অগ্নিকাণ্ডের পর ফাঁস নিউ মার্কেটের ‘অন্ধকার জগত’! ১৬ হোটেলে তালা, আরও ২৫ হোটেল-রেস্তরাঁকে শোকজ দমকলের

আবাসিক ভবনে বেআইনি হোটেলের জাল
নিউ মার্কেটের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড প্রকাশ করে দিয়েছে কীভাবে ঘিঞ্জি এলাকায় বছরের পর বছর ধরে বেআইনিভাবে সস্তার হোটেলের ব্যবসা চলছিল।
- পুরসভার চাঞ্চল্যকর তথ্য: নথি অনুযায়ী অধিকাংশ ভবনই মূলত বসবাসের ‘আবাসন’। কিন্তু সেগুলিতে পুরসভার বাণিজ্যিক অনুমোদন ছাড়াই হোটেল চালানো হচ্ছিল।
- সুরক্ষাবিধির চরম অবহেলা: অধিকাংশ হোটেলেই ছিল না বৈধ ফায়ার লাইসেন্স, পর্যাপ্ত জরুরি নির্গমনের পথ বা এমনকি আপৎকালীন জলের ব্যবস্থা।
[অগ্নিকাণ্ডের পর চিরুনি অভিযান] ➔ [বৈধ ফায়ার লাইসেন্স ও নথির অভাব ধরা পড়া] ➔ [শোকজ নোটিস প্রদান] ➔ [জবাব না মেলায় ১৬টি হোটেল সিল]
প্রশাসনের কড়া পদক্ষেপ ও সিল অভিযান
গত বৃহস্পতিবার থেকে দফায় দফায় নোটিস দেওয়ার পর শনিবার কঠোর পদক্ষেপ নিতে দেখা গেল প্রশাসনকে।
| দিন | প্রশাসনিক পদক্ষেপ | মোট পরিসংখ্যান |
| বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার | যথাক্রমে ১৩টি ও ১৭টি হোটেলকে সুরক্ষাবিধি ভেঙে ব্যবসা চালানোর দায়ে জবাবদিহির নোটিস। | ৩০টি হোটেলকে ২৪ ঘণ্টার ডেডলাইন। |
| শুক্রবার থেকে শনিবার | নির্ধারিত সময়ে উপযুক্ত জবাব না দেওয়ায় এবং গলদ ধরা পড়ায় ১৬টি হোটেল সিল করা হয়। | ১৬টি হোটেল সম্পূর্ণ সিল |
| শনিবারের যৌথ তল্লাশি | আকস্মিক অভিযানে ফায়ার লাইসেন্স দেখাতে না পারায় নতুন করে ২৫টি হোটেল-রেস্তরাঁকে নোটিস। | ২৫টি নতুন শোকজ |
রাজনৈতিক চড়মে শাসক-বিরোধী তরজা
শনিবার মার্কুইস স্ট্রিটে সরজমিনে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে যান অগ্নিমিত্রা পাল। তিনি পুরসভা ও স্থানীয় থানার ভূমিকা নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তোলেন।
অগ্নিমিত্রার অভিযোগ, “বছরের পর বছর ধরে নাকের ডগায় কীভাবে এই বেআইনি কারবার চলল? কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম কীভাবে এর অনুমোদন দিতেন? আগে পার্সেন্টেজ পৌঁছে যেত নেতাদের কাছে, কিন্তু এখন আর টাকা দিয়ে এই বেআইনি কাজ চালানো যাবে না।” শোকজের নাটক বন্ধ করে সমস্ত নিয়মভাঙা হোটেল সরাসরি সিল করার দাবি জানান তিনি।
কলকাতার হৃদপিণ্ড নিউ মার্কেট এলাকায় সুরক্ষাবিধি বুড়ো আঙুল দেখিয়ে চলা এই অনিয়মের শিকড় কত দূর ছড়াতে পারে, তা এই অভিযানে স্পষ্ট। ভবিষ্যতে আবার কোনো বড়সড় বিপর্যয় এড়াতে প্রশাসন কতদিন এই কঠোর মনোভাব বজায় রাখে, সেটাই দেখার।






