১৯৮৮ সালের খুনের মামলায় ১০৫ বয়সে জেলের খাঁচা থেকে মুক্তি! বৃদ্ধ রসিকচন্দ্রকে বেকসুর খালাস সুপ্রিম কোর্টের
29
Views

ঘটনার ইতিহাস ও দীর্ঘ আইনি পথ
মালদহের বাসিন্দা রসিকচন্দ্র মণ্ডলের বিরুদ্ধে পারিবারিক সম্পত্তি সংক্রান্ত বিবাদের জেরে ১৯৮৮ সালে ভাই সুরেশ মণ্ডলকে হত্যা করার মারাত্মক অভিযোগ ওঠে।
- নিম্ন আদালতের রায়: ১৯৯৪ সালে বিচারক তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত করেন।
- হাইকোর্টের সিদ্ধান্ত: দীর্ঘদিন জেলে কাটানোর পর ২০১৮ সালে তাঁর আপিল আবেদন খারিজ করে দেয় কলকাতা হাইকোর্ট।
- শীর্ষ আদালতে আবেদন: এরপর তিনি সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হলেও প্রথমে সাজা বাতিল হয়নি। তবে বয়স ১০০ ছুঁইছুঁই হওয়ায় শারীরিক পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হতে থাকে।
[১৯৮৮: ভাই খুনের অভিযোগ] ➔ [১৯৯৪: যাবজ্জীবন কারাদণ্ড] ➔ [২০১৮: হাইকোর্টে আবেদন খারিজ] ➔ [২০২০: সুপ্রিম কোর্টে মুক্তি প্রার্থনা] ➔ [২০২৬: সাজার অবসান]
অন্তর্বর্তী জামিন থেকে চূড়ান্ত মুক্তি
২০২০ সালে ৯৯ বছর বয়সে পৌঁছে রসিকচন্দ্র সুপ্রিম কোর্টে ফের আগাম মুক্তির আবেদন জানান। ২০২১ সালের মে মাসে শীর্ষ আদালত এ বিষয়ে রাজ্য সরকারের বক্তব্য জানতে চায়।
| সময়সীমা | আদালতের পদক্ষেপ ও ঘটনাপ্রবাহ |
| নভেম্বর ২০২৪ | সুপ্রিম কোর্ট মানবিকতার খাতিরে ওই বৃদ্ধকে অন্তর্বর্তী জামিন প্রদান করে। সেই থেকে তিনি জেলের বাইরে ছিলেন। |
| আগস্ট ২০২৬ | প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তর বেঞ্চে (বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি ভি মোহনার সমন্বয়ে गठित) চূড়ান্ত শুনানি সম্পন্ন হয়। |
| চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত | আদালত পর্যবেক্ষণ করে জানায়, ১০৫ বছর বয়সে ওই বৃদ্ধকে পুনরায় কারারুদ্ধ করা যুক্তিযুক্ত নয়। তাই সাজার বাকি মেয়াদ পুরোপুরি মকুব করা হলো। |
মুক্ত আকাশের মুখ দেখলেন বৃদ্ধ
সুপ্রিম কোর্টের এই মানবিক সিদ্ধান্তের ফলে ১০৫ বছর বয়সে এসে জীবনের জীবনের শেষ দিনগুলি পরিবার ও স্বজনদের মাঝে স্বাধীনভাবে কাটানোর অধিকার পেলেন রসিকচন্দ্র। বিচার ব্যবস্থার এই অভূতপূর্ব রায়কে স্বাগত জানিয়েছেন আইনি মহল এবং সাধারণ নাগরিকরা।
আইনের শাসনের পাশাপাশি মানবিকতার যে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত দেশের সর্বোচ্চ আদালত স্থাপন করল, তা ভারতীয় বিচার ব্যবস্থার ইতিহাসে একটি স্মরণীয় নজির হয়ে থাকবে।






