প্রেমের বিয়ের মাত্র ৭ মাসের মাথায় ট্র্যাজেডি! গলসিতে মামাশ্বশুর বাড়ি থেকে উদ্ধার নাবালিকার ঝুলন্ত দেহ, গ্রেপ্তার স্বামী

প্রেমের বিয়ে থেকে দাম্পত্য কলহ
গলসির পোতনা গ্রামের বাসিন্দা প্রিয়ার সঙ্গে পরিচয় ও প্রেম ছিল গলসির জাগুলিপাড়ার বাসিন্দা শুভ বাউড়ির। পরিবারের অমতে গিয়েই মনের মানুষকে বিয়ে করেছিল নাবালিকা প্রিয়া। বিয়ের পর শুরু হয় তাদের সংসার।
চলতি সপ্তাহে স্বামীর সঙ্গে গলসির খেতুড়া গ্রামে মামাশ্বশুরের বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিল সে। সেখানেই ঘটে যায় এই ট্র্যাজেডি।
[পরিবারের অমতে প্রেম করে বিয়ে] ➔ [মামাশ্বশুর বাড়িতে বেড়াতে যাওয়া] ➔ [হোয়াটসঅ্যাপে দুঃখের স্ট্যাটাস] ➔ [ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার ও স্বামী গ্রেপ্তার]
মৃত্যুর আগে হোয়াটসঅ্যাপ স্ট্যাটাস ও বাপের বাড়ির অভিযোগ
মৃতার বাপের বাড়ির লোকজনের দাবি, ঘটনার আগের রাতে এক আত্মীয়ের সঙ্গে ফোনে স্বাভাবিকভাবেই কথা বলেছিল প্রিয়া। সে জানিয়েছিল যে সে ভালো আছে। তবে বৃহস্পতিবার সকালে আচমকাই প্রিয়ার হোয়াটসঅ্যাপে একটি দুঃখের স্ট্যাটাস দেখতে পান পরিজনেরা। তার কিছুক্ষণ পরেই মামাশ্বশুর বাড়ি থেকে মেলে প্রিয়ার ঝুলন্ত দেহ।
| বিষয় | বাপের বাড়ির বক্তব্য | শ্বশুরবাড়ির দাবি |
| মৃত্যুর খবর | তৃতীয় ব্যক্তির মাধ্যমে খবর পাওয়া যায়; যোগাযোগ করলে শ্বশুরবাড়ির লোকের কথায় অসংগতি ছিল। | ঘটনাটি সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত এবং আত্মহত্যার রূপ দেওয়া হচ্ছে। |
| মূল অভিযোগ | স্বামী ও শাশুড়ির নিরন্তর অত্যাচার ও ষড়যন্ত্রের ফলেই এই মৃত্যু ঘটেছে। | নির্যাতনের অভিযোগ ভিত্তিহীন ও অস্বীকার করা হয়েছে। |
| আইনি পদক্ষেপ | গলসি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন নিহতের বাবা নির্মল বাউড়ি। | পুলিশি তদন্তে সহযোগিতা করছে পরিবার। |
পুলিশি তদন্ত ও শেষকৃত্য
ঘটনার খবর পেয়ে গলসি থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দেহ উদ্ধার করে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। শুক্রবার ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পোতনা গ্রামে বাপের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে কান্নায় ভেঙে পড়েন স্বজনেরা। গ্রামেই সম্পন্ন হয় তার শেষকৃত্য।
মেয়ের বাবার দায়ের করা লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত স্বামী শুভ বাউড়িকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নাবালিকার মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ অনুসন্ধানে ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছে পুলিশ।
প্রেমের সম্পর্কের মর্মান্তিক এই সমাপ্তি এবং নাবালিকা বিবাহের জটিলতা নিয়ে ফের প্রশ্ন উঠে গেল এলাকায়। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করবে পুলিশ।






