
- গাছের ডালে রাতযাপন: চারপাশে কাদা, পাথর ও জলস্রোতের মধ্যে প্রাণ বাঁচাতে বন্ধুর সঙ্গে জঙ্গলের গাছে চড়ে বসে ৮ বছরের জ়োয়াল ঘালে।
- মায়ের কান্না ও অলৌকিক প্রাপ্তি: দুই যমজ ছেলেকে হারিয়ে দিশেহারা মা মাত্তি তামাং ধরে নিয়েছিলেন সন্তানেরা আর বেঁচে নেই; রয়টার্সের সাংবাদিকের সূত্রে মেলে প্রথম খবর।
- হাতে ধরে থাকা ২০ টাকা: উদ্ধারকাজের সময় আশ্বস্ত করতে দেওয়া দু’টি ১০ টাকার নোট তখনও শক্ত করে ধরে হাসিমুখে মাকে জড়ায় পুঁচকে জ়োয়াল।
- দুই শিশুই জীবিত: জ়োয়ালের পা ভাঙলেও চিকিৎসাধীন কাঠমান্ডুর হাসপাতালে; ছোট ছেলেকেও জীবিত অবস্থায় খুঁজে পাওয়া গিয়েছে।
বানের স্রোত বনাম ৮ বছরের শিশুর অদম্য সাহস
স্কুলে যাওয়ার পরই হড়পা বানের করাল গ্রাসে ভেসে যায় চারপাশ। চারপাশে সব ভেঙে পড়ার মুহূর্তে প্রাণ বাঁচাতে বন্ধুদের নিয়ে জঙ্গলের দিকে ছোটে জ়োয়াল ঘালে। জলস্রোত এড়াতে উঠে পড়ে একটি বিশাল গাছের উঁচু ডালে। সারারাত সেই ডালেই কাটে আতঙ্কের প্রহর।
উদ্ধারের সময় পা ভাঙা ও ক্ষতবিক্ষত অবস্থায় উদ্ধারকারীরা তাকে উদ্ধার করে হেলিকপ্টারে কাঠমান্ডুর হাসপাতালে পাঠায়। উদ্ধারের স্মৃতি হিসেবে হাতে শক্ত করে আঁকড়ে রাখা সেই ২০ টাকার নোট হাতেই মায়ের বুকে ফিরে আসে অমলিন হাসির জ়োয়াল।
জোয়ালের অলৌকিক আত্মরক্ষার কাহিনি
| ঘটনা ও পর্যায় | বিবরণ |
| বিপর্যয়ের মুহূর্ত | জোড়া যমজ ভাই স্কুলে থাকার সময় আছড়ে পড়ে প্রলয়ঙ্করী হড়পা বান। |
| জীবন রক্ষার কৌশল | জল-কাদার তোড় থেকে বাঁচতে বন্ধুর সঙ্গে বড় গাছের ডালে আশ্রয় ও রাতযাপন। |
| উদ্ধার অভিযান | নেপাল পুলিশ কর্তৃক উদ্ধার, হেলিকপ্টারে কাঠমান্ডুর হাসপাতালে স্থানান্তর। |
| পরিবারের তথ্য | দুই সন্তানই জীবিত; জাপানে কর্মরত বাবাও খবরের পর নেপালে ফিরছেন। |
[স্কুল থেকে বানের স্রোত শুরু] ➔ [জঙ্গলে গিয়ে উঁচু গাছে আশ্রয়] ➔ [পা ভেঙে হাসপাতালে ভর্তি] ➔ [সাংবাদিকের সূত্রে মায়ের সঙ্গে হাসপাতালের আবেগঘন মিলন]
হারানো সন্তান ফিরে পাওয়ার আবেগ
ত্রাণশিবির থেকে উদ্ধার কেন্দ্র— সর্বত্র খুঁজেও ছেলেদের নাম না পেয়ে আশা ছেড়ে দিয়েছিলেন মা মাত্তি তামাং। আচমকাই সাংবাদিকের খবর ও হাসপাতালে যমজ দুই সন্তানকেই ফিরে পাওয়ার বার্তা যেন তাঁর জীবনে অলৌকিক আলো এনে দিয়েছে। এক হাতে ছেলেকে আগলে রেখে তিনি বলেন, “খুব দুষ্টু, কতবার যে হাত-পা ভেঙেছে!” আর অকুতোভয় জ়োয়ালের সোজাসাপ্টা উত্তর, ভয়? “একটুও না!”






