বেপরোয়া গাড়ির ধাক্কায় তরুণীর মৃত্যু! গ্রেপ্তারি এড়াতে ছেলের পাশে দাঁড়িয়ে কী সাফাই দিলেন সাংসদ পিতা?

কীভাবে ঘটেছিল এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা?
মৃতা ভারতী মুখী (২৬) হায়দরাবাদের ইনঅরবিট শপিং মলে একটি পোশাকের দোকানে কাজ করতেন। গত রবিবার দুপুরে ঘটে এই ভয়াবহ কাণ্ড।
- রাস্তা পার হওয়ার সময় আঘাত: দুপুর তিনটে নাগাদ সহকর্মী পূজা অশোক আলোর সঙ্গে খাবার খেয়ে মলে ফিরছিলেন ভারতী। রাস্তা পার হওয়ার সময় মলের ঠিক সামনেই অত্যন্ত বেপরোয়া গতিতে ধেয়ে আসা একটি লাল রঙের বিলাসবহুল অ্যাস্টন মার্টিন গাড়ি তাঁকে সজোড়ে ধাক্কা মারে।
- ঘটনাস্থলেই করুণ পরিণতি: গুরুতর আঘাত পেয়ে রক্তসংকটে পড়ে যান ভারতী এবং পরবর্তীতে তাঁর মৃত্যু হয়।
[ইনঅরবিট মলের সামনে রাস্তা পারাপার] ➔ [অ্যাস্টন মার্টিনের সজোড় ধাক্কা] ➔ [হাসপাতালে তরুণীর মৃত্যু]
অভিযুক্ত ছেলের সমর্থনে সাংসদ পিতার বার্তা
ঘটনার পর এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও অভিযুক্ত লিঙ্গামানেন সঞ্জুষকে গ্রেপ্তার না করায় জনমনে তীব্র অসন্তোষ ছড়ায়। এই পরিস্থিতিতে ছেলের পাশে দাঁড়িয়ে সোশাল মিডিয়ায় দীর্ঘ বার্তা দিয়েছেন হায়দরাবাদের রাজ্যসভা সাংসদ লিঙ্গামেনি রমেশ।
| বিতর্কিত দিক | সাংসদ লিঙ্গামেনি রমেশের যুক্তি ও সাফাই |
| মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালনা? | মেডিকেল পরীক্ষা করানো হয়েছে, পরীক্ষায় প্রমাণিত ছেলে মদ্যপ ছিল না। |
| দুর্ঘটনার পর পালিয়ে যাওয়া? | পালিয়ে যায়নি, বরং আহত তরুণীকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিল এবং নিজেই পুলিশকে খবর দেয়। |
| তদন্তে অসহযোগিতা? | পুলিশকে সমস্ত তদন্তে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করা হচ্ছে; স্রেফ আন্দাজের বশে যেন ছেলেকে দায়ী না করা হয়। |
| পরিবারের দায়িত্ব | নিহতের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে সবরকম আর্থিক ও অন্যান্য সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। |
আইনি পদক্ষেপ ও ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষ
অভিযুক্তের বিরুদ্ধে পুলিশ মামলা দায়ের করলেও তা জামিনযোগ্য ধারায় করা হয়েছে। আইনি বিশেষজ্ঞদের মতে, আইন অনুযায়ী এই ধরনের মামলায় দোষী সাব্যস্ত হলে সর্বোচ্চ ৭ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। তবে ঘটনার এত দিন পরেও ভিআইপি পরিবারের সন্তান হওয়াতেই গ্রেপ্তারিতে ঢিলেঢালা মনোভাব দেখানো হচ্ছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ নাগরিকরা।
ধনী ও প্রভাবশালী পরিবারের সন্তানদের বেপরোয়া গাড়ি চালানোয় বারবার অকালে ঝরে যাচ্ছে নির্দোষ প্রাণ। সাংসদের যুক্তি সত্ত্বেও, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে মৃতা ভারতী মুখীর পরিবার ন্যায়বিচার পাবে কিনা, সেদিকেই নজর দেশের।






