স্বামীকে কুপিয়ে হত্যা, তারপর পেট কেটে নাড়িভুঁড়ি বের করে ব্যাগে ভরলেন স্ত্রী! কুরুক্ষেত্রের ঘটনায় শিউরে উঠল দেশ

কীভাবে সামনে এলো ঘটনাটি?
কুরুক্ষেত্রের একটি ভাড়া বাড়িতে স্ত্রী বিমলা দেবীকে নিয়ে প্রায় এক বছর ধরে বসবাস করছিলেন রাজেশ। বাড়িওয়ালা রিঙ্কু জানান, প্রায়শই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে অশান্তি চলত। বিমলা দেবী ঝাড়ফুঁক ও তন্ত্রসাধনা চর্চায় বিশ্বাসী ছিলেন এবং তা নিয়েই রাজেশের সাথে নিয়মিত তর্কাতর্কি হতো।
ঘটনার দিন বিকেল পাঁচটা নাগাদ আবার ঝগড়ার শব্দ পেয়ে সন্দেহবশত ছাদে গিয়ে রাজেশের ঘরের দিকে তাকান বাড়িওয়ালা। ঘরের ভেতরে রক্তাক্ত অবস্থায় রাজেশ পড়ে ছিলেন এবং বিমলা তাঁর পেট কেটে নাড়িভুঁড়ি একটি ব্যাগে ভরছিলেন।
[স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া] ➔ [এলোপাথাড়ি ধারালো ছুরির কোপ] ➔ [পেট কেটে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বের করা] ➔ [বাড়িওয়ালা দেখে ফেলা ও ছাদ থেকে স্ত্রীর ঝাঁপ]
ময়নাতদন্তের রিপোর্ট ও খোয়া যাওয়া অঙ্গ
পুলিশ সূত্রে খবর, ঘটনাস্থল থেকে নানা মাপের তিনটি ধারালো ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে। রাজেশের ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসার পর চোখ কপালে উঠেছে তদন্তকারীদের।
| বিষয় | তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য |
| আঘাতের ধরন | পেটে গভীর ক্ষত, প্রায় ৩৫ সেন্টিমিটার পেট কেটে আলাদা করা হয়েছে। |
| উধাও অঙ্গ | নাড়িভুঁড়ির পাশাপাশি রাজেশের লিভার ও কিডনির কিছু অংশ শরীর থেকে গায়েব। |
| অভিযুক্তের অবস্থা | পালানোর সময় ছাদ থেকে লাফ দেওয়ায় জখম হন বিমলা; পুলিশি হেফাজতে চিকিৎসাধীন। |
| সম্ভাব্য কারণ | ঝাড়ফুঁক বা অন্ধবিশ্বাস জনিত মানসিক ব্যাধি নাকি অন্য কোনো ছক, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। |
পুলিশি পদক্ষেপ ও তদন্তের গতিপ্রকৃতি
ঘটনার আকস্মিকতায় স্তম্ভিত পুরো এলাকা। পুলিশ জানিয়েছে, ফরেনসিক দল দুর্ঘটনাস্থল থেকে নমুনা সংগ্রহ করেছে। বিমলা দেবীর আঘাত সারলে তাঁর বয়ান রেকর্ড করা হবে। খোয়া যাওয়া শরীরের অঙ্গগুলি বিমলা কোথায় লুকিয়েছিলেন বা নষ্ট করেছিলেন কি না, তাও তদন্তের আওতায় রয়েছে।
ভাড়া বাড়িতে দীর্ঘদিন ধরে চলা অন্ধবিশ্বাস ও ঝাড়ফুঁকের অভ্যাসে শেষ পর্যন্ত এমন মারাত্মক পরিণতিতে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়েছে এলাকা জুড়ে। তদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলেই খুনের আসল উদ্দেশ্য পরিষ্কার হবে বলে মনে করছে হরিয়ানা পুলিশ।






