নেপালে হড়পা বানে মৃতের সংখ্যা ১৭৫, নিখোঁজ ৩০০ ভারতীয়! বাঁধ ভাঙার দায় অস্বীকার করে কাঠমান্ডুকে পাল্টা বার্তা বেজিংয়ের

- মৃত ও নিখোঁজের সংখ্যা: নেপাল বিপর্যয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭৫; নিখোঁজ অন্তত ৭৫০ জনের মধ্যে ৩০০ জনই ভারতীয় নাগরিক।
- চীনের দায় অস্বীকার: নেপালের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে চীনের দূতাবাস সাফ জানিয়েছে, এটি সীমান্ত অঞ্চলে হিমবাহ ধস ও ভূ-কম্পনের কারণে সৃষ্ট প্রাকৃতিক দুর্যোগ, চীন কোনো বাঁধ ভাঙেনি।
- USGS-এর ভূ-কম্পন রিপোর্ট: ইউএসজিএস (USGS) জানিয়েছে, কোনো ভূমিকম্প নয়, বরং রিখটার স্কেলে ৫.২ তীব্রতার সমান শক্তি তৈরি করেছিল এক প্রকাণ্ড হিমবাহ ধস (Glacier Collapse)।
- কূটনৈতিক সমীকরণ: এই বিপর্যয়ের পেছনে দায় চাপানোকে কেন্দ্র করে চীন ও কাঠমান্ডুর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে চিড় ধরার জল্পনা জোরালো হচ্ছে।
দায় চাপানোর রাজনীতি: কাঠমান্ডুর অভিযোগ ও বেজিংয়ের যুক্তি
বুধবারের প্রলয়ঙ্করী বিপর্যয়ের পর কাঠমান্ডু দাবি করেছিল যে, তিব্বত সীমান্তবর্তী চীনের একটি জলাধার বা বাঁধ ভেঙে যাওয়ার কারণেই রাসুওয়াগাধি উপত্যকায় এই হড়পা বান এসেছে। এমনকী চীন কোনো আগাম সতর্কতা পাঠায়নি বলেও নেপাল ক্ষোভপ্রকাশ করে।
তবে বৃহস্পতিবার বেজিং সেই অভিযোগ সরাসরি খারিজ করে একে ‘ভুয়ো খবর’ বলে অভিহিত করেছে। নেপালে অবস্থিত চীন দূতাবাস স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে— “দোষারোপ না করে সংকটকালে সহযোগিতাই জীবন বাঁচাতে পারে।”

বিজ্ঞানীদের মত ও ভূ-কম্পন বিশ্লেষণ
| সংস্থা / বিশেষজ্ঞ | পর্যবেক্ষণ ও রিপোর্ট |
| USGS (মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ) | প্রাথমিক ভূমিকম্পের রিপোর্ট সংশোধন করে জানায়, ভূ-কম্পন তরঙ্গ ও উপগ্রহ চিত্রে স্পষ্ট এটি ৫.২ তীব্রতার প্রকাণ্ড হিমবাহ ধস। |
| জলবায়ু বিশেষজ্ঞ দল | জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে জমাট বরফ আচমকা ধসে বিপুল পাথর ও কাদা জল নিচে নেমে এসে আকস্মিক জলচ্ছ্বাস সৃষ্টি করেছে। |
| চীন দূতাবাস (বিবৃতি) | ২৬ আগস্ট সকালে নেপাল সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় কাদা-ধসের মাধ্যমে এই ঘটনার সূত্রপাত, যার ক্ষতি সীমান্ত পার চীন ও নেপাল দুই দেশেই ঘটেছে। |
[তিব্বত-নেপাল সীমান্তে হিমবাহ ধস] ➔ [রিখটার স্কেলে ৫.২ মাত্রার ভূ-কম্পন সৃষ্টি] ➔ [বিপুল বরফ ও পাথরের তোড়ে হড়পা বান] ➔ [নেপাল ও চীনের সীমান্ত এলাকায় ভয়াবহ ধ্বংসলীলা]

কূটনৈতিক সম্পর্কে সংঘাতের মেঘ
নেপাল ও চীন সীমান্ত সংলগ্ন গিরং-রাসুওয়াগাধি এলাকায় যে ধ্বংসলীলা চালিয়েছে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, তা এখন আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। এক আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে জানা গেছে, প্রায় ৩০০ জন ভারতীয় নাগরিকসহ ৭৫০ জন এখনও নিখোঁজ। নেপালের এই বিপদের সময় চীনের সাথে পারস্পরিক অভিযোগ কাঠমান্ডু-বেজিং কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করল বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।






