মাত্র ১৫ মিনিটের ব্যবধানে রক্ষা! নেপালের প্রলয়ঙ্করী বানের হাত থেকে অলৌকিকভাবে অক্ষত বসিরহাটের শিক্ষক দম্পতি, রবিবার ফিরছেন কলকাতায়

সৌভাগ্য, নাকি সময়ের নিখুঁত অঙ্ক? নেপালের ভয়াবহ হড়পা বান ও হিমবাহ হ্রদ ভাঙার জোড়া বিপর্যয়ের মাঝেও সম্পূর্ণ অক্ষত রয়েছেন বসিরহাটের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক দম্পতি অনুকূল পোদ্দার ও রেবা পোদ্দার। মাত্র ১৫ মিনিটের ব্যবধানেই বড় বিপদ থেকে বেঁচে গিয়েছেন তাঁরা।
নেপালে বেড়াতে গিয়ে পশ্চিমবঙ্গের বহু পর্যটকের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার খবর সামনে এসেছে। এরই মধ্যে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, নিখোঁজদের মধ্যে দু’জনের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন বসিরহাটের এই শিক্ষক দম্পতি।
১৫ মিনিটেই বদলে গেল সব
অনুকূলবাবু ও রেবাদেবীর পরিকল্পনা ছিল নেপাল হয়ে মানস সরোবর যাত্রা করার। বুধবার সকালে তাঁরা চিন সীমান্তে পৌঁছন। সেখানে ভিসা পরীক্ষার জন্য কিছুটা সময় লেগে যায়।
এরই মধ্যে তাঁদের নির্ধারিত গাড়িটি ছেড়ে দেয়। ফলে সেই গাড়িতে আর উঠতে পারেননি তাঁরা। পরের গাড়ির জন্য অপেক্ষা করার সময়ই আসে ভয়াবহ বিপর্যয়ের খবর।
পরিস্থিতি বুঝে আর এগোনোর ঝুঁকি নেননি দম্পতি। মানস সরোবরের দিকে না গিয়ে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেন তাঁরা। আর সেই সিদ্ধান্তই সম্ভবত তাঁদের জীবন বাঁচিয়ে দেয়।

‘মাত্র ১৫ মিনিটের জন্য বেঁচে গিয়েছি’
অনুকূলবাবুর প্রতিবেশী দিলীপকুমার দত্তের সঙ্গে ফোনে কথা হয় তাঁর। দিলীপবাবুর দাবি, অনুকূলবাবু জানিয়েছেন, মাত্র ১৫ মিনিটের জন্য তাঁরা বড় বিপদ থেকে বেঁচে গিয়েছেন।
অনুকূলবাবুর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, “আমরা সবাই ভালো আছি। কোনও সমস্যা নেই। হোটেলে আছি।” তিনি আরও জানান, তাঁদের সঙ্গে থাকা গ্রুপের অন্য সদস্যরাও নিরাপদে রয়েছেন।
রবিবার ফিরছেন কলকাতায়
এই মুহূর্তে হোটেলেই রয়েছেন অনুকূল ও রেবা পোদ্দার। পরিকল্পনা অনুযায়ী ট্রেনে করে রবিবার সকালে কলকাতায় পৌঁছবেন তাঁরা। তারপরই নেপালের সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার বিস্তারিত কথা জানাবেন বলে জানিয়েছেন অনুকূলবাবু।
নেপালের বিপর্যয়ে যখন একের পর এক মানুষের নিখোঁজ হওয়ার খবর আসছে, তখন মাত্র ১৫ মিনিটের ব্যবধানে এমন ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে অক্ষত অবস্থায় বেরিয়ে আসার ঘটনা নিঃসন্দেহে স্বস্তি দিচ্ছে বহু পরিবারকে।
৩৭টি নিখোঁজ পরিবারের উদ্বেগের মাঝে বসিরহাটের এই দম্পতির নিরাপদ থাকার খবর যেন নতুন করে আশার আলো দেখাচ্ছে।






