নিউ মার্কেট অগ্নিকাণ্ড: ৯ জনের মৃত্যুর ৩ দিন পর বেহালার বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার হোটেল মালিক বীরেশ্বর মিত্র

কীভাবে ঘটেছিল ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড?
কলকাতার নিউ মার্কেট এলাকার মির্জা গালিব স্ট্রিটে বেহালার বীরেশ্বর মিত্রের দুটি ছোট হোটেল রয়েছে—‘শিখা ইন’ এবং ঠিক উল্টোদিকে ‘জাপন’।
- আগুন লাগার সময়: মঙ্গলবার রাত ৩টে নাগাদ তিনতলা ‘জাপন’ হোটেলের কর্মীরা দেখতে পান উল্টোদিকে ‘শিখা ইন’-এ দাউদাউ করে আগুন জ্বলছে।
- অভিযুক্ত মালিকের ভূমিকা: হোটেল কর্মী ইন্দ্রদেব পাসওয়ান সঙ্গে সঙ্গে মালিক বীরেশ্বরকে ফোন করেন। তবে তিনি ফোন রিসিভ করেননি এবং কিছুক্ষণ পর নিজের মোবাইল বন্ধ করে আত্মগোপন করেন।
[মঙ্গলবার রাত ৩টে: 'শিখা ইন'-এ অগ্নিকাণ্ড] ➔ [কর্মীদের মালিককে ফোন ও মোবাইল সুইচ অফ] ➔ [৮ বাংলাদেশি সহ ৯ জনের মৃত্যু] ➔ [শনিবার: বেহালা থেকে বীরেশ্বর গ্রেপ্তার]
লিজ নেওয়া ব্যবসায়ী ও চক্রান্তের জাল
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রায় পাঁচ মাস আগে ‘শিখা ইন’ হোটেলের একটি তলা বীরেশ্বরের থেকে প্রতি মাসে ৪০ হাজার টাকার বিনিময়ে লিজ নিয়েছিলেন আবু জাফর নামে এক ব্যবসায়ী।
| অভিযুক্ত ব্যক্তি | ভূমিকা ও পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা | গ্রেপ্তারের বিস্তারিত |
| আবু জাফর (লিজ গ্রহীতা) | দুর্ঘটনার পর জোড়াসাঁকোর বাড়ি ছেড়ে পরিবার নিয়ে উত্তরপ্রদেশে পালানোর ছক কষেছিলেন। | লালবাজারের গোয়েন্দারা পূর্ব কলকাতার এন্টালির এক আত্মীয়র বাড়ি থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করেন। |
| বীরেশ্বর মিত্র (হোটেল মালিক) | দুর্ঘটনার পর থেকে ক্রমাগত গা ঢাকা দিয়েছিলেন এবং ফোন বন্ধ রেখেছিলেন। | শনিবার ডায়মন্ড হারবার রোডের বেহালার নিজ বাসস্থান থেকে লালবাজারের হাতে গ্রেপ্তার। |
অগ্নি-সুরক্ষা বিধি লঙ্ঘন নিয়ে প্রশ্ন
অত্যন্ত সংকীর্ণ জায়গায় থাকা এই হোটেলে কোনো নির্দিষ্ট অগ্নি-নির্বাপক ব্যবস্থা ছিল না বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। নিরাপত্তা ও সুরক্ষাবিধি অমান্য করার কারণে এতগুলো তাজা প্রাণ অকালে ঝরে গেল। দুজনকে মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করে মূল গাফিলতি খতিয়ে দেখছে কলকাতা পুলিশের লালবাজার গোয়েন্দা শাখা।
কলকাতার মতো জনবহুল ও বাণিজ্যকেন্দ্রে নিরাপত্তা ব্যবস্থা শিথিল রেখে বেআইনিভাবে হোটেল চালানোর পরিণতি কতটা ভয়াবহ হতে পারে, তা আরও একবার প্রমাণ করল এই ঘটনা। দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন নিহতের স্বজনেরা।






