কৈলাস মানসরোবর যাত্রায় গিয়ে নেপালের বিপর্যয়ে নিখোঁজ বসিরহাটের শিক্ষক স্বপন মণ্ডল ও মৌ মণ্ডল। শিলিগুড়ির সমর মণ্ডলের সঙ্গেও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন।

- বসিরহাটের শিক্ষক দম্পতি নিখোঁজ: কৈলাস যাত্রায় গিয়ে হড়পা বানের পর থেকে ফোন বন্ধ বসিরহাটের ১০ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক স্বপন মণ্ডল ও তাঁর স্ত্রী মৌ মণ্ডলের।
- উদ্বেগে শিলিগুড়ির পরিবার: ইমিগ্রেশন সেন্টারের কাজ শেষ করে কাঠমান্ডু ফেরার কথা থাকলেও শিলিগুড়ির সমর মণ্ডলের সঙ্গে পরিবারের সমস্ত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন।
- মানসিক দুশ্চিন্তা ও খোঁজাখুঁজি: প্রিয়জনদের না পেয়ে ভেঙে পড়েছেন পরিবারের সদস্যরা; সমর মণ্ডলের দাদা ভাইয়ের খোঁজে ইতিমধ্যেই কাঠমান্ডুর উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন।
- স্তব্ধ যোগাযোগব্যবস্থা: রসুয়া ও তিব্বত সীমান্ত এলাকায় হড়পা বানের তোড়ে নদী প্লাবিত হয়ে মোবাইল টাওয়ার উপড়ে যাওয়ায় উদ্ধার অভিযানে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে।
কৈলাস যাত্রায় গিয়ে বিপর্যয়: চরম দুশ্চিন্তায় বসিরহাট ও শিলিগুড়ি
নেপালের রসুয়া ও তিব্বত সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও হড়পা বানের তাণ্ডবে নিখোঁজ বাঙালি পর্যটকদের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে।
বসিরহাট পুরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের খান বাহাদুর রোডের বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক স্বপন মণ্ডল ও তাঁর স্ত্রী মৌ মণ্ডল দিন সাতেক আগে কৈলাসের উদ্দেশে রওনা হন। বুধবার হড়পা বানের সংবাদ ছড়াতেই স্বজনেরা ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেন, কিন্তু তাঁদের দু’জনেরই ফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। আকুল আশঙ্কায় দিন গুনছেন প্রতিবেশী ও স্বজনেরা।
অন্য দিকে, গত ১৬ আগস্ট শিলিগুড়ির শান্তিনগর বউবাজার এলাকা থেকে মানসরোবরের উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়া সমর মণ্ডলও বিপর্যয়ের কবলে পড়েছেন। ভ্রমণের মাঝেই তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় বুধবার ইমিগ্রেশন চুকিয়ে কাঠমান্ডু ফিরে আসার কথা ছিল। পরিবারের সঙ্গে সেটিই ছিল শেষ কথা। এর পর থেকেই আর কোনো খবর না মেলায় শিলিগুড়িতে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন তাঁর বৃদ্ধ মা-বাবা। ভাইয়ের খোঁজে নেপালের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন তাঁর দাদা।

নিখোঁজ ব্যক্তিদের বর্তমান তথ্য ও পরিস্থিতি
| ব্যক্তির নাম | বাসিন্দা / এলাকা | যাত্রার বিবরণ | বর্তমান আপডেট |
| স্বপন মণ্ডল ও মৌ মণ্ডল | খান বাহাদুর রোড, বসিরহাট | ৭ দিন আগে কৈলাস-মানসরোবর যাত্রায় রওনা দেন। | মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধ; পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন। |
| সমর মণ্ডল | শান্তিনগর বউবাজার, শিলিগুড়ি | ১৬ আগস্ট এজেন্সি মারফত নেপাল যান, অসুস্থ হওয়ায় ফেরার কথা ছিল। | বুধবারের পর যোগাযোগ নেই; দাদা কাঠমান্ডুর উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। |
[কৈলাস-মানসরোবরের পথে রওনা] ➔ [হড়পা বানে পাহাড়ি পথ ও নেটওয়ার্ক ধস] ➔ [ফোনে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন] ➔ [উদ্ধারে কাঠমান্ডু অভিমুখে স্বজনেরা]

সাহায্যের আকুতি ও সরকারি উদ্যোগ
নেপালে আটকে থাকা এই সব নিখোঁজ বাঙালি পর্যটকদের ফিরিয়ে আনতে কাঠমান্ডুর ভারতীয় দূতাবাস এবং পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের প্রশাসনিক হেল্পলাইনের সঙ্গে প্রতিনিয়ত যোগাযোগ রাখছেন পরিবারের সদস্যরা। প্রশাসন জানিয়েছে, উদ্ধারকারী দলগুলো পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গেই নিখোঁজদের সনাক্ত করে দ্রুত ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।






