
নেপালের ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে ধ্বংসস্তূপের নীচে প্রায় ২৪ ঘণ্টা আটকে থাকার পর জীবিত উদ্ধার হলেন প্রবীণ গুনাকেশরি বোহারা। রসুয়া জেলার একটি বৃদ্ধাশ্রম ধ্বংস হয়ে যাওয়ার পর সেখানকার বাসিন্দাদের মধ্যে তাঁকেই জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
চারদিকে শুধু জল, কাদা আর ধ্বংসস্তূপ। ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে মুহূর্তের মধ্যে নিশ্চিহ্ন একের পর এক বসতি। তারই মাঝে সামনে এল অবিশ্বাস্য এক জীবন ফিরে পাওয়ার গল্প। প্রায় ২৪ ঘণ্টা ধ্বংসস্তূপের নীচে আটকে থাকার পর জীবিত উদ্ধার হলেন ১০৪ পেরোনো এক বৃদ্ধা।
উদ্ধার হওয়া বৃদ্ধার নাম গুনাকেশরি বোহারা। বিভিন্ন প্রতিবেদনে তাঁর বয়স ১০৪ বছরের মধ্যে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। নেপালের রসুয়া জেলার একটি সরকারি বৃদ্ধাশ্রম ভয়াবহ বন্যা ও কাদার স্রোতে সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়। সেখানকার বাসিন্দাদের মধ্যে গুনাকেশরিকেই জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

চার ঘণ্টার চেষ্টায় উদ্ধার
প্রবল জলস্রোত ও কাদার ধাক্কায় বৃদ্ধাশ্রমটি কার্যত মাটির সঙ্গে মিশে যায়। ধ্বংসস্তূপের নীচে চাপা পড়েন গুনাকেশরি। বিপজ্জনক পরিস্থিতি সত্ত্বেও উদ্ধারকারীরা তল্লাশি চালিয়ে যেতে থাকেন।
অবশেষে প্রায় চার ঘণ্টার চেষ্টার পর তাঁর সন্ধান মেলে। আর্থমুভার বা এক্সকাভেটরের সাহায্যে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে তাঁকে বাইরে আনা হয়। উদ্ধারের সময় তাঁর শরীর কাদা-মাটিতে সম্পূর্ণ ঢেকে ছিল। এরপর দ্রুত তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
নিজের নামও বলতে পারছিলেন না
হাসপাতালে পৌঁছনোর পর ভয়াবহ অভিজ্ঞতার ধাক্কায় বৃদ্ধা এতটাই শকগ্রস্ত ছিলেন যে নিজের নামও বলতে পারছিলেন না। পরে এক আত্মীয় তাঁকে শনাক্ত করেন।
একই আশ্রয়কেন্দ্রের অন্য বাসিন্দাদের কেউই জীবিত উদ্ধার হননি বলে জানা গিয়েছে। ফলে এত দীর্ঘ সময় ধ্বংসস্তূপের নীচে থেকেও গুনাকেশরির বেঁচে থাকা উদ্ধারকারীদের কাছেও অত্যন্ত বিস্ময়ের।
ধ্বংসের মাঝেই আশার আলো
২৬ অগস্ট হিমালয় অঞ্চলে ভয়াবহ হিমবাহ ধসের পর জল, পাথর ও কাদার বিশাল স্রোত নেপাল-চিন সীমান্তবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকায় নেমে আসে। রসুয়া-সহ একাধিক এলাকায় রাস্তা, সেতু, বাড়িঘর ও বিভিন্ন পরিকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
হাজার হাজার উদ্ধারকর্মী এখনও দুর্গত এলাকায় তল্লাশি চালাচ্ছেন। সেই ধ্বংসযজ্ঞের মাঝেই প্রায় এক দিন পর গুনাকেশরির জীবিত ফিরে আসা যেন নতুন করে আশার আলো দেখাচ্ছে।
বিপর্যয় যত ভয়াবহই হোক, বেঁচে থাকার লড়াই যে শেষ হয়ে যায় না—গুনাকেশরির এই উদ্ধার তারই এক বিরল প্রমাণ।






