ধান্তে অটল থাকার কথা ঘোষণা করতেই সুর চড়িয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। কংগ্রেসের এই পদক্ষেপকে স্বাধীনতা সংগ্রামীদের অপমান এবং ভোটব্যাঙ্ক ও তোষণের রাজনীতি বলে তীব্র আক্রমণ করেছেন তিনি।
কংগ্রেসের অবস্থান ও ১৯৩৭ সালের সিদ্ধান্ত
বুধবার আয়োজিত কংগ্রেস কার্যকরী কমিটির (CWC) বৈঠকে জাতীয় গীত নিয়ে নিজেদের পুরোনো অবস্থান স্পষ্ট করে হাতশিবির।
- কংগ্রেসের যুক্তি: ১৯৩৭ সালের কংগ্রেস অধিবেশনে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, মহাত্মা গান্ধী, জওহরলাল নেহরু ও সুভাষচন্দ্র বসুর মতো মনীষীদের মতামতের ভিত্তিতে বন্দে মাতরমের প্রথম দুটি স্তবক গাওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
- কেসি বেণুগোপালের বার্তা: কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক কেসি বেণুগোপাল জানান, বন্দে মাতরম তাঁদের কাছে আবেগের বিষয়। বিজেপি এটি নিয়ে মিছামিছি রাজনীতি করছে।
[বন্দে মাতরম বিতর্ক ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া]
সিডব্লিউসি বৈঠকে ১৯৩৭ সালের সিদ্ধান্তে অনড় থাকার বার্তা কংগ্রেসের
└── বন্দে মাতরমের প্রথম ২ স্তবক গাওয়ার সিদ্ধান্ত বহাল
└── তোষণ রাজনীতি ও দেশভাগের ভিত্তি তৈরির অভিযোগে তোপ অমিত শাহের
└── নেহরু-গান্ধী-রবীন্দ্রনাথের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত বলে পাল্টা উত্তর কংগ্রেসের
অমিত শাহের পাল্টা আঘাত ও ‘তোষণ’ অভিযোগ
কংগ্রেসের সিদ্ধান্তের পরই কড়া প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তিনি জানান, ১৯৩৭ সালে বন্দে মাতরমকে দুটি ভাগে ভাগ করার সিদ্ধান্তই ছিল মুসলিম তোষণ রাজনীতির চরম প্রতিফলন।
| অমিত শাহের বক্তব্যের মূল বিষয় | বিস্তারিত বিবরণ |
| তোষণ রাজনীতি | ভোটব্যাঙ্কের স্বার্থে বঙ্কিমচন্দ্রের অমর সৃষ্টি ও জাতীয় আবেগকে অপমান করেছে কংগ্রেস। |
| দেশভাগের ভিত্তি | ১৯৩৭ সালের এই বিভাজনই ‘দ্বিজাতি তত্ত্ব’-এর জন্ম দেয়, যার চূড়ান্ত পরিণতি ছিল ১৯৪৭-এর দেশভাগ। |
| স্বাধীনতার অপমান | যে বন্দে মাতরম ধ্বনি দিয়ে হাজারো বিপ্লবী ফাঁসিকাঠে গিয়েছেন, তাঁদের আত্মত্যাগকে লঘু করা হচ্ছে। |
| ভুল সংশোধন | মোদি সরকার কংগ্রেসের এই ঐতিহাসিক ভুল সংশোধন করে পুরো বন্দে মাতরমের মর্যাদা ফিরিয়ে দিয়েছে। |
ঐতিহাসিক পটভূমি ও রাজনৈতিক সংঘাত
কংগ্রেসের দাবি, ভারতের বৈচিত্র্য ও সর্বধর্ম সমন্বয়কে প্রাধান্য দিয়েই ১৯৩৭ সালে বন্দে মাতরমের প্রথম দুটি স্তবক জাতীয় গীতি হিসেবে গ্রহণ করা হয়। তবে বিজেপির দাবি, এটি ছিল একটি ঐতিহাসিক ভুল যা জাতীয়তাবাদী চেতনাকে দুর্বল করেছিল। অমিত শাহের মতে, দেশের জনগণ বারবার তোষণের এই রাজনীতিকে প্রত্যাখ্যান করেছে এবং এবারও এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবে।
বন্দে মাতরমকে ঘিরে নতুন করে শুরু হওয়া এই বাগযুদ্ধ ভারতের রাজনীতির উত্তাপ আরও বাড়িয়ে দিল। একদিকে কংগ্রেস যেখানে ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে তুলে ধরে নিজেদের অবস্থান বজায় রাখছে, অন্যদিকে বিজেপি একে তোষণ রাজনীতির অকাট্য প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরে জাতীয়তাবাদের বার্তা জোরদার করছে।






