“বাচ্চার মুখের দুধ কেড়ে নেওয়া হয়নি, সুরক্ষার জন্য বলা হয়েছে!” ফুটপাথ ও ‘দুধ গরম’ বিতর্কে সাফাই মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের

ভিডিও বার্তায় অনাবশ্যক সমালোচনা বন্ধের আর্জি
কলকাতার ফুটপাথে নাতির জন্য দুধ গরম করা বৃদ্ধাকে বাধা দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। বিরোধীদের কড়া সমালোচনার মুখে সোমবার সোশাল মিডিয়ায় ভিডিও বার্তার মাধ্যমে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল।
তিনি জানান, কোনো শিশুর মুখের খাবার কেড়ে নেওয়ার মানসিকতা তাঁর নেই। ব্যস্ত রাস্তার ওপর বাচ্চার নিরাপত্তার কথা ভেবেই এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
[ফুটপাথে দুধ গরমের ঘটনা] ➔ [রাজনীতি ও বিরোধীদের তোপ] ➔ [কুণাল ঘোষের ঘটনাস্থল পরিদর্শন] ➔ [অগ্নিমিত্রা পালের সোশাল ভিডিও বার্তা]
মন্ত্রীর যুক্তি ও বিরোধী শিবিরের প্রতিক্রিয়া
| বিষয় | অগ্নিমিত্রা পাল ও সরকারের অবস্থান | বিরোধীপক্ষ (কুণাল ঘোষ) |
| ঘটনার ব্যাখ্যা | ব্যস্ত রাস্তায় শিশু হামাগুড়ি দিলে যেকোনো মুহূর্তে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে, তাই সুরক্ষার স্বার্থেই সরানো হয়েছে। | মানবিকতার খাতিরে একজন বৃদ্ধাকে শিশুর জন্য দুধ গরম করতে বাধা দেওয়া অনুচিত। |
| ফুটপাথের আইনি মানদণ্ড | সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী ফুটপাথ শুধুমাত্র পথচারীদের হাঁটার জন্য, বসবাসের জন্য নয়। | বর্তমান সরকার জনবিরোধী নীতি নিয়ে কাজ করছে। |
| পরিকাঠামো ও শিল্প | নতুন শিল্প ও বিনিয়োগের জন্য শহরকে যানজট ও ফুটপাথ মুক্ত করা আবশ্যিক। | গৃহহীন ও গরিব মানুষদের বিকল্প ব্যবস্থা না করে উচ্ছেদ করা ভুল। |
১০০ দিনের সরকার ও সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের প্রসঙ্গ
অগ্নিমিত্রা পাল স্পষ্ট জানান যে, তাঁদের সরকার বিপুল জনম্যান্ডেট নিয়ে এসেছে। বিগত ১৫ বছরে ফুটপাথ দখল ও দুর্নীতির যে পরিবেশ তৈরি করা হয়েছিল, তা ১০০ দিনে কোনো মন্ত্রবলে রাতারাতি পাল্টে ফেলা সম্ভব নয়।
তিনি আরও স্মরণ করিয়ে দেন যে, সুপ্রিম কোর্টের স্পষ্ট রায় রয়েছে ফুটপাথকে চলাচলের উপযোগী রাখার। আগামী অক্টোবরের মধ্যে শহরের সমস্ত রাস্তা সংস্কার ও পরিষ্কার করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে তিনি সাধারণ মানুষকে সরকারের পাশে থাকার আহ্বান জানান।
বিনিয়োগ ও সুন্দর শহরের স্বার্থে ফুটপাথ দখলমুক্ত করার যে অভিযান রাজ্য সরকার শুরু করেছে, তা নিয়ে বিতর্কের পারদ এখন তুঙ্গে। একদিকে কড়া প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, অন্যদিকে বিরোধী শিবিরের ‘মানবিকতা’র সরব রাজনীতিতে আগামী দিনে শহরের ফুটপাথ নীতি কোন দিকে গড়ায়, সেটাই দেখার।






